বাবার সমতুল্য মানুষটির স্মৃতি বুকে নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন “নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে নুরুল ইসলাম সরকার কে ছিলেন”
“একজনকে হারিয়েছে টঙ্গী, আরেকজনের জীবন থমকে আছে কারাগারে” বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের জন্য আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের লড়াই
- আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

কিছু মানুষকে সময়ের হিসাব দিয়ে বিচার করা যায় না। কিছু সম্পর্ক রক্তের নয়, তবু রক্তের সম্পর্কের চেয়েও গভীর। আর কিছু রাজনৈতিক ইতিহাস শুধু মামলা, কারাগার কিংবা নির্বাচনের ফলাফলে শেষ হয় না, সেগুলো মানুষের স্মৃতি, ভালোবাসা ও চোখের জলে বেঁচে থাকে। টঙ্গীর রাজনৈতিক ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলাম সরকার তেমনই একটি নাম। বীরমুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে, এ তথ্য আদালতের রায়ে নথিভুক্ত। তবে মামলাটি নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে আপিল ও আইনি লড়াই চলে আসছে। এই দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক অধ্যায়ের মধ্যেই বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে নতুন করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন। তাঁর কাছে নুরুল ইসলাম সরকার শুধু একজন বিএনপি নেতা নন। তিনি তাঁর কাছে বাবার সমতুল্য একজন মানুষ, শৈশবের স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকা একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তি এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেওয়া একজন প্রিয়জন।
খোকনের বক্তব্য, “নতুন প্রজন্মের কাছে বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। মানুষকে জানতে হবে, এই মানুষটি কে ছিলেন, কীভাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেমে গেল এবং একটি পরিবারের ওপর দিয়ে কত দীর্ঘ সময়ের কষ্ট বয়ে গেছে।” আহসান উল্লাহ মাস্টার, একটি শোকের নাম, নুরুল ইসলাম সরকার, একটি দীর্ঘ আইনি অধ্যায়। ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় মামলা হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর নুরুল ইসলাম সরকারসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যু টঙ্গীর জন্য ছিল এক গভীর শোকের ঘটনা।
অন্যদিকে একই মামলায় বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের দীর্ঘ কারাজীবন তাঁর পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সমর্থকদের জন্য হয়ে ওঠে আরেক দীর্ঘ বেদনার অধ্যায়।
আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের প্রশ্ন ? “একজন মানুষকে হারানোর শোক যেমন সত্য, তেমনি একজন মানুষের দীর্ঘদিনের কারাবাসের কষ্টও কি আমাদের মানবিকভাবে বিবেচনা করা উচিত নয় ?” তাঁর মতে, আহসান উল্লাহ মাস্টারের মৃত্যুর প্রকৃত বিচার যেমন জরুরি, তেমনি নুরুল ইসলাম সরকারের মামলাটিও আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন। “আমি নির্দোষ” আত্মসমর্পণের সেই স্মৃতি আজও আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের মনে। আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের স্মৃতিতে নুরুল ইসলাম সরকারের আত্মসমর্পণের ঘটনা আজও স্পষ্ট। খোকনের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৪ সালে মামলার পর নুরুল ইসলাম সরকার স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। তখন তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, “আমি নির্দোষ, আমি কোনো দোষ করিনি। আমি নিজেকে সমর্পণ করছি শুধু এই জন্য যেন এলাকায় কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, জনগণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।” এই বক্তব্যের মধ্যেই খোকন দেখতে পান একজন রাজনৈতিক নেতার দায়িত্ববোধ। তিনি বলেন, “তিনি চাইলে নিজের লোকজনকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু তিনি সংঘাত চাননি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবেছেন। একজন নেতা হিসেবে মানুষের শান্তিকে নিজের নিরাপত্তার চেয়েও বড় করে দেখেছিলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই তাঁকে এভাবেই দেখেছি।”
কারাগার থেকেও মানুষের ভালোবাসা ২০০৬ সালের সেই নির্বাচন, বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার কথা বলতে গিয়ে আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন বিশেষভাবে স্মরণ করেন ২০০৬ সালের টঙ্গী পৌরসভা নির্বাচন। তখনও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়নি; টঙ্গী ছিল আলাদা পৌরসভা। খোকনের বক্তব্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম সরকার তখন কারাগারে থেকেও নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর দাবি, ৬৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৯টি কেন্দ্রে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তাঁর বিজয় প্রশ্নবিদ্ধ হয় বলে তিনি মনে করেন। এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব কেন্দ্রের নির্বাচনী নথি যাচাই করা প্রয়োজন হলেও খোকনের কাছে ঘটনাটি আজও একটি গভীর রাজনৈতিক স্মৃতি।
