ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কামরুল ইসলাম কামুর বড় ভাইয়ের মেজবানে মাঠ-হলরুম-শ্রেণিকক্ষে মানুষের জায়গা; রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে একই কাতারে বিএনপি ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা

এক ভাইয়ের বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল এরশাদ নগরে দ্বীন ইসলাম দিলুর মেজবান যেন মানুষের মিলনমেলা দোয়া, অশ্রু, ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দিন

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৯১ বার পড়া হয়েছে




“এক ভাইয়ের বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল এরশাদ নগরে দ্বীন ইসলাম দিলুর মেজবানে ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে সবাই;
মাঠে জায়গা না পেয়ে হলরুম ও শ্রেণিকক্ষেও বসে মানুষ, শেষ পর্যন্ত কেউ না খেয়ে ফেরেননি।”
মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও জনসম্পৃক্ততায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু।

একজন মানুষের বিদায় কখনো কখনো একটি পুরো জনপদকে একত্র করে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা তখন শুধু একটি পরিবারের থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে। এরশাদ নগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর মেজবান যেন সেই মানবিক সত্যেরই এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠল। ৩ সেপ্টেম্বর তারিখে মারা যান আর ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিনটি হয়তো এরশাদ নগরের মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। চার্চ অব বাংলাদেশ জাগরণী মিশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাবু টাঙিয়ে, তাবু বিছিয়ে শুরু হয় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা। কিন্তু মানুষের ঢল ক্রমেই এতটা বাড়তে থাকে যে মাঠের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের হলরুম এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষেও বসার ব্যবস্থা করতে হয়।
মাঠে তাবু, শ্রেণিকক্ষে মানুষ, যেদিকে চোখ, সেদিকেই মানুষের সারি, সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। এলাকার গণ্যমান্য নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, হাফেজ, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এই আয়োজনে। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের মাঠের নির্ধারিত জায়গা মানুষের জন্য অপ্রতুল হয়ে পড়ে। ফলে হলরুম ও শ্রেণিকক্ষেও অতিথিদের বসিয়ে খাবার পরিবেশন করা হয়। দৃশ্যটি ছিল অনেকটা মানুষের এক বিশাল মিলনমেলার মতো। কেউ এসেছেন মরহুমের জন্য দোয়া করতে, কেউ এসেছেন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, কেউ এসেছেন দীর্ঘদিনের পরিচয়ের টানে। আবার অনেকেই এসেছেন শুধু মানুষের এই ভালোবাসার সাক্ষী হতে।


সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কেউ না খেয়ে ফেরেননি, এত বিপুল মানুষের সমাগমের পরও আয়োজনের সবচেয়ে প্রশংসিত দিক ছিল খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা। মানুষের সংখ্যা যতই বাড়তে থাকে, ততই বাড়তে থাকে খাবার পরিবেশনের ব্যস্ততা। একের পর এক সারিতে মানুষ বসেছেন, খাবার গ্রহণ করেছেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে ফিরে গেছেন। কোনো মানুষ বাদ পড়েননি, কেউ না খেয়ে ফিরে যাননি, এটাই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। উপস্থিত অনেকের ভাষায়, এত মানুষের একসঙ্গে আগমন এবং সবাইকে খাবার খাওয়াতে পারা নিঃসন্দেহে আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত। মেজবানে পরিবেশন করা হয় দুটি গরুর মাংস, তেহারি, ঝোল মাংসের তরকারি, ভাত ও পানিসহ খাবার। আয়োজনের পরিধি এবং মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় এটি ছিল অত্যন্ত বড় একটি মেজবান।
দোয়ার সময় অশ্রুসিক্ত হাজারো মানুষ, মেজবানের আনন্দঘন ব্যস্ততার মাঝেও পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে দোয়া ও মোনাজাতের সময়। হাফেজ ও আলেম-ওলামাগণ মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। মোনাজাতের সময় অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। স্বজনদের কান্না, উপস্থিত মানুষের আবেগ এবং আলেমদের কণ্ঠে মরহুমের জন্য দোয়া, সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ। মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের গুনাহ ক্ষমা, রুহের মাগফিরাত এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান করার জন্য দোয়া করা হয়।
রাজনৈতিক ভেদাভেদ নয়, মেজবানের মাটিতে সবাই অতিথি, এই আয়োজনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলোর একটি ছিল সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি। গাজীপুর জেলা থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে মেজবানে অংশ নেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মেজবানের মাঠে ছিল না কোনো দলীয় বিভাজন। কেউ কার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে বসেননি। কে কোন দলের, কে কোন মতের, এসবের কোনো হিসাব ছিল না। সবাই একই সারিতে বসেছেন, একই খাবার গ্রহণ করেছেন এবং একই পরিবারের শোকের অংশীদার হয়েছেন। মৃত্যুর সামনে রাজনীতির দেয়াল ভেঙে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটাই ছিল এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর বার্তা।
কামরুল ইসলাম কামু, ভাইয়ের শোক থেকে মানুষের ভালোবাসার কেন্দ্রে, মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর ছোট ভাই মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, সাবেক ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদল এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, এই আয়োজনকে ঘিরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণে নতুন করে আলোচনায় আসেন। ভাই হারানোর শোকের মধ্যেও অতিথিদের আপ্যায়ন, খাবারের ব্যবস্থা এবং মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার চেষ্টা ছিল বলে উপস্থিতরা জানান। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, কামরুল ইসলাম কামুর বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি বরাবরই চোখে পড়ার মতো। তবে বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে আয়োজিত এই মেজবানে মানুষের যে ঢল দেখা গেছে, তা ছিল ব্যতিক্রমী। কারও কাছে এটি ছিল ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা। কারও কাছে এটি ছিল দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। আবার কারও কাছে এটি ছিল মানুষের পাশে থাকার এক প্রতিদান, শোকের দিনে মানুষও তাঁর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
একদিনের মেজবান, বহু বছরের স্মৃতি, একটি মেজবান শেষ হয়ে যায় কয়েক ঘণ্টায়। খাবার শেষ হয়, মানুষ ঘরে ফিরে যায়, তাবু খুলে ফেলা হয়। কিন্তু কিছু দৃশ্য থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে। চার্চ অব বাংলাদেশ জাগরণী মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মানুষের সারি, তাবুর নিচে বসে খাবার গ্রহণ, হলরুমে মানুষের ভিড়, শ্রেণিকক্ষে অতিথিদের আপ্যায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও আলেমদের দোয়া, স্বজনদের অশ্রু এবং রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে মানুষের একসঙ্গে বসা, এই দৃশ্যগুলোই হয়তো ৬ সেপ্টেম্বরের আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখবে।
ইতিহাসের পাতায় নয়, মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকুক এই দিন, মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলু পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু তাঁর জন্য আয়োজিত এই মেজবান প্রমাণ করেছে, একজন মানুষ চলে গেলেও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক ও ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। হাজারো মানুষের উপস্থিতি, দোয়া, অশ্রু এবং ভালোবাসায় যেন একটি কথাই উচ্চারিত হয়েছে, “মানুষ চলে যায়, কিন্তু মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা থেকে যায়।” আর সেই ভালোবাসার মধ্যেই মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর জন্য সবার সম্মিলিত প্রার্থনা, হে আল্লাহ, মরহুমকে ক্ষমা করুন, তাঁর রুহের মাগফিরাত করুন, কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কামরুল ইসলাম কামুর বড় ভাইয়ের মেজবানে মাঠ-হলরুম-শ্রেণিকক্ষে মানুষের জায়গা; রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে একই কাতারে বিএনপি ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা

এক ভাইয়ের বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল এরশাদ নগরে দ্বীন ইসলাম দিলুর মেজবান যেন মানুষের মিলনমেলা দোয়া, অশ্রু, ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দিন

আপডেট সময় : ১০:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“এক ভাইয়ের বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল এরশাদ নগরে দ্বীন ইসলাম দিলুর মেজবানে ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে সবাই;
মাঠে জায়গা না পেয়ে হলরুম ও শ্রেণিকক্ষেও বসে মানুষ, শেষ পর্যন্ত কেউ না খেয়ে ফেরেননি।”
মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও জনসম্পৃক্ততায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু।

একজন মানুষের বিদায় কখনো কখনো একটি পুরো জনপদকে একত্র করে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা তখন শুধু একটি পরিবারের থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে। এরশাদ নগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর মেজবান যেন সেই মানবিক সত্যেরই এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠল। ৩ সেপ্টেম্বর তারিখে মারা যান আর ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিনটি হয়তো এরশাদ নগরের মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। চার্চ অব বাংলাদেশ জাগরণী মিশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাবু টাঙিয়ে, তাবু বিছিয়ে শুরু হয় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা। কিন্তু মানুষের ঢল ক্রমেই এতটা বাড়তে থাকে যে মাঠের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের হলরুম এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষেও বসার ব্যবস্থা করতে হয়।
মাঠে তাবু, শ্রেণিকক্ষে মানুষ, যেদিকে চোখ, সেদিকেই মানুষের সারি, সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। এলাকার গণ্যমান্য নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, হাফেজ, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এই আয়োজনে। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের মাঠের নির্ধারিত জায়গা মানুষের জন্য অপ্রতুল হয়ে পড়ে। ফলে হলরুম ও শ্রেণিকক্ষেও অতিথিদের বসিয়ে খাবার পরিবেশন করা হয়। দৃশ্যটি ছিল অনেকটা মানুষের এক বিশাল মিলনমেলার মতো। কেউ এসেছেন মরহুমের জন্য দোয়া করতে, কেউ এসেছেন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, কেউ এসেছেন দীর্ঘদিনের পরিচয়ের টানে। আবার অনেকেই এসেছেন শুধু মানুষের এই ভালোবাসার সাক্ষী হতে।


সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কেউ না খেয়ে ফেরেননি, এত বিপুল মানুষের সমাগমের পরও আয়োজনের সবচেয়ে প্রশংসিত দিক ছিল খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা। মানুষের সংখ্যা যতই বাড়তে থাকে, ততই বাড়তে থাকে খাবার পরিবেশনের ব্যস্ততা। একের পর এক সারিতে মানুষ বসেছেন, খাবার গ্রহণ করেছেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে ফিরে গেছেন। কোনো মানুষ বাদ পড়েননি, কেউ না খেয়ে ফিরে যাননি, এটাই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। উপস্থিত অনেকের ভাষায়, এত মানুষের একসঙ্গে আগমন এবং সবাইকে খাবার খাওয়াতে পারা নিঃসন্দেহে আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত। মেজবানে পরিবেশন করা হয় দুটি গরুর মাংস, তেহারি, ঝোল মাংসের তরকারি, ভাত ও পানিসহ খাবার। আয়োজনের পরিধি এবং মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় এটি ছিল অত্যন্ত বড় একটি মেজবান।
দোয়ার সময় অশ্রুসিক্ত হাজারো মানুষ, মেজবানের আনন্দঘন ব্যস্ততার মাঝেও পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে দোয়া ও মোনাজাতের সময়। হাফেজ ও আলেম-ওলামাগণ মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। মোনাজাতের সময় অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। স্বজনদের কান্না, উপস্থিত মানুষের আবেগ এবং আলেমদের কণ্ঠে মরহুমের জন্য দোয়া, সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ। মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের গুনাহ ক্ষমা, রুহের মাগফিরাত এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান করার জন্য দোয়া করা হয়।
রাজনৈতিক ভেদাভেদ নয়, মেজবানের মাটিতে সবাই অতিথি, এই আয়োজনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলোর একটি ছিল সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি। গাজীপুর জেলা থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে মেজবানে অংশ নেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মেজবানের মাঠে ছিল না কোনো দলীয় বিভাজন। কেউ কার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে বসেননি। কে কোন দলের, কে কোন মতের, এসবের কোনো হিসাব ছিল না। সবাই একই সারিতে বসেছেন, একই খাবার গ্রহণ করেছেন এবং একই পরিবারের শোকের অংশীদার হয়েছেন। মৃত্যুর সামনে রাজনীতির দেয়াল ভেঙে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, এটাই ছিল এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর বার্তা।
কামরুল ইসলাম কামু, ভাইয়ের শোক থেকে মানুষের ভালোবাসার কেন্দ্রে, মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর ছোট ভাই মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, সাবেক ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদল এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, এই আয়োজনকে ঘিরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণে নতুন করে আলোচনায় আসেন। ভাই হারানোর শোকের মধ্যেও অতিথিদের আপ্যায়ন, খাবারের ব্যবস্থা এবং মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার চেষ্টা ছিল বলে উপস্থিতরা জানান। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, কামরুল ইসলাম কামুর বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি বরাবরই চোখে পড়ার মতো। তবে বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে আয়োজিত এই মেজবানে মানুষের যে ঢল দেখা গেছে, তা ছিল ব্যতিক্রমী। কারও কাছে এটি ছিল ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা। কারও কাছে এটি ছিল দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। আবার কারও কাছে এটি ছিল মানুষের পাশে থাকার এক প্রতিদান, শোকের দিনে মানুষও তাঁর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
একদিনের মেজবান, বহু বছরের স্মৃতি, একটি মেজবান শেষ হয়ে যায় কয়েক ঘণ্টায়। খাবার শেষ হয়, মানুষ ঘরে ফিরে যায়, তাবু খুলে ফেলা হয়। কিন্তু কিছু দৃশ্য থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে। চার্চ অব বাংলাদেশ জাগরণী মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মানুষের সারি, তাবুর নিচে বসে খাবার গ্রহণ, হলরুমে মানুষের ভিড়, শ্রেণিকক্ষে অতিথিদের আপ্যায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও আলেমদের দোয়া, স্বজনদের অশ্রু এবং রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে মানুষের একসঙ্গে বসা, এই দৃশ্যগুলোই হয়তো ৬ সেপ্টেম্বরের আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখবে।
ইতিহাসের পাতায় নয়, মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকুক এই দিন, মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলু পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু তাঁর জন্য আয়োজিত এই মেজবান প্রমাণ করেছে, একজন মানুষ চলে গেলেও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক ও ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। হাজারো মানুষের উপস্থিতি, দোয়া, অশ্রু এবং ভালোবাসায় যেন একটি কথাই উচ্চারিত হয়েছে, “মানুষ চলে যায়, কিন্তু মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা থেকে যায়।” আর সেই ভালোবাসার মধ্যেই মরহুম দ্বীন ইসলাম দিলুর জন্য সবার সম্মিলিত প্রার্থনা, হে আল্লাহ, মরহুমকে ক্ষমা করুন, তাঁর রুহের মাগফিরাত করুন, কবরকে নূরে ভরে দিন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।