সংগ্রাম, সমাজসেবা ও মানুষের পাশে থাকার দীর্ঘ পথচলায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক পরিচিত মুখ
শেকড় থেকে মানুষের হৃদয়ে মোঃ সোলাইমান সরকারের গল্প
- আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৯৪ বার পড়া হয়েছে

একজন মানুষের পরিচয় কি শুধু তাঁর পদ-পদবিতে? নাকি মানুষের বিপদের দিনে তিনি কতটা কাছে থাকেন, অসুস্থতার খবর পেলে কত দ্রুত ছুটে যান, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কতটা চেষ্টা করেন, সেখানেই তৈরি হয় তাঁর প্রকৃত পরিচয়? গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ সোলাইমান সরকার-এর দীর্ঘ পথচলার গল্প বলতে গেলে এমন প্রশ্নই সামনে আসে। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের সঙ্গে থাকা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা, অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে ভাবনা, সব মিলিয়ে তাঁর জীবনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক দীর্ঘ সামাজিক অধ্যায়।
যে পরিবারে সমাজসেবার বীজ, সোলাইমান সরকারের গল্প শুরু হয় তাঁর পরিবার থেকেই। তাঁর দাদা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক সরকার রেলওয়ের সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। চাকরির পাশাপাশি সমাজের মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। তাঁর পিতা মরহুম ছামসুল হক লালা সরকার প্রবাসে থেকেও নিজের এলাকার মানুষের কথা ভুলে যাননি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসজীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন এবং ১৯৯৬ সালে মক্কা-মদিনা শাখায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। প্রবাসে কোনো বাংলাদেশি সমস্যায় পড়লে দ্রুত সহযোগিতার চেষ্টা করতেন, এমন স্মৃতিও রয়েছে পরিবারের মানুষের কাছে। এই পারিবারিক পরিবেশেই মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠেন মোঃ সোলাইমান সরকার।
রাজনীতির মাঠে সংগ্রামের অধ্যায়, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে গাছা থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে যুবদলের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। কখনো রাতে বাড়িতে থাকতে পারেননি, কখনো আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে, তবুও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান। এই সময় তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রুজিস সরকার সাবিনা। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সন্তানদের দেখাশোনা, সংসারের দায়িত্ব এবং পরিবারের নানা সংকট সামলে তিনি পাশে থেকেছেন। একজন মানুষের রাজনৈতিক পথচলার নেপথ্যে পরিবারের এই ত্যাগও তাই তাঁর জীবনের গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজনীতি যখন মানুষের দরজায়, সোলাইমান সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মানুষের খোঁজখবর নেওয়া। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কোনো মানুষ অসুস্থ, খবর পেলে তাঁর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ হাসপাতালে ভর্তি, সেখানে ছুটে যান। কারও পরিবার বিপদে, সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। ৩ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি অ্যাডভোকেট মোঃ জসিম প্রধান ও এলাকার কৃতী সন্তান মোঃ আলমগীর সরকারকে দেখতে হাসপাতালে যান তিনি। তাঁদের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। এমন ঘটনাগুলো তাঁর কাছে শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, মানুষের পাশে থাকার সামাজিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
ঈদে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা, সামাজিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি পরিচিত দিক হলো দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কোরবানির ঈদে গরু কিনে এলাকার মানুষের মধ্যে সহযোগিতা করা, রমজানে ইফতারসামগ্রী বিতরণ, ঈদে পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত বলে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন। সেমাই, চিনি, দুধ, তেল, চালসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি, লুঙ্গি ও অন্যান্য সামগ্রীও বিভিন্ন সময়ে বিতরণ করেছেন বলে তাঁরা জানান। রমজানে মসজিদ-মাদরাসায় ইফতার বা খাবারের আয়োজন করাও তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তাঁর কাছে হয়তো এগুলো বড় কোনো অর্জনের তালিকা নয়; কিন্তু একজন দরিদ্র মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়া, সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর কাছে বড় বিষয়। শিক্ষার জন্য সহযোগিতা, একটি এলাকার ভবিষ্যৎ শুধু রাস্তাঘাট দিয়ে তৈরি হয় না, তৈরি হয় শিক্ষিত প্রজন্ম দিয়ে। এই উপলব্ধি থেকেই অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য একটি খেলার মাঠ এবং মানুষের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত জায়গা তৈরির স্বপ্নের কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর উন্নয়ন ভাবনার কেন্দ্রে তাই রয়েছে শিক্ষা, খেলাধুলা, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা, ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধা।
