ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৩ টন চাল বিতরণে মানবিক উদ্যোগ: এরশাদনগরে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম কামু

টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন

শিক্ষার অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

md younus
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ১৬২৫ বার পড়া হয়েছে




১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টঙ্গীর গণমানুষের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্ব, নতুন প্রত্যাশা, নতুন আলোর অভিযাত্রা
“পড়ো, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।”
— পবিত্র কুরআন, সূরা আল-আলাক (৯৬:১)
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।”
— সহিহ আল-বুখারী
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির; জ্ঞান যেথা মুক্ত…”
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


এই তিনটি বাণী যেন যুগে যুগে একই সত্য উচ্চারণ করে জ্ঞানই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ, শিক্ষা সভ্যতার প্রাণ, আর আলোকিত মানুষই একটি সমৃদ্ধ জাতির ভিত্তি। সময়ের স্রোত কখনো থেমে থাকে না। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, রাজ্য বদলেছে, শাসক বদলেছে, সভ্যতার রূপ পাল্টেছে; কিন্তু যে জাতি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতাকে আঁকড়ে ধরেছে, তারাই ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। কলমের কালি, শিক্ষকের মমতা, শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এবং অভিভাবকের প্রত্যাশা এই চার স্তম্ভের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে একটি জাতির ভবিষ্যৎ।
ঠিক তেমনি, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টঙ্গীর গণমানুষের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ” বহু প্রজন্ম ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসছে। এই প্রতিষ্ঠান কেবল একটি বিদ্যালয় বা কলেজ নয়; এটি টঙ্গীর অসংখ্য পরিবারের আশা, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের অংশ। এখানকার শ্রেণিকক্ষ, প্রাঙ্গণ ও পাঠচর্চার পরিবেশ বহু শিক্ষার্থীর জীবনগঠনের সাক্ষী হয়ে আছে।
এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন। তাঁর এই নির্বাচনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর টঙ্গীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন মহলে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা আসে। শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা, প্রশাসন ও সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত হবে।
একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস মানে একটি জনপদের ইতিহাস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো শুধু ইট, বালু, সিমেন্ট আর ভবনের সমষ্টি নয়। একটি বিদ্যালয়ের করিডোরে থাকে হাজারো শিশুর প্রথম স্বপ্ন, একটি লাইব্রেরির তাকজুড়ে থাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা, একটি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা হয় আগামী দিনের ইতিহাস।
১৯৪৭ সাল থেকে টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ সেই ইতিহাসেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু শিক্ষক তাঁদের মেধা ও শ্রম দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছেন; বহু শিক্ষার্থী এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি নতুন অধ্যায় কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; এটি একটি শিক্ষা-ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতারও প্রতীক।
নেতৃত্বের সৌন্দর্য দায়িত্বে। নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় ক্ষমতায় নয়, দায়িত্ব পালনের মধ্যেই প্রকাশ পায়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়া মানে কেবল সভায় সভাপতিত্ব করা নয়; বরং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক হওয়া, সুশাসন নিশ্চিত করা, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা।
এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের ওপরও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শিক্ষা যে আলো কখনো নিভে না, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন,
“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।”
এই চেতনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শিক্ষা বিভেদ নয়, ঐক্য শেখায়; বিদ্বেষ নয়, মানবিকতা শেখায়। বেগম রোকেয়া বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা নারী ও পুরুষ উভয়ের মুক্তির পথ। আর ইসলামও জ্ঞানার্জনকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। তাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অগ্রগতি আসলে সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিরই প্রতিচ্ছবি।
নতুন প্রত্যাশার দিগন্ত। টঙ্গীবাসীর প্রত্যাশা টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে। অনেকেই মনে করেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়; বরং তার শিক্ষার্থীদের সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধে প্রতিফলিত হয়।
আগামীর অভিযাত্রা। প্রতিটি প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সেতু নির্মাণ করে যায়। সেই সেতুর সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হলো শিক্ষা। একটি বিদ্যালয়ের প্রতিটি ঘণ্টাধ্বনি, প্রতিটি পাঠ, প্রতিটি বই এবং প্রতিটি সৎ সিদ্ধান্ত আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করে। টঙ্গীর মানুষ আজ সেই আশাই লালন করছেন টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে জ্ঞান, নৈতিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে। নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আগামী দিনেও টঙ্গীর শিক্ষার বাতিঘর হয়ে থাকবে এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন শুভেচ্ছা জানানো বিভিন্ন মহল।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস আমাদের একটি কথাই শেখায় ক্ষমতার স্থায়িত্ব নেই, সম্পদেরও স্থায়িত্ব নেই; কিন্তু জ্ঞান, নৈতিকতা ও সুশিক্ষার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলোর ধারক-বাহক হিসেবেই টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ তার পথচলা অব্যাহত রাখুক এই কামনাই আজ টঙ্গীবাসীর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন

শিক্ষার অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টঙ্গীর গণমানুষের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন নেতৃত্ব, নতুন প্রত্যাশা, নতুন আলোর অভিযাত্রা
“পড়ো, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।”
— পবিত্র কুরআন, সূরা আল-আলাক (৯৬:১)
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।”
— সহিহ আল-বুখারী
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির; জ্ঞান যেথা মুক্ত…”
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


এই তিনটি বাণী যেন যুগে যুগে একই সত্য উচ্চারণ করে জ্ঞানই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ, শিক্ষা সভ্যতার প্রাণ, আর আলোকিত মানুষই একটি সমৃদ্ধ জাতির ভিত্তি। সময়ের স্রোত কখনো থেমে থাকে না। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, রাজ্য বদলেছে, শাসক বদলেছে, সভ্যতার রূপ পাল্টেছে; কিন্তু যে জাতি শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিকতাকে আঁকড়ে ধরেছে, তারাই ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। কলমের কালি, শিক্ষকের মমতা, শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এবং অভিভাবকের প্রত্যাশা এই চার স্তম্ভের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে একটি জাতির ভবিষ্যৎ।
ঠিক তেমনি, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টঙ্গীর গণমানুষের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ” বহু প্রজন্ম ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে আসছে। এই প্রতিষ্ঠান কেবল একটি বিদ্যালয় বা কলেজ নয়; এটি টঙ্গীর অসংখ্য পরিবারের আশা, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের অংশ। এখানকার শ্রেণিকক্ষ, প্রাঙ্গণ ও পাঠচর্চার পরিবেশ বহু শিক্ষার্থীর জীবনগঠনের সাক্ষী হয়ে আছে।
এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন। তাঁর এই নির্বাচনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর টঙ্গীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন মহলে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা আসে। শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা, প্রশাসন ও সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত হবে।
একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস মানে একটি জনপদের ইতিহাস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনো শুধু ইট, বালু, সিমেন্ট আর ভবনের সমষ্টি নয়। একটি বিদ্যালয়ের করিডোরে থাকে হাজারো শিশুর প্রথম স্বপ্ন, একটি লাইব্রেরির তাকজুড়ে থাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা, একটি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা হয় আগামী দিনের ইতিহাস।
১৯৪৭ সাল থেকে টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ সেই ইতিহাসেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু শিক্ষক তাঁদের মেধা ও শ্রম দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেছেন; বহু শিক্ষার্থী এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি নতুন অধ্যায় কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; এটি একটি শিক্ষা-ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতারও প্রতীক।
নেতৃত্বের সৌন্দর্য দায়িত্বে। নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় ক্ষমতায় নয়, দায়িত্ব পালনের মধ্যেই প্রকাশ পায়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়া মানে কেবল সভায় সভাপতিত্ব করা নয়; বরং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক হওয়া, সুশাসন নিশ্চিত করা, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা।
এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের ওপরও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
শিক্ষা যে আলো কখনো নিভে না, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন,
“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।”
এই চেতনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শিক্ষা বিভেদ নয়, ঐক্য শেখায়; বিদ্বেষ নয়, মানবিকতা শেখায়। বেগম রোকেয়া বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা নারী ও পুরুষ উভয়ের মুক্তির পথ। আর ইসলামও জ্ঞানার্জনকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। তাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অগ্রগতি আসলে সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিরই প্রতিচ্ছবি।
নতুন প্রত্যাশার দিগন্ত। টঙ্গীবাসীর প্রত্যাশা টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ তার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধারণ করে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে। অনেকেই মনে করেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়; বরং তার শিক্ষার্থীদের সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধে প্রতিফলিত হয়।
আগামীর অভিযাত্রা। প্রতিটি প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সেতু নির্মাণ করে যায়। সেই সেতুর সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হলো শিক্ষা। একটি বিদ্যালয়ের প্রতিটি ঘণ্টাধ্বনি, প্রতিটি পাঠ, প্রতিটি বই এবং প্রতিটি সৎ সিদ্ধান্ত আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করে। টঙ্গীর মানুষ আজ সেই আশাই লালন করছেন টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে জ্ঞান, নৈতিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে। নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আগামী দিনেও টঙ্গীর শিক্ষার বাতিঘর হয়ে থাকবে এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন শুভেচ্ছা জানানো বিভিন্ন মহল।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস আমাদের একটি কথাই শেখায় ক্ষমতার স্থায়িত্ব নেই, সম্পদেরও স্থায়িত্ব নেই; কিন্তু জ্ঞান, নৈতিকতা ও সুশিক্ষার আলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। সেই আলোর ধারক-বাহক হিসেবেই টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজ তার পথচলা অব্যাহত রাখুক এই কামনাই আজ টঙ্গীবাসীর।