ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৩ টন চাল বিতরণে মানবিক উদ্যোগ: এরশাদনগরে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম কামু

কুরআনের আলো, নৈতিকতার শিক্ষা ও মানবিকতার ছোঁয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের নির্ভরতার নাম মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা

কেবল হিফজ নয়, মানুষ গড়ার এক আলোকিত প্রতিষ্ঠান

md younus
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / ১৬৫৯ বার পড়া হয়েছে




“এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি—কাঁদিবে ভূবন।”
“আসসালামু আলাইকুম স্যার। আপনার হাত ধরেই তো A, B, C, D শিখেছি। মানুষ হওয়ার প্রথম পাঠও আপনার কাছ থেকেই। আজ আমি যেখানেই দাঁড়িয়ে আছি, তার ভিতটা আপনি গড়ে দিয়েছেন। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন। আপনার ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত।” একজন শিক্ষার্থীর হৃদয়ছোঁয়া এই কয়েকটি বাক্যই একজন শিক্ষকের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে লেখা এই অনুভূতিগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন।
সময় বদলায়, মানুষ বড় হয়, পরিচয় ও অবস্থান পাল্টায়; কিন্তু শৈশবের সেই শিক্ষক, সেই শ্রেণিকক্ষ, সেই স্নেহময় শাসন ও ভালোবাসা কখনো মুছে যায় না। কারণ শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়; শিক্ষা হলো চরিত্র গঠন, মূল্যবোধের বিকাশ, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার সাহস অর্জনের নাম। এই মহান আদর্শকে ধারণ করেই দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর ইসলামপুর (দত্তপাড়া) এলাকায় দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা।
কুরআনের পাশাপাশি মানুষ গড়ার প্রত্যয়। অনেকেই মনে করেন, হিফজ মাদরাসায় শুধু কুরআন মুখস্থ করানো হয়। কিন্তু মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার শিক্ষা-দর্শন এর চেয়েও অনেক বিস্তৃত। এখানে একজন শিক্ষার্থীকে শেখানো হয়, বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত। ইসলামী আদর্শ। আদব-আখলাক। সততা ও আমানতদারিতা। পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব। দেশ ও সমাজের প্রতি কর্তব্যবোধ। সময়ানুবর্তিতা। শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন। নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস। মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য একটিই “শুধু একজন হাফেজ নয়, একজন আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা।”
কুরআনের পাখিদের আনন্দময় শৈশব। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা বিশ্বাস করে শিশুরা শুধু শিক্ষার্থী নয়; তারা জাতির ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাই তাদের মানসিক বিকাশ, শারীরিক সুস্থতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত আয়োজন করা হয়। ফুটবল প্রতিযোগিতা। খেলাধুলা। সহশিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। আনন্দঘন পুরস্কার বিতরণী। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার হাতে কুরআনের পাখিদের হাসিমাখা মুখ যেন একটাই বার্তা দেয়, “এখানে শুধু হিফজ নয়, শৈশবও বেঁচে থাকে।” শাসন নয়, ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষা। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী বিশ্বাস করেন, “আজ পড়ার কষ্ট সাময়িক; কিন্তু না পড়ার কষ্ট সারাজীবনের।” তাই এখানে শিশুদের ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবেসে শিক্ষা দেওয়া হয়। শেখানো হয়, সত্যবাদিতা। বিনয়। বড়দের সম্মান। ছোটদের প্রতি মমতা। আত্মনিয়ন্ত্রণ। দায়িত্বশীলতা। মানবসেবা। ইসলামী শিষ্টাচার। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তানের মতোই পরিচর্যা করেন, যাতে তারা জ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি উত্তম চরিত্রের মানুষ হয়ে উঠতে পারে।
ইসলামী মূল্যবোধের বাস্তব অনুশীলন। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিদিনের জীবনচর্চার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা শিখে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব। কুরআনের প্রতি ভালোবাসা। পিতা-মাতার খেদমত। সততা। আমানতদারিতা। পরিচ্ছন্নতা। সামাজিক দায়িত্ব। সহযোগিতার মনোভাব। ইসলামী শিষ্টাচার।
কুরবানির চামড়া সংগ্রহে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। কুরবানির মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করা নিয়ে সমাজে নানা আলোচনা দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত আলেম শায়েখে যাত্রাবাড়ী অত্যন্ত মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ছাত্রকে কোনো কাজে বাধ্য করা যাবে না। যে ইচ্ছা করবে, সে কাজ করবে; অন্যরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করবে। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে জবাইয়ের কাজে সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু রক্তমাখা চামড়া বহন করা তাদের দায়িত্ব নয়। কেউ মাদরাসায় চামড়া দিতে চাইলে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেবেন। যারা অংশ নেবে না, তাদের ওপর কোনো নির্দিষ্ট অনুদান চাপিয়ে দেওয়া যাবে না; দান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবামূলক হওয়া উচিত। তিনি তাঁর উস্তাদ হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী (রহ.)-এর একটি স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, “ছাত্ররা নবীদের ওয়ারিস। তাদের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।” এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই ইসলামী শিক্ষার প্রকৃত সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। কেন অভিভাবকদের আস্থার নাম মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা?
