ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হজ পালনে গিয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বাণী ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দলীয় বিবেচনায়’ ভিসি নিয়োগে জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ মানবতার রাজনীতিতে অনন্য দৃষ্টান্ত ঈদুল আজহায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হাজী মোঃ জহিরুল ইসলামের পবিত্র ঈদুল আযহায় ত্যাগ, মানবতা ও উন্নয়নের বার্তা অসুস্থ শরীরেও থেমে নেই মানুষের সেবক ৪৭নং ওয়ার্ডজুড়ে আলহাজ্ব মোঃ আইয়ুব আলীর মানবিক মহাকাব্য মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল করেছেন সর্বশেষ আসমানী কিতাব পবিত্র আল-কুরআন। দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জনের নিয়োগ প্রতি মাসেই বাড়ছে সড়ক মৃত্যুর মিছিল, এপ্রিলেই ৫১০ প্রাণহানি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে সরকার, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

প্রতি মাসেই বাড়ছে সড়ক মৃত্যুর মিছিল, এপ্রিলেই ৫১০ প্রাণহানি

মোঃ রফিকুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • / ৫১০ বার পড়া হয়েছে

দেশজুড়ে এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এক মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন। শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হন এবং নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চারজন। সব মিলিয়ে তিন পথ মিলিয়ে আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৯ জন। সংগঠনটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে, তবে বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত ও ২৬৩ জন আহত হন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে কম হলেও সেখানে ১৭টি ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই সাধারণ পথচারী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ। চালক, শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুরাও এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এ মাসে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪২ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৮ শতাংশ।
দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে সংগঠনটি বলছে, মহাসড়কে অবাধে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং সড়কে অবকাঠামোগত দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া এবং গাড়িচাপার ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “পরিবহন খাতে এখনই আপাদমস্তক সংস্কার জরুরি। সুশাসন ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, পরিবহন ব্যবস্থাকে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে আনা না হলে প্রতি বছরই এই সংকট আরও গভীর হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রতি মাসেই বাড়ছে সড়ক মৃত্যুর মিছিল, এপ্রিলেই ৫১০ প্রাণহানি

আপডেট সময় : ০৩:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশজুড়ে এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এক মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১০ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন। শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হন এবং নৌপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চারজন। সব মিলিয়ে তিন পথ মিলিয়ে আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৭৯ জন। সংগঠনটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে, তবে বাস্তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত ও ২৬৩ জন আহত হন। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে কম হলেও সেখানে ১৭টি ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই সাধারণ পথচারী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মানুষ। চালক, শিক্ষার্থী, নারী ও শিশুরাও এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এ মাসে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪২ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৮ শতাংশ।
দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে সংগঠনটি বলছে, মহাসড়কে অবাধে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং সড়কে অবকাঠামোগত দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া এবং গাড়িচাপার ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “পরিবহন খাতে এখনই আপাদমস্তক সংস্কার জরুরি। সুশাসন ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, পরিবহন ব্যবস্থাকে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে আনা না হলে প্রতি বছরই এই সংকট আরও গভীর হবে।