জনআস্থার নতুন অধ্যায়, সাহসিকতা-মানবিকতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি
গাছা থানায় মোঃ আমিনুল ইসলাম
- আপডেট সময় : ১২:১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
- / ৮৯৪ বার পড়া হয়েছে

মহানগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পঘন এলাকা গাছা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন গাজীপুরচাঞ্চল্যকর সব অপরাধ দমনে দক্ষ ও পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম। তার আগমনে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে, নিরাপত্তার অনুভব জেগেছে প্রতিটি ঘরে। ফুলেল শুভেচ্ছা, শুভকামনা এবং সামাজিক স্বস্তির আবহে শুরু হয়েছে ‘নতুন ওসি সাহেব’-এর পথচলা।
এর আগে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুয়া চক্র নির্মূলে সাহসী অভিযান চালিয়ে প্রশংসা কুড়ান তিনি। তার সততা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান প্রশাসন ও জনসাধারণের মাঝে আশার বাতিঘর হয়ে উঠেছে।

গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল তরুণী মুক্তা, ওসির মানবিক ও কঠোর পদক্ষেপ : গাছা থানার কলমিশোর ভোটবাজার এলাকায় ‘সততার স্বপ্নীল’ ভবনে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হওয়া তরুণী মুক্তা আক্তার (১৮) শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সদ্য এইচএসসি পাস করা মুক্তা অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন; সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিদর্শনের পর বলেন:
“এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় বাড়িওয়ালার। ভবনে গ্যাস নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। এটা চরম গাফিলতি ও অবহেলার ফল। মুক্তার চিকিৎসা ও এখন মৃত্যুর পর তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বাড়ির মালিক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, “এই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার বাচ্চু মিয়াকে ইতোমধ্যেই থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভবনের মালিকপক্ষ এখনও মৃতের পরিবার কিংবা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপরাধজনক আচরণ।”
ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম পরিবারটিকে শান্তনা জানিয়ে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে:
“মুক্তার পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইনগত সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে পরিবারটিকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বন্ধ ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধে উদ্যোগ : স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানান: “ভবনের গ্যাস লাইন, ইলেকট্রিক সুইচ, পানির পাইপ সবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি।”
এই দাবির ভিত্তিতে ওসি আমিনুল ইসলাম গ্যাস সংযোগ ও বিদ্যুৎ লাইনের অবস্থা যাচাই করে অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে এমন গাফিলতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতিতে চলার ঘোষণা দেন।
অপরাধ দমনে ওসি আমিনুল ইসলামের নিরপেক্ষ শক্ত ভূমিকা : জুয়া-মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে বহু অপরাধী গ্রেফতার, শিল্পাঞ্চলে সহিংসতা ছড়ানোর অপচেষ্টা দমনে নেতৃত্ব, ছাত্র আন্দোলনের নামে সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার, দুর্নীতিপরায়ণ সাবেক কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতাদের আইনের আওতায় আনা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় দিনরাত সরেজমিনে কাজ করছেন তিনি।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রশাসক : একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন,
“নতুন ওসি সাহেব কেবল একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি একজন মানবিক, ধর্মপ্রাণ এবং সাহসী নেতা—যার নেতৃত্বে গাছা থানা সত্যিই বদলে যাবে।”
সাহস, সততা ও সহমর্মিতার এক অনন্য মূর্ত প্রতীক, ওসি মোঃ আমিনুল ইসলামের পদক্ষেপ শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত নয়, বরং একজন মানবিক মানুষ ও সেবাপ্রধান হিসেবে তার অঙ্গীকারের প্রকাশ। তরুণী মুক্তার অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার যেন ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পায়, সে লক্ষ্যে তিনি যেভাবে সরব হয়েছেন তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।
আল্লাহ যেন মুক্তা আক্তারকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেন—এই দোয়াই এলাকাবাসীর মুখে মুখে।




















