তাহাজ্জুদের ইবাদতের ফাঁকে এরশাদ নগরের অলিগলিতে মানুষের পাশে মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু)
রাত জাগা এক মানুষ, নিরাপদ পাড়ার স্বপ্ন
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

রাত যত গভীর হয়, শহরের কোলাহল তত স্তব্ধ হয়ে আসে। একে একে বন্ধ হয়ে যায় দোকানের শাটার, নিভে আসে ঘরের বাইরের আলো। অধিকাংশ মানুষ যখন নিরাপদ ঘুমের আশ্রয়ে, তখন এরশাদ নগরের কোনো কোনো অলিগলিতে দেখা মেলে ভিন্ন এক দৃশ্যের, ইবাদত শেষে এলাকার পরিস্থিতি দেখতে বেরিয়ে পড়েন একজন মানুষ। তিনি মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু), বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাজীপুর মহানগরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের ব্যস্ততার বাইরে রাতের সময়টিকেও তিনি এলাকার মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে গভীর রাতে যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন, তখন তিনি এরশাদ নগরের বিভিন্ন ব্লক ও অলিগলিতে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
রাত জাগার পেছনে নিরাপদ পাড়ার প্রত্যাশা, স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, রাতের এই পথচলার অন্যতম কারণ হলো এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে সতর্ক থাকা। তাদের ভাষ্য, রাতের আঁধারে যেন বৈদ্যুতিক তার চুরি, বাড়িঘরে চুরি কিংবা মোবাইল ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে কামরুল ইসলাম কামু মাঝেমধ্যে রাতে এলাকায় বের হন। কোনো জায়গায় অস্বাভাবিক শব্দ, অপরিচিত ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি চোখে পড়লে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও স্থানীয়রা জানান। তবে কাউকে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ বা আইনসম্মত পন্থা নয়। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে পরিচয় ও পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করাই দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ।
রাত দুইটার পরও থেমে থাকে না পথচলা, স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, অনেক সময় রাত দুইটার পরও কামরুল ইসলাম কামুকে এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। কোনো যুবক বা ব্যক্তি গভীর রাতে বাইরে থাকলে তিনি তার সঙ্গে কথা বলেন, কোথা থেকে এসেছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কেন এত রাতে বের হয়েছেন, এসব বিষয়ে জানতে চান বলে স্থানীয়রা জানান। কারও বাইরে থাকার যৌক্তিক কারণ থাকলে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখার চেষ্টা করেন। আর পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা দাবি করেন। অর্থাৎ স্থানীয়দের বর্ণনায় তাঁর রাতের চলাফেরাকে শুধু পাহারা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে নয়, বরং এলাকার মানুষকে সতর্ক রাখা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
চুরি-ছিনতাই ঠেকানোর পাশাপাশি মানুষের খোঁজ, রাতের পথচলার আরেকটি দিকও স্থানীয়দের কাছে উল্লেখযোগ্য, অভাবী ও অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়া। এরশাদ নগরের বিভিন্ন ব্লক ও অলিগলিতে ঘুরে তিনি অসচ্ছল পরিবার, দিনমজুর, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের খোঁজ নেন বলে স্থানীয়দের দাবি। কখনো খাদ্যসামগ্রী, কখনো আর্থিক সহায়তা, আবার কখনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন বলেও তাঁরা জানান। ফলে স্থানীয়দের কাছে তাঁর রাতের পথচলার গল্পটি শুধু নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের দুঃখ-কষ্ট কাছ থেকে দেখার এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার একটি মানবিক প্রচেষ্টা।

তাহাজ্জুদের ইবাদত থেকে মানুষের দরজায়, কামরুল ইসলাম কামুকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে যে বিষয়টি আলোচিত হয়, তার মধ্যে রয়েছে তাঁর রাতের ইবাদতের অভ্যাস এবং এরপর মানুষের খোঁজ নিতে বের হওয়ার কথা। তাঁর অনুসারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহাজ্জুদের মতো নফল ইবাদতের সময় কাটানোর পর তিনি কখনো কখনো এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে বের হন। একদিকে ইবাদত, অন্যদিকে মানুষের নিরাপত্তা ও দুঃখ-কষ্টের খোঁজ, এই দুইয়ের সমন্বয়ে তাঁর রাতের সময় কাটে বলে তাঁরা মনে করেন। তবে ধর্মীয় ইবাদত ব্যক্তিগত বিষয়। আর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। একজন নাগরিকের পক্ষ থেকে সচেতনতা, সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া সেই দায়িত্বের পরিপূরক হতে পারে।
