টঙ্গীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ ড্রেন দখল উচ্ছেদে গাসিকের অভিযান
- আপডেট সময় : ১০:১৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
- / ২১২২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা বাশপট্টি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধভাবে দখল ও ভরাটকৃত ড্রেন উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক)। গতকাল (৩ জুন) গাসিকের টঙ্গী জোন-১ এর উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাসিক টঙ্গী জোন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ হোসেন। তিনি জানান, ২০০৫-০৬ সালে ইউসেপ প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরা বাশপট্টি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে টঙ্গী অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন হত। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অবৈধভাবে ড্রেনটি ভরাট করে তার উপর রাস্তা ও স্থাপনা নির্মাণ করে, যার ফলে আশপাশের এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, “অবৈধ দখলদারদের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আজকের অভিযান এই ড্রেন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানের পর দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্রেনটি বন্ধ থাকার কারণে টঙ্গী পশ্চিম থানাসহ আশপাশের কয়েকটি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পয়ঃনিষ্কাশনের পানি জমে থাকায় এলাকাজুড়ে হাঁটুপানি, যার ফলে জনসাধারণ, বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, পথচারী এবং রিকশাচালকরা চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, ড্রেন ভরাট করে তৈরি রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে একের পর এক আবাসিক ভবন। এসব ভবনের মালিকানা বহন করছে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানি, যেমন: ধাঁন সিড়ি, রুপসী বাংলা, আরাফ টাওয়ার, হেভেন টাওয়ার, বারাকা টাওয়ার, পাঞ্জেরি টাওয়ার, মিল্লাত মেঘা সিটি ইত্যাদি।
রিকশাচালকরা অভিযোগ করে বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের রিকশার মোটর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যাত্রী তুলতে কষ্ট হচ্ছে।”
অভিযানের সময় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত থেকে গাসিকের এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা জানান, বহুদিন পর তারা কিছুটা আশার আলো দেখছেন। এলাকার একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই ড্রেন বন্ধ থাকার কারণে আশেপাশের কয়েকটি ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকত। আজ সিটি কর্পোরেশনের সক্রিয় ভূমিকার ফলে আবারও স্বাভাবিকতা ফিরছে। আমরা চাই প্রশাসন এমন অভিযান আরও জোরদার করুক এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”





