প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য—সহজ ও মানসম্মত হিফজ শিক্ষা। বিশুদ্ধ উচ্চারণে আরবি শিক্ষা। আদব-আখলাকভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা। খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম। স্নেহময় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। কুরআনের হাফেজের পাশাপাশি আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্য। অভিভাবকদের অনুভূতি। “আমার সন্তান বদলে গেছে।” “আগে আমার ছেলে অনেক অগোছালো ছিল। এখন সে নিয়মিত নামাজ পড়ে, বড়দের সম্মান করে এবং নিজের দায়িত্ব বুঝতে শিখেছে।”
একজন অভিভাবক, “এখানে সন্তান নিরাপদ হাতে থাকে।” “শিক্ষকরা সন্তানদের নিজেদের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেন। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”
এক শিক্ষার্থীর মা, “শুধু হিফজ নয়, চরিত্রও গড়ে উঠছে।” “আমরা চাই সন্তান মানুষ হোক। এই মাদরাসায় সেই প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বেশি দেখেছি।”
একজন অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুভূতি “আজও উস্তাদদের কথা মনে পড়ে।” “জীবনে যতটুকু ভালো করতে পেরেছি, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন আমার উস্তাদরা।”
“আমি এখানে কুরআন শিখেছি; তার চেয়েও বড় কথা, মানুষ হওয়ার শিক্ষা পেয়েছি।””মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত।”
প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার স্বপ্ন, প্রত্যেক শিক্ষার্থী হবে, কুরআনের ধারক, আদর্শ চরিত্রের অধিকারী, মানবিক ও দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক নাগরিক, সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ, অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান। প্রত্যেক মা-বাবার স্বপ্ন তাঁদের সন্তান দ্বীনের আলোয় আলোকিত হোক, আদর্শবান মানুষ হয়ে উঠুক এবং সমাজের জন্য কল্যাণের কারণ হোক। আপনার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের বিশ্বস্ত ঠিকানা হতে পারে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। আজকের একটি সঠিক সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে আপনার সন্তানের আগামী দিনের জীবন। আসুন, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলি, যারা হবে কুরআনের আলোয় আলোকিত। চরিত্রে দৃঢ়। নৈতিকতায় সমৃদ্ধ। মানবিকতায় উজ্জ্বল। দেশ ও সমাজের জন্য কল্যাণকর।
ভর্তি চলছে, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা ঠিকানা: হাসান লেন, ইসলামপুর (দত্তপাড়া), টঙ্গী, গাজীপুর। ভর্তির জন্য যোগাযোগ: 📞 ০১৯১৪-০৩১০৪১
“এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন।” আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের হাতে শুধু বই নয়, তুলে দিতে হবে কুরআনের আলো, নৈতিকতা, মানবিকতা ও সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা। সেই আলোকিত পথচলার বিশ্বস্ত সহযাত্রী হয়ে উঠুক মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের নেককার, কুরআনের হাফেজ, আদর্শবান ও মানবিক মানুষ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুরআনের আলো, নৈতিকতার শিক্ষা ও মানবিকতার ছোঁয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের নির্ভরতার নাম মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা

কেবল হিফজ নয়, মানুষ গড়ার এক আলোকিত প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ০৬:৩২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

“এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি—কাঁদিবে ভূবন।”
“আসসালামু আলাইকুম স্যার। আপনার হাত ধরেই তো A, B, C, D শিখেছি। মানুষ হওয়ার প্রথম পাঠও আপনার কাছ থেকেই। আজ আমি যেখানেই দাঁড়িয়ে আছি, তার ভিতটা আপনি গড়ে দিয়েছেন। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুন। আপনার ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত।” একজন শিক্ষার্থীর হৃদয়ছোঁয়া এই কয়েকটি বাক্যই একজন শিক্ষকের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীন কুঁড়ি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে লেখা এই অনুভূতিগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন।