মসজিদ-মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। বায়তুল রাজ্জাক জামে মসজিদ, নূরে আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং মাদরাসাতু ফাতেমা (রা.) আল ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসা, স্কুল ও কলেজে তিনি সহযোগিতা করে আসছেন বলে জানানো হয়েছে।
নূরে আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এই পারিবারিক পরিবেশেরই আরেকটি সুন্দর দৃষ্টান্ত তাঁর ছেলে সাবিদ সরকার। তার কণ্ঠে ইসলামী গজল পরিবেশনের ঘটনায় পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সন্তানের কণ্ঠে দ্বীনের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ুক, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।
পরিবার তাঁর শক্তি, সোলাইমান সরকারের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পরিবার। স্ত্রী রুজিস সরকার সাবিনা এবং দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। বড় মেয়ে ছাওমী সরকার তাসনীম নবাব হাবিবুল্লাহ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। তাসনীহা সরকার সামিয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছেলে সাবিদ সরকার আল-হেরা মাওলানা হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। রাজনৈতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি গুরুত্ব দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
৩৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে স্বপ্ন, সোলাইমান সরকারের কাছে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, এটি তাঁর শেকড়, তাঁর পরিচিত মানুষের ঠিকানা। বর্ষায় জলাবদ্ধতা যেন মানুষের দুর্ভোগ না বাড়ায়, রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়, শিশুদের খেলাধুলার জায়গা থাকে, মানুষ হাঁটার জন্য উন্মুক্ত জায়গা পায় এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হয়, এমন একটি ওয়ার্ডের স্বপ্নের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, এলাকার উন্নয়নের প্রয়োজন হলে সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করতে চান না।
৩ সেপ্টেম্বরের স্মরণ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রত্যয়, ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালের কারামুক্তির স্মরণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা জানিয়েছেন মোঃ সোলাইমান সরকার। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও দেশের কল্যাণের প্রত্যয় আরও শক্তিশালী হোক, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ ও মানুষের কল্যাণে দলটির দীর্ঘ পথচলার সফলতা কামনা করেছেন। একটি নামের পেছনে অনেক মানুষের গল্প, মোঃ সোলাইমান সরকারকে বুঝতে হলে শুধু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় দেখলে হবে না। দেখতে হবে তাঁর পরিবারের উত্তরাধিকার, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্ত্রীর ত্যাগ, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, অসুস্থ মানুষের পাশে ছুটে যাওয়া, দরিদ্র মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে তাঁর স্বপ্নকে।
কারণ নেতৃত্বের গল্প কেবল মঞ্চের বক্তৃতায় লেখা হয় না। কখনো তা লেখা হয় হাসপাতালের করিডোরে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে। কখনো কোনো দরিদ্র পরিবারের দরজায়। কখনো মসজিদ-মাদরাসার সহযোগিতায়। কখনো রাতের অন্ধকারে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার ঘটনায়। আর কখনো লেখা হয় একটি ছোট্ট শিশুর ভবিষ্যতের জন্য একটি খেলার মাঠের স্বপ্নে। সোলাইমান সরকারের গল্প তাই এখনও চলমান। সামনে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে তাঁর স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, তা সময়ই বলবে।
তবে তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকুক একটি কথাই, “পদ নয়, মানুষের পাশে থাকার মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়।” মোঃ সোলাইমান সরকার, সাবেক আহ্বায়ক, গাছা থানা যুবদল, গাজীপুর মহানগর, সদস্য, গাজীপুর মহানগর যুবদল, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।