তিনি বলেন, “জেলে থেকেও একজন মানুষ যদি মানুষের ভোট ও ভালোবাসা পান, তাহলে বুঝতে হবে তাঁর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কত গভীর ছিল।” আর সেই জায়গাতেই তাঁর সবচেয়ে বড় যুক্তি, “নুরুল ইসলাম সরকারের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তাকে শুধু একটি মামলার কাগজ দিয়ে বিচার করলে তাঁর পুরো জীবনকে দেখা হবে না।” দাঁড়াইলের সেই বাড়ি, যেখানে রাজনীতির সঙ্গে তৈরি হয়েছিল পারিবারিক সম্পর্ক। নুরুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের সম্পর্কের গল্পটি শুরু আরও অনেক আগে। টঙ্গী পশ্চিম থানার দাঁড়াইল পশ্চিমপাড়া, যে এলাকার সামাজিক জীবন ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে খোকনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। খোকনের পিতা মরহুম কুদরত আলী মাতাব্বর ছিলেন স্থানীয়ভাবে সম্মানিত একজন ব্যক্তি। মা আলহাজ্ব রোকেয়া বেগম। খোকনের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, তাঁর বাবা এলাকায় সামাজিক বিষয়, বিচার-শালিশ ও মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতেন। সেই সূত্রে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নুরুল ইসলাম সরকারও তাঁদের বাড়িতে আসতেন। কখনো রাজনৈতিক আলোচনা, কখনো সামাজিক বিষয়, আবার কখনো নিছক পারিবারিক সৌহার্দ্য, এভাবেই তাঁদের বাড়ি হয়ে উঠেছিল স্থানীয় অনেক মানুষের মিলনস্থল।
খোকন বলেন, “নুরুল ইসলাম সরকার আমাদের বাড়িতে আসতেন। আমার বাবাকে সম্মান করতেন। বসতেন, খাওয়া-দাওয়া করতেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন। তখন বুঝতাম না, কিন্তু এখন বুঝি, মানুষটির মধ্যে একটা আলাদা আন্তরিকতা ছিল।” শিশু খোকনের মাথায় হাত রেখে যে মানুষটি বলেছিলেন “মানুষের পাশে দাঁড়াবে” এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের নিজের শৈশবের স্মৃতি।
তিনি বলেন, “আমি তখন ছোট। নুরুল ইসলাম সরকার আমাদের বাড়িতে এলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। বলতেন, আমাদের মতো সেবা করবে, মানুষের ভালো মানুষ হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াবে।” আজ বহু বছর পর সেই কথাগুলোই যেন খোকনের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের এক নীরব প্রেরণা।
তিনি বলেন, “আজ যখন তাঁর কথা বলি, মনে হয় তিনি শুধু আমাকে আদর করেননি; তিনি আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন, মানুষের পাশে থাকার দায়িত্ব।” এই জায়গাতেই নুরুল ইসলাম সরকার তাঁর কাছে রাজনীতির একজন নেতা থেকে হয়ে ওঠেন পারিবারিক স্মৃতির একজন মানুষ।
সেই স্মৃতি থেকেই আন্দোলনের রাজপথে খোকন, নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নিজের অংশগ্রহণের ব্যাখ্যাও দেন আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন।
তাঁর ভাষায়, “তিনি আমার কাছে বাবার সমতুল্য। তাঁর জন্য দাঁড়ানো আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়। এটা আমার স্মৃতি, আমার পরিবারের সম্পর্ক এবং আমার নৈতিক দায়বদ্ধতা।” তিনি জানান, নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের সময় তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে তাঁর ন্যায়বিচারের দাবিতে কাজ করে যেতে চান।
খোকনের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার বাবার সমতুল্য একজন মানুষ, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার জন্য যতটুকু করা দরকার, আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী করে যাব।” শুধু আবেগ নয়, খোকনের দাবি আইনের পথেই হোক সমাধান। আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তিনি চান নুরুল ইসলাম সরকারের মামলার বিষয়টি আইন, প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিবেচিত হোক। কারণ, এই মামলায় হাইকোর্টের রায়ে নুরুল ইসলাম সরকারের মৃত্যুদণ্ড বহাল হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আপিলের বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে তাঁর মুক্তির দাবিতে টঙ্গীতে মানববন্ধন ও সমাবেশও হয়েছিল। অর্থাৎ, বিষয়টি এখনও টঙ্গীর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আলোচিত।
আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের আবেদন, “ন্যায়বিচারের দরজা যেন সবার জন্য খোলা থাকে। নুরুল ইসলাম সরকারের ক্ষেত্রেও আইনের সর্বোচ্চ সুযোগ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
তারেক রহমানের প্রতি মানবিক আবেদন, আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা নুরুল ইসলাম সরকারের পরিবারকে ভুলে গেলে চলবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নুরুল ইসলাম সরকারের পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন এবং বিষয়টি রাজনৈতিক ও মানবিক গুরুত্বসহকারে দেখবেন।
