১৯৭৮ সালের এক মহৎ স্বপ্ন থেকে আজ জাতি গঠনের এক অনন্য বিদ্যাপীঠ—ঐতিহ্য, আদর্শ, মেধা, মানবিকতা ও সাফল্যের গৌরবগাঁথা
আলোকবর্তিকার নাম সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ
- আপডেট সময় : ১১:১৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ১৭৩৩ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায়ের নাম নয়; শিক্ষা মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে, চরিত্রকে শাণিত করে, জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। যে জাতি শিক্ষায় সমৃদ্ধ, সে জাতি সভ্যতা ও উন্নয়নের শিখরে আরোহণ করে। এই মহান সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করেই ১৯৭৮ সালে এক দূরদর্শী মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার প্রতিষ্ঠা করেন সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ একটি প্রতিষ্ঠান, যা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আজ দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। আজ এই বিদ্যাপীঠ শুধু একটি স্কুল-কলেজ নয়; এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, অসংখ্য অভিভাবকের আস্থা এবং শিক্ষার উৎকর্ষের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
একটি স্বপ্নের ইতিহাস। স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষাই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি এই বিশ্বাস থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি বিদ্যাপীঠ গড়ে তোলা, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। আজ কয়েক দশক পর দাঁড়িয়ে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান দেশের নানা প্রান্তে অসংখ্য কৃতী নাগরিক উপহার দিয়েছে।
মেধার আলোয় আলোকিত এক গৌরবময় প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। জিপিএ-৫, গোল্ডেন জিপিএ-৫, বোর্ডে মেধাতালিকায় স্থান, বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং বৃত্তি অর্জনের ধারাবাহিকতা এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ৯১ জন শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এক গর্বিত সংযোজন। এই সাফল্য কেবল শিক্ষার্থীদের নয়; এটি শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার ফসল।
ছবির ভাষায় সাফল্যের গল্প। ছবিতে দেখা যাচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী ছাত্রীদের সঙ্গে দিবা শিফটের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তফা আমীর ফয়সল এবং সিনিয়র শিক্ষক তুহিন কাওসার। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁদের আন্তরিকতা, সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা, স্নেহময় আচরণ এবং নিরলস পরিশ্রম প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। বিশেষ করে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তফা আমীর ফয়সল-এর দক্ষ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে তাঁর ভূমিকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে প্রশংসিত।
যে আলো মানুষ গড়ে। একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে বড় হয় না; বড় হয় তার আদর্শ, চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে। সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের শেখায়, সত্যবাদিতা, সততা, দেশপ্রেম, মানবসেবা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম, নেতৃত্ব, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা। এই মূল্যবোধই একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
ইসলামের আলোকে জ্ঞানের মর্যাদা। ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অত্যন্ত মহান। পবিত্র কুরআনের প্রথম ওহি শুরু হয়েছে “পড়ো, তোমার প্রতিপালকের নামে।” জ্ঞান মানুষকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ (সা.) জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উৎসাহিত করেছেন। সেই আদর্শকে ধারণ করে এই প্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট। ইতিহাসের পাতায় কিছু প্রতিষ্ঠান থাকে, যাদের পরিচয় শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়; তাদের পরিচয় তাদের মানুষ গড়ার শক্তি। সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজও তেমনই এক প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিদিন একটি নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। একজন শিশু প্রথম অক্ষর শেখে। একজন কিশোর আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায়। একজন তরুণ নিজের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সাহস অর্জন করে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ যেন সম্ভাবনার এক নতুন অধ্যায়। যেখানে জ্ঞানের আলো জ্বলে, সেখানে ভবিষ্যৎ হাসে। যেখানে শিক্ষক স্বপ্ন বুনে, সেখানে শিক্ষার্থীরা আকাশ ছোঁয়ার সাহস পায়। যেখানে আদর্শের পাঠ পড়ানো হয়, সেখানে জন্ম নেয় সৎ নাগরিক।
সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি অনুপ্রেরণা, একটি আলোকিত আগামী বাংলাদেশের প্রতীক। প্রতিষ্ঠাতার প্রতি শ্রদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেননি; তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের এক অনিঃশেষ প্রদীপ প্রজ্বলিত করেছেন। তাঁর এই অবদান শিক্ষা, সমাজ ও দেশ গঠনের ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আজ যখন শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্ন সামনে আসে, তখন সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাজারো কৃতী শিক্ষার্থীর সাফল্য, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দের অক্লান্ত শ্রম, দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্ন এবং অভিভাবকদের অটুট আস্থার সমন্বয়ে এই প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলেছে নতুন গৌরবের পথে। শিক্ষা যখন আলো, তখন সেই আলোর অন্যতম দীপশিখা সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ। ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, আদর্শে অনন্য, সাফল্যে উজ্জ্বল আগামী প্রজন্মের জন্য এক নির্ভরতার নাম।















