মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, অপরাধ দমনে সাহসী ভূমিকা আর মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারে আলোচনায় ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু)
ভোট নয়, মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে কামু
- আপডেট সময় : ০১:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ১৬৬৫ বার পড়া হয়েছে

১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার বাদ আসরের পর টঙ্গীর এরশাদ নগরের ৭ নম্বর ব্লক মসজিদ সংলগ্ন বেরীবাঁধ এলাকায় যেন সৃষ্টি হয়েছিল এক ভিন্ন আবহ। মানুষের ভিড়, শুভেচ্ছা বিনিময়, কুশল বিনিময় আর উন্নয়ন ও নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু)-এর নির্বাচনী গণসংযোগ অনুষ্ঠান। এটি শুধু নির্বাচনী প্রচারণা ছিল না; বরং একটি সুন্দর, নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ের ঘোষণা হিসেবেই উপস্থিত মানুষের কাছে ধরা দেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কামু বলেন, “আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি বলে সত্য কথা বলা বন্ধ করব না। অতীতেও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি, এখনও করব না। আমি মাদক খাই না, কাউকে খেতেও দেব না। যারা যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান সবসময় কঠোর থাকবে।” তিনি বলেন, আজকের সমাজে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক। এই মাদকের ভয়াল থাবায় নষ্ট হচ্ছে অসংখ্য তরুণের ভবিষ্যৎ, ভেঙে যাচ্ছে পরিবার, হারিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন। “যারা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত, আমি তাদের অনেকের বাসায় গিয়েছি। বলেছি এক সপ্তাহ সময় দিলাম, এই পথ ছেড়ে দিন। চাকরি লাগলে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করব, ব্যবসা করতে চাইলে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করব। কিন্তু এই বিষ ব্যবসা আর চলতে দেওয়া হবে না।” শুধু বক্তব্যেই নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডেও কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি। “মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি। ছিনতাইকারী ধরেও থানায় দিয়েছি। সমাজকে নিরাপদ রাখতে যা প্রয়োজন, মানুষের পাশে থেকে সেটাই করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, আমি অপরাধের বিরুদ্ধে। এরশাদ নগরকে ভালো রাখতে চাই। মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে চাই। ভোট পাই বা না পাই, মানুষের পাশে থাকব।”
মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু) শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে আসেন না; বরং বছরের পর বছর বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকেছেন। কখনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কখনো এলাকার সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন, আবার কখনো যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার কারণে অনেকেই তাঁকে সাহসী, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে দেখেন। তাঁদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদ নয়, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা; আর সেই জায়গাতেই কামু নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রফিকুল ইসলাম রিপন, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান মাস্টার, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মাহমুদ, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মনসুর মিয়া এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ বাবুল (কসাই)। এছাড়াও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড ও বিভিন্ন ব্লকের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
মাদকমুক্ত এরশাদ নগরের স্বপ্ন। মোঃ কামরুল ইসলাম কামুর ভাষায়, “আমি এমন একটি ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মায়েরা সন্তানের জন্য ভয় পাবেন না, যুবকের হাতে থাকবে কাজ আর স্বপ্ন, মাদকের বিষ নয়। যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাই একসঙ্গে দাঁড়াবে।” তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধিত্ব মানে শুধু একটি পদ নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব বহনের একটি অঙ্গীকার।
বিশেষ মোনাজাতে প্রয়াতদের আত্মার মাগফেরাত ও অসুস্থদের সুস্থতা কামনায়, গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শেষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় মসজিদের ইমামকে দিয়ে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ইন্তেকাল করেছেন, তাঁদের সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার প্রার্থনা জানানো হয়। বিশেষভাবে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়াও গাজীপুরের বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক এম. এ. মান্নানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।
মোনাজাতে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি অসুস্থ থাকায় তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণ আরোগ্য কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ, এরশাদ নগরের শান্তি-শৃঙ্খলা, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সকল মানুষের নিরাপদ ও সুন্দর জীবনের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
মোনাজাত শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মাঝে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক হিসেবে এই আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হলে উপস্থিত সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন। খাবার পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষায়, রাজনৈতিক কর্মসূচি যদি মানুষের প্রতি সম্মান, আন্তরিকতা ও সম্প্রীতির বার্তা বহন করে, তবে তা মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। অনেকের মতে, গণসংযোগ সভার শেষ মুহূর্তের এই দোয়া ও আপ্যায়ন কর্মসূচি মানুষের পারস্পরিক বন্ধন, সহমর্মিতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
মানুষের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রশ্ন। রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিশ্রুতির অভাব নেই। কিন্তু মানুষের কাছে শেষ পর্যন্ত মূল্যায়িত হয় কাজ, দায়বদ্ধতা এবং সংকটের সময় পাশে থাকার মানসিকতা। এরশাদ নগরের এই গণসংযোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকের আশা, অঙ্গীকারের যে কথা বলা হয়েছে, তার বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়া এবং জনসেবামূলক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।
সবশেষে মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু) উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, “সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে সরে যাব না। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। মানুষের জন্য কাজ করেছি, করছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। আমরা সবাই মিলে এরশাদ নগরকে একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজে পরিণত করতে চাই। এরশাদ নগর আমাদের সবার এটিকে ভালো রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
সময়ের স্রোতে অনেক নাম হারিয়ে যায়। আবার কিছু নাম থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে তাঁদের কাজ, দায়িত্ববোধ এবং সমাজের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে। মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু)-এর এই গণসংযোগ সভা সেই প্রত্যাশার কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল জনপ্রতিনিধিত্বের মূল শক্তি হওয়া উচিত মানুষের আস্থা, নিরাপত্তা, মানবিকতা ও সেবার মানসিকতা।
ভোটের হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে যদি মানুষের নিরাপত্তা, মাদকমুক্ত সমাজ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়, তবে এরশাদ নগরের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আর সেই স্বপ্ন নিয়েই মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু)।





















