ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হজ পালনে গিয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে বাণী ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দলীয় বিবেচনায়’ ভিসি নিয়োগে জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ মানবতার রাজনীতিতে অনন্য দৃষ্টান্ত ঈদুল আজহায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান হাজী মোঃ জহিরুল ইসলামের পবিত্র ঈদুল আযহায় ত্যাগ, মানবতা ও উন্নয়নের বার্তা অসুস্থ শরীরেও থেমে নেই মানুষের সেবক ৪৭নং ওয়ার্ডজুড়ে আলহাজ্ব মোঃ আইয়ুব আলীর মানবিক মহাকাব্য মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন মানবজাতির হেদায়েতের জন্য। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল করেছেন সর্বশেষ আসমানী কিতাব পবিত্র আল-কুরআন। দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জনের নিয়োগ প্রতি মাসেই বাড়ছে সড়ক মৃত্যুর মিছিল, এপ্রিলেই ৫১০ প্রাণহানি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে সরকার, দাবি তথ্যমন্ত্রীর

আপোষের কাগজে স্বাক্ষর ছিল, শান্তির প্রতিশ্রুতি ছিল—তবুও থামেনি নির্যাতন, নিরাপত্তাহীনতায় এক অসহায় পরিবার

টঙ্গীর আকাশে আর্তনাদ এক গৃহবধূর কান্না, কবে মিলবে ন্যায়ের আলো ?

প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420

ঘামের বিনিময়ে গড়া ছোট্ট একটি সংসার, স্বপ্ন ছিল শান্তির, আশা ছিল নিরাপত্তার। কিন্তু সেই ঘর আজ পরিণত হয়েছে আতঙ্কের অন্ধকার গহ্বরে। গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগরের এক গৃহবধূ মোছা: সিমা বেগম আজ বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে ন্যায়বিচারের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছেন, ক্লান্ত, অবসন্ন, তবুও আশায় বুক বাঁধা।

টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের টিকেট

এক বছর আগের আপোষনামা দলিল

২০২১ সালে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। করেছিলেন মামলা। কিন্তু সমাজের চাপে, শান্তির আশায়, আপোষের পথে হাঁটেন। ২০২২ সালের জানুয়ারির সেই আপোষনামা যেখানে ছিল শান্তির প্রতিশ্রুতি, ছিল ভবিষ্যতে আর কোনো বিরোধ না করার অঙ্গীকার আজ যেন কাগজের একটি নিঃশব্দ সাক্ষী মাত্র।
সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। গত ১ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের দুপুর, যখন পৃথিবী জুড়ে শ্রমের মর্যাদা উদযাপিত হচ্ছে, ঠিক তখনই সিমা বেগমের জীবনে নেমে আসে নির্যাতনের কালো ছায়া। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অকথ্য ভাষার বিষে তাকে জর্জরিত করে, তারপর নির্মমভাবে চালায় মারধর। শরীরের নীলচে দাগগুলো যেন সাক্ষ্য দেয় এই সমাজে এখনো দুর্বলদের জন্য ন্যায় কতটা দূর।
এতেই থেমে থাকেনি নিষ্ঠুরতা। তার কানে থাকা স্বর্ণের টপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়, গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। জীবন বাঁচাতে তার আর্তচিৎকার ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে আর সেই চিৎকারই হয়তো বাঁচিয়ে দেয় আরও বড় ক্ষতি থেকে। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে তিনি আশ্রয় নেন হাসপাতালে। চিকিৎসা নেন, কিন্তু মনের ক্ষত কি এত সহজে সারে? তিনি থানায় গিয়েছেন, অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ন্যায়ের পথ যেন এখনো ধীর, অনেকটাই অনিশ্চিত।
আজ তার চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—
“আমি কোথায় গেলে বিচার পাব?”
একজন অসহায় নারী, একটি নিরীহ পরিবার বারবার কেন এমন নির্যাতনের শিকার হবে? আপোষের নামে যদি অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যায়, তবে কি ন্যায়বিচার শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে? স্থানীয় মহল বলছে, এটি শুধু একটি পরিবারের কান্না নয় এটি আমাদের সমাজের বিবেকের পরীক্ষা।
আজ যদি সিমা বেগমের কান্না ন্যায়বিচারের দ্বারে পৌঁছায় না, তবে আগামীকাল এই কান্না আরও অনেক ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। অতএব, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে এই অসহায় পরিবারকে নিরাপত্তা দিন। কারণ ন্যায়বিচার দেরি হলে, অন্যায়ই শক্তি পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আপোষের কাগজে স্বাক্ষর ছিল, শান্তির প্রতিশ্রুতি ছিল—তবুও থামেনি নির্যাতন, নিরাপত্তাহীনতায় এক অসহায় পরিবার