তাঁর আবেদন, “নুরুল ইসলাম সরকারের পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাঁর মামলার ন্যায়বিচারের দাবিটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।” ভারত, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অতীতের অভিযোগ, সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন প্রমাণ, নুরুল ইসলাম সরকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, ভারতীয় প্রভাব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যোগসূত্রের নানা বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনও তাঁর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তবে কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য দলিল প্রয়োজন। এই কারণে খোকনের বক্তব্যের মূল আবেদনকে তিনি মানবিক ও বিচারিক জায়গায় রাখতে চান, “রাজনীতির হিসাব পরে হবে; আগে সত্যটা সামনে আসুক, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।” আহসান উল্লাহ মাস্টারকে শ্রদ্ধা, নুরুল ইসলাম সরকারের জন্য ন্যায়বিচার, দুই দাবিই একসঙ্গে।
আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, তিনি আহসান উল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ডের বিচারকে অস্বীকার করছেন না। বরং তাঁর অবস্থান হলো, আহসান উল্লাহ মাস্টারের হত্যার প্রকৃত সত্য ও ন্যায়বিচার যেমন জরুরি, তেমনি নুরুল ইসলাম সরকারের মামলাটিও ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে বিবেচিত হওয়া জরুরি। কারণ, একজন নিহত হয়েছেন। আরেকজন দীর্ঘদিন কারাগারে জীবন কাটিয়েছেন। একজনকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। অন্যজনের জীবন সম্পর্কে এখনও আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া রয়েছে।
এই মানবিক জায়গা থেকেই খোকনের আবেদন, “বিচার হোক, কিন্তু ন্যায়বিচার হোক।” কেন আজও নুরুল ইসলাম সরকারকে মনে রেখেছে টঙ্গী? রাজনীতিতে জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো, ক্ষমতা হারানোর পর মানুষ কাউকে মনে রাখে কি না। নুরুল ইসলাম সরকারের ক্ষেত্রে খোকনের দাবি, বহু বছর পরও টঙ্গীর বিভিন্ন মানুষের স্মৃতিতে তাঁর নাম রয়েছে। কারও কাছে তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা। কারও কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধা। কারও কাছে বিএনপির ত্যাগী কর্মী। আবার কারও কাছে তিনি একজন সহজ-সরল মানুষ।
আর আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের কাছে তিনি, “বাবার সমতুল্য একজন মানুষ।” এই একটি পরিচয়ই হয়তো তাঁর স্মৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচয়। খোকনের রাজনৈতিক দর্শন মানুষের জন্য রাজনীতি নুরুল ইসলাম সরকারের প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি মনে করেন, রাজনীতি যদি মানুষের দুঃখে পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে সেই রাজনীতির মূল্য খুব বেশি নয়। তাঁর নিজের পরিবারের সামাজিক ঐতিহ্য, বাবার কাছ থেকে পাওয়া মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং নুরুল ইসলাম সরকারের কাছ থেকে শৈশবে পাওয়া শিক্ষা, সব মিলিয়ে তিনি মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিকে সামনে আনতে চান।
তিনি বলেন, “পদ-পদবি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে না। মানুষের ভালোবাসা ও বিপদের দিনে পাশে থাকা একজন মানুষকে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দেয়।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নুরুল ইসলাম সরকারের বিষয়টি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে চান।
শেষ কথা: ইতিহাসের বিচার সময়ের হাতে নয়, সত্যের হাতে, টঙ্গীর রাজনৈতিক ইতিহাসে আহসান উল্লাহ মাস্টারের নাম থাকবে তাঁর কর্ম ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কারণে। একই ইতিহাসে নুরুল ইসলাম সরকারের নামও থাকবে একটি দীর্ঘ ও বিতর্কিত আইনি অধ্যায়ের কারণে। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হতে পারে, কোনো মানুষকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার করা নয়; সত্য, প্রমাণ, আইন ও মানবিকতার আলোকে বিচার করা। আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের আবেদন তাই শুধু একজন ব্যক্তির মুক্তির দাবি নয়, এটি তাঁর ভাষায় একটি পুরোনো সম্পর্কের প্রতি দায়িত্ব, একজন প্রবীণ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি বিশ্বাসের প্রকাশ।
তিনি বলেন, “নুরুল ইসলাম সরকার আমার কাছে শুধু একজন নেতা নন। তিনি আমার শৈশবের একজন মানুষ, আমার বাবার সমতুল্য একজন অভিভাবক। তাঁর জন্য আমি যতদিন পারি মানুষের সামনে সত্য ও ন্যায়বিচারের কথা বলে যাব।” টঙ্গীর রাজনীতির বহু উত্থান-পতনের মধ্যে হয়তো এই কথাটিই সবচেয়ে বেশি মনে রাখার মতো, “মানুষ চলে যায়, সময় চলে যায়; কিন্তু মানুষের জন্য করা কাজ আর মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া ভালোবাসা সহজে হারিয়ে যায় না।” আর সেই স্মৃতি বুকে নিয়েই আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন নুরুল ইসলাম সরকারের ন্যায়বিচারের দাবিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
















