ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে হাজারো মানুষের আপ্যায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিন, হাফেজ, মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হলো ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড
শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / ১৫৮৭ বার পড়া হয়েছে

মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবু। তাঁর প্রয়াত পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও গণ-দাওয়াত পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী সামাজিক মিলনমেলায়, যেখানে ধনী-গরিব, ছোট-বড় কিংবা সামাজিক অবস্থানের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। অনুষ্ঠানে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন এলাকার প্রতিটি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন সংখ্যায় প্রায় ৯০ জনেরও বেশি। এছাড়াও বহু হাফেজে কোরআন, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পেশাজীবী, তরুণ, সাধারণ মানুষ এবং অসচ্ছল পরিবারগুলোর সদস্যরাও দাওয়াতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় মরহুম লাল মোহাম্মদসহ পরিবারের প্রয়াত পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, আত্মীয়-স্বজন এবং মুসলিম উম্মাহর সকল মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। দাওয়াতের পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, আন্তরিকতা ও অতিথিপরায়ণতার উজ্জ্বল নিদর্শন। আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবু নিজে অতিথিদের খোঁজখবর নেন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেন, কোনো অতিথি যেন খাবার না খেয়ে ফিরে না যান। অতিথি ধনী হোন বা গরিব, সবার জন্য সমান সম্মান ও সমান যত্ন নিশ্চিত করার নির্দেশনা ছিল তাঁর।
অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের গায়ে ছিল সবুজ (টিয়া রঙের) টি-শার্ট। সেখানে লেখা ছিল “সেবাই লক্ষ্য, উন্নয়নই অঙ্গীকার।” উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেন, এটি শুধু একটি স্লোগান নয়; বরং আয়োজকদের সেবামূলক আচরণে তার বাস্তব প্রতিফলনও দেখা গেছে। অতিথিদের সারিবদ্ধভাবে একই স্থানে বসিয়ে একসঙ্গে খাবার পরিবেশন করা হয়। এতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক হৃদয়গ্রাহী পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেকের মতে, এ ধরনের আয়োজন সামাজিক বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাবারের আয়োজন ছিল অত্যন্ত পরিপাটি ও সুসংগঠিত। অতিথিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকেরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করা এবং সমাজের সকল মানুষকে একত্রিত করে দোয়া ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক অতিথি বলেন, এমন আন্তরিক ও সুশৃঙ্খল আয়োজন খুব কমই দেখা যায়। তাঁদের ভাষায়, এখানে অতিথিদের প্রতি সম্মান, সেবার মানসিকতা এবং মানবিক আচরণ ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। স্থানীয়দের মতে, আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। মানুষের পাশে থাকা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দোয়া মাহফিল এবং সামাজিক উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে এলাকায় একজন পরিচিত সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সুধীজনের অভিমত, এমন আয়োজন শুধু একটি মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল পারস্পরিক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।



