সময় বদলায়, মানুষ বড় হয়, পরিচয় ও অবস্থান পাল্টায়; কিন্তু শৈশবের সেই শিক্ষক, সেই শ্রেণিকক্ষ, সেই স্নেহময় শাসন ও ভালোবাসা কখনো মুছে যায় না। কারণ শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়; শিক্ষা হলো চরিত্র গঠন, মূল্যবোধের বিকাশ, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার সাহস অর্জনের নাম। এই মহান আদর্শকে ধারণ করেই দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর ইসলামপুর (দত্তপাড়া) এলাকায় দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা।
কুরআনের পাশাপাশি মানুষ গড়ার প্রত্যয়। অনেকেই মনে করেন, হিফজ মাদরাসায় শুধু কুরআন মুখস্থ করানো হয়। কিন্তু মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার শিক্ষা-দর্শন এর চেয়েও অনেক বিস্তৃত। এখানে একজন শিক্ষার্থীকে শেখানো হয়, বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত। ইসলামী আদর্শ। আদব-আখলাক। সততা ও আমানতদারিতা। পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব। দেশ ও সমাজের প্রতি কর্তব্যবোধ। সময়ানুবর্তিতা। শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন। নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস। মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য একটিই “শুধু একজন হাফেজ নয়, একজন আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা।”
কুরআনের পাখিদের আনন্দময় শৈশব। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা বিশ্বাস করে শিশুরা শুধু শিক্ষার্থী নয়; তারা জাতির ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাই তাদের মানসিক বিকাশ, শারীরিক সুস্থতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত আয়োজন করা হয়। ফুটবল প্রতিযোগিতা। খেলাধুলা। সহশিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। আনন্দঘন পুরস্কার বিতরণী। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার হাতে কুরআনের পাখিদের হাসিমাখা মুখ যেন একটাই বার্তা দেয়, “এখানে শুধু হিফজ নয়, শৈশবও বেঁচে থাকে।” শাসন নয়, ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষা। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী বিশ্বাস করেন, “আজ পড়ার কষ্ট সাময়িক; কিন্তু না পড়ার কষ্ট সারাজীবনের।” তাই এখানে শিশুদের ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবেসে শিক্ষা দেওয়া হয়। শেখানো হয়, সত্যবাদিতা। বিনয়। বড়দের সম্মান। ছোটদের প্রতি মমতা। আত্মনিয়ন্ত্রণ। দায়িত্বশীলতা। মানবসেবা। ইসলামী শিষ্টাচার। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তানের মতোই পরিচর্যা করেন, যাতে তারা জ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি উত্তম চরিত্রের মানুষ হয়ে উঠতে পারে।
ইসলামী মূল্যবোধের বাস্তব অনুশীলন। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিদিনের জীবনচর্চার মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা শিখে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব। কুরআনের প্রতি ভালোবাসা। পিতা-মাতার খেদমত। সততা। আমানতদারিতা। পরিচ্ছন্নতা। সামাজিক দায়িত্ব। সহযোগিতার মনোভাব। ইসলামী শিষ্টাচার।
কুরবানির চামড়া সংগ্রহে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। কুরবানির মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করা নিয়ে সমাজে নানা আলোচনা দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত আলেম শায়েখে যাত্রাবাড়ী অত্যন্ত মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ছাত্রকে কোনো কাজে বাধ্য করা যাবে না। যে ইচ্ছা করবে, সে কাজ করবে; অন্যরা পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করবে। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে জবাইয়ের কাজে সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু রক্তমাখা চামড়া বহন করা তাদের দায়িত্ব নয়। কেউ মাদরাসায় চামড়া দিতে চাইলে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেবেন। যারা অংশ নেবে না, তাদের ওপর কোনো নির্দিষ্ট অনুদান চাপিয়ে দেওয়া যাবে না; দান সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবামূলক হওয়া উচিত। তিনি তাঁর উস্তাদ হযরত মাওলানা ইউসুফ বিন্নুরী (রহ.)-এর একটি স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, “ছাত্ররা নবীদের ওয়ারিস। তাদের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।” এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই ইসলামী শিক্ষার প্রকৃত সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। কেন অভিভাবকদের আস্থার নাম মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা?