টঙ্গীর আকাশে আর্তনাদ এক গৃহবধূর কান্না, কবে মিলবে ন্যায়ের আলো ?

আপডেট সময় : ১০:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ঘামের বিনিময়ে গড়া ছোট্ট একটি সংসার, স্বপ্ন ছিল শান্তির, আশা ছিল নিরাপত্তার। কিন্তু সেই ঘর আজ পরিণত হয়েছে আতঙ্কের অন্ধকার গহ্বরে। গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগরের এক গৃহবধূ মোছা: সিমা বেগম আজ বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে ন্যায়বিচারের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছেন, ক্লান্ত, অবসন্ন, তবুও আশায় বুক বাঁধা।

টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের টিকেট

এক বছর আগের আপোষনামা দলিল

২০২১ সালে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। করেছিলেন মামলা। কিন্তু সমাজের চাপে, শান্তির আশায়, আপোষের পথে হাঁটেন। ২০২২ সালের জানুয়ারির সেই আপোষনামা যেখানে ছিল শান্তির প্রতিশ্রুতি, ছিল ভবিষ্যতে আর কোনো বিরোধ না করার অঙ্গীকার আজ যেন কাগজের একটি নিঃশব্দ সাক্ষী মাত্র।
সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। গত ১ মে ২০২৬ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের দুপুর, যখন পৃথিবী জুড়ে শ্রমের মর্যাদা উদযাপিত হচ্ছে, ঠিক তখনই সিমা বেগমের জীবনে নেমে আসে নির্যাতনের কালো ছায়া। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অকথ্য ভাষার বিষে তাকে জর্জরিত করে, তারপর নির্মমভাবে চালায় মারধর। শরীরের নীলচে দাগগুলো যেন সাক্ষ্য দেয় এই সমাজে এখনো দুর্বলদের জন্য ন্যায় কতটা দূর।
এতেই থেমে থাকেনি নিষ্ঠুরতা। তার কানে থাকা স্বর্ণের টপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়, গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। জীবন বাঁচাতে তার আর্তচিৎকার ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে আর সেই চিৎকারই হয়তো বাঁচিয়ে দেয় আরও বড় ক্ষতি থেকে। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে তিনি আশ্রয় নেন হাসপাতালে। চিকিৎসা নেন, কিন্তু মনের ক্ষত কি এত সহজে সারে? তিনি থানায় গিয়েছেন, অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ন্যায়ের পথ যেন এখনো ধীর, অনেকটাই অনিশ্চিত।
আজ তার চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—
“আমি কোথায় গেলে বিচার পাব?”
একজন অসহায় নারী, একটি নিরীহ পরিবার বারবার কেন এমন নির্যাতনের শিকার হবে? আপোষের নামে যদি অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যায়, তবে কি ন্যায়বিচার শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে? স্থানীয় মহল বলছে, এটি শুধু একটি পরিবারের কান্না নয় এটি আমাদের সমাজের বিবেকের পরীক্ষা।
আজ যদি সিমা বেগমের কান্না ন্যায়বিচারের দ্বারে পৌঁছায় না, তবে আগামীকাল এই কান্না আরও অনেক ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। অতএব, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে এই অসহায় পরিবারকে নিরাপত্তা দিন। কারণ ন্যায়বিচার দেরি হলে, অন্যায়ই শক্তি পায়।