যে রাতে অন্যরা ঘুমান, সে রাতে মানুষের দরজায়, এরশাদ নগরের রাতের বাস্তবতা খুব সাধারণ নয়। কোথাও শ্রমজীবী মানুষ দিনের কাজ শেষে ঘরে ফেরেন, কোথাও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, কোথাও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিন্তে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। এই সময়েই চুরি, ছিনতাই বা অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে অনেক পরিবার উদ্বিগ্ন থাকে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্বেগের জায়গা থেকেই কামরুল ইসলাম কামু রাতের বেলায় এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা নয়; বরং এলাকায় অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে কি না, মানুষ কোনো সমস্যায় আছে কি না এবং অসহায় কেউ সহযোগিতা চাইছে কি না, এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা।
নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব, একজন মানুষের সামাজিক ভূমিকা শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার চেষ্টা, এসবও একটি সামাজিক সম্পর্কের অংশ। কামরুল ইসলাম কামুকে নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যেও এমন একটি চিত্র উঠে আসে, দিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি রাতের সময়টুকুতেও নিজের মতো করে এলাকার মানুষের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের বাস্তব পরিধি, কতজন মানুষকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে, কতগুলো চুরি বা ছিনতাই প্রতিরোধে তাঁর ভূমিকা ছিল, এসব তথ্য প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট পরিবার, পুলিশি নথি বা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রতিবেদনটি আরও শক্তিশালী হবে।
৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাত, একটি ভিন্ন সামাজিক গল্প, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে মানুষের মতভেদ থাকতেই পারে। নির্বাচনেও প্রত্যেক ভোটার নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একজন স্থানীয় ব্যক্তি যদি রাতের বেলায় নিজের এলাকার মানুষের খোঁজ নেন, চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক থাকেন এবং একই সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন, সেটি স্থানীয় সামাজিক জীবনের একটি নথিবদ্ধ করার মতো দিক। কামরুল ইসলাম কামুর ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের বক্তব্যে এমন একটি গল্পই সামনে আসে। তিনি কোনো সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নন, তাঁর রাতের চলাফেরাও কোনো সরকারি টহল নয়। কিন্তু নিজের সামর্থ্য ও উদ্যোগে এলাকার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর চেষ্টা করা এবং অসচ্ছল মানুষের খোঁজ নেওয়ার যে কথাগুলো স্থানীয়রা বলছেন, সেগুলো তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইতিহাস শুধু কথায় নয়, কাজের প্রমাণে, রাজনীতিতে পদ আসে, পদ চলে যায়। নির্বাচন আসে, নির্বাচন শেষ হয়। পোস্টার খুলে যায়, মিছিল থেমে যায়। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার স্মৃতি অনেক সময় দীর্ঘদিন মানুষের মনে থেকে যায়। এরশাদ নগরের রাতের নীরবতায় তাই কামরুল ইসলাম কামুর গল্পটি স্থানীয়দের ভাষ্যে শুধু একজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের গল্প নয়; এটি একজন মানুষের ইবাদত, রাত জাগা, নিরাপদ পাড়া গড়ার প্রত্যাশা এবং অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়ার প্রচেষ্টার গল্প হিসেবেও উঠে আসে। রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক তার চুরি, ঘরবাড়িতে চুরি কিংবা মোবাইল ছিনতাই, এসব অপরাধ বন্ধে শুধু একজন মানুষের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থানীয় জনগণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। আর সেই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি যদি একজন মানুষ নিজের এলাকার মানুষের খোঁজ নিতে রাতের ঘুম বিসর্জন দেন, অসহায় মানুষের দরজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, তাহলে সেটিও স্থানীয় সামাজিক জীবনের একটি মানবিক অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে।
কারণ ইতিহাস শুধু প্রশংসার শব্দে লেখা হয় না, ইতিহাস লেখা হয় কাজের প্রমাণে, মানুষের সাক্ষ্যে এবং সময়ের নির্ভরযোগ্য নথিতে। ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে রাত যখন গভীর হয়, তখনও হয়তো কোথাও কোনো ঘরের আলো জ্বলছে, কোথাও কোনো মানুষ নিরাপত্তার চিন্তায় জেগে আছেন, আবার কোথাও কোনো অসহায় পরিবার অপেক্ষা করছে সামান্য সহযোগিতার জন্য। সেই রাতের পথচলায় মোঃ কামরুল ইসলাম কামুর যে ভূমিকার কথা স্থানীয়রা তুলে ধরছেন, তার পূর্ণ মূল্যায়ন করবে সময়, মানুষের অভিজ্ঞতা এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। রাত জাগা একজন মানুষ, স্বপ্ন তাঁর একটি নিরাপদ পাড়া, আর পথচলার গল্পে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়।


















