বংশগৌরব, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মসজিদকেন্দ্রিক সমাজগঠন ও মেহমানদারির ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা এক মানবিক নেতৃত্ব ৩৫ নং ওয়ার্ডে ভালোবাসার নাম আজিবর
মানবসেবার মহাকাব্যিক নাম হাজী আজিজুর রহমান আজিবর; আস্থা, আদর্শ ও আতিথেয়তার অনন্য প্রতীক
- আপডেট সময় : ১০:৩১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / ৬৯৯ বার পড়া হয়েছে

একটি সমাজের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার মানুষের চরিত্রে, তার আতিথেয়তায়, তার মানবিকতায়। সেই দৃষ্টান্তের জীবন্ত প্রতীক হাজী আজিজুর রহমান আজিবর। পিতা মরহুম জহর আলি ও মাতা মালেকা খাতুনের স্নেহে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি আজ শুধু একজন ব্যক্তি নন তিনি একটি আদর্শ, একটি বংশের মর্যাদা, একটি সমাজের আস্থার প্রতিচ্ছবি।
সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার গণ্যমান্য ও সম্মানিত পরিবার হিসেবে পরিচিত। দুই ভাই ও দুই বোনের এই পরিবারে সবাই নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত ভাইয়েরা ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিয়োজিত, আর বোনেরা সংসার জীবনের মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রেখেছেন। তাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন এলাকার দায়িত্বশীল চৌকিদার গাজীপুর অঞ্চলে যাদের সততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা একসময়ে এক নামে পরিচিত ছিল। সেই ঐতিহ্য আজও বহমান।

তার সহধর্মিণী তাসলিমা আক্তার একজন মানবিক ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার অধিকারী নারী। তার পিতা-মাতা ও দাদারাও সমাজসেবায় পরিচিত ছিলেন। এলাকার নারীরা যেকোনো সমস্যায় তার কাছে ছুটে যান, আর তিনি তাদের পাশে দাঁড়ান আপনজনের মতো। তাদের পরিবার ধর্মীয় মূল্যবোধে দৃঢ় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, হালাল-হারামের প্রতি কঠোর সচেতনতা এবং সরল জীবনযাপন তাদের দৈনন্দিন চর্চার অংশ।
পরিবার ও উত্তরাধিকার। হাজী আজিজুর রহমান আজিবরের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে আশফাক ওয়াদুদ রেওন পবিত্র কোরআনের হাফেজ, দত্তপাড়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় মাওলানা পর্যায়ে অধ্যয়নরত। মেয়ে রেমাইয়া আরাফা নিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। এই শিক্ষিত ও আদর্শ পরিবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজগঠনে অবদান। হাজী আজিজুর রহমান আজিবর কেবল কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। তিনি এলাকার বাদেকলমেশ্বর পূর্বপাড়া শাহী জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং বর্তমানে এই মসজিদের মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদকে কেন্দ্র করে তিনি একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। যেখানে থাকবে নামাজ, নৈতিকতা, শিক্ষা ও মানবিকতা।
আতিথেয়তার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। মানবসেবা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বংশগত ঐতিহ্যের পাশাপাশি তার আরেকটি অনন্য পরিচয় তিনি একজন অসাধারণ মেহমানপ্রিয় মানুষ। এলাকার মুরব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও ছাত্রদের কাছে তার বাড়ি পরিচিত। “মেহমান বাড়ি” নামে। কারণ, যে-ই তার বাড়িতে গেছেন, তিনি কখনো কাউকে খালি হাতে বা আপ্যায়ন ছাড়া ফিরিয়ে দেননি। স্থানীয়দের ভাষায় তার বাড়িতে গেলে অতিথি নয়, পরিবারের সদস্য হয়ে যাওয়া যায়। সাংবাদিকদের নিয়মিত আপ্যায়ন। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানজনক আতিথেয়তা। ছাত্রদের আন্তরিক খাবারের আয়োজন। দূর-দূরান্তের মেহমানদের জন্য উন্মুক্ত দরজা। সব মিলিয়ে তার বাড়ি যেন ভালোবাসা, সম্মান ও মানবিকতার এক উষ্ণ কেন্দ্র। অতীতেও তিনি এভাবেই মানুষের পাশে থেকেছেন নিরবচ্ছিন্ন সেবার ধারায়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি। হাজী আজিজুর রহমান আজিবর শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবেন। তিনি এলাকাবাসীর জন্য বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একটি আধুনিক এতিমখানা ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা। একটি কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ। সরকারি দীঘির চারপাশে পার্ক নির্মাণ, যাতে বয়স্করা হাঁটাচলা করতে পারেন। শিশুদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি। সরকারি কবরস্থান উন্নয়ন। ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তিনি ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন এবং নিজ উদ্যোগেও কাজ করে যাচ্ছেন।
মানবতা, ধর্ম ও সেবার এক অপূর্ব সমন্বয়। তার এই মেহমানদারি শুধু সামাজিক প্রথা নয় এটি তার ঈমানের অংশ। তিনি বিশ্বাস করেন, “মেহমান আল্লাহর রহমত, তাদের আপ্যায়ন করা ইবাদতের অংশ।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের ঘরকে করেছেন মানুষের জন্য উন্মুক্ত, এক নির্ভরতার আশ্রয়স্থল।
মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার গল্প। তার জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু উন্নয়ন বা দানশীলতা নয় এই আন্তরিকতা, এই আতিথেয়তাই বড় ভূমিকা রেখেছে।
মানুষ বলে, “যে মানুষ মেহমানকে এত সম্মান করে, সে মানুষ জনগণকেও সম্মান করবে।”
কাব্যিক ভাষায়
তার ঘরের দরজা খোলা—
শুধু কাঠের নয়, হৃদয়েরও…
তার দাওয়াত শুধু খাবারের নয়—
ভালোবাসারও…
যেখানে অতিথি মানে সম্মান,
আর আপ্যায়ন মানে ইবাদত—
সেই ঘরই আজ মানুষের কাছে
‘মেহমান বাড়ি’ নামে পরিচিত এক মানবতার ঠিকানা।
হাজী আজিজুর রহমান আজিবর শুধু একজন সমাজসেবক নন, তিনি একজন আদর্শ আতিথেয় মানুষ; যার বংশে আছে মর্যাদা, পরিবারে আছে আদর্শ, আর হৃদয়ে আছে মানুষের জন্য অগাধ ভালোবাসা।
তার ঘর, তার দরজা, তার হৃদয়—
সবসময় খোলা মানুষের জন্য।



