প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য—সহজ ও মানসম্মত হিফজ শিক্ষা। বিশুদ্ধ উচ্চারণে আরবি শিক্ষা। আদব-আখলাকভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা। খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম। স্নেহময় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। কুরআনের হাফেজের পাশাপাশি আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্য। অভিভাবকদের অনুভূতি। “আমার সন্তান বদলে গেছে।” “আগে আমার ছেলে অনেক অগোছালো ছিল। এখন সে নিয়মিত নামাজ পড়ে, বড়দের সম্মান করে এবং নিজের দায়িত্ব বুঝতে শিখেছে।”
একজন অভিভাবক, “এখানে সন্তান নিরাপদ হাতে থাকে।” “শিক্ষকরা সন্তানদের নিজেদের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেন। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”
এক শিক্ষার্থীর মা, “শুধু হিফজ নয়, চরিত্রও গড়ে উঠছে।” “আমরা চাই সন্তান মানুষ হোক। এই মাদরাসায় সেই প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বেশি দেখেছি।”
একজন অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুভূতি “আজও উস্তাদদের কথা মনে পড়ে।” “জীবনে যতটুকু ভালো করতে পেরেছি, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন আমার উস্তাদরা।”
“আমি এখানে কুরআন শিখেছি; তার চেয়েও বড় কথা, মানুষ হওয়ার শিক্ষা পেয়েছি।””মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত।”
প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার স্বপ্ন, প্রত্যেক শিক্ষার্থী হবে, কুরআনের ধারক, আদর্শ চরিত্রের অধিকারী, মানবিক ও দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক নাগরিক, সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ, অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান। প্রত্যেক মা-বাবার স্বপ্ন তাঁদের সন্তান দ্বীনের আলোয় আলোকিত হোক, আদর্শবান মানুষ হয়ে উঠুক এবং সমাজের জন্য কল্যাণের কারণ হোক। আপনার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের বিশ্বস্ত ঠিকানা হতে পারে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। আজকের একটি সঠিক সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে আপনার সন্তানের আগামী দিনের জীবন। আসুন, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলি, যারা হবে কুরআনের আলোয় আলোকিত। চরিত্রে দৃঢ়। নৈতিকতায় সমৃদ্ধ। মানবিকতায় উজ্জ্বল। দেশ ও সমাজের জন্য কল্যাণকর।
ভর্তি চলছে, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা ঠিকানা: হাসান লেন, ইসলামপুর (দত্তপাড়া), টঙ্গী, গাজীপুর। ভর্তির জন্য যোগাযোগ: 📞 ০১৯১৪-০৩১০৪১
“এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন।” আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের হাতে শুধু বই নয়, তুলে দিতে হবে কুরআনের আলো, নৈতিকতা, মানবিকতা ও সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা। সেই আলোকিত পথচলার বিশ্বস্ত সহযাত্রী হয়ে উঠুক মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের নেককার, কুরআনের হাফেজ, আদর্শবান ও মানবিক মানুষ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।