নবম সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম.এ. জলিলের গৌরবগাথা স্মরণ
নবম সেক্টরের বীর সেনানায়ক মেজর এম.এ. জলিল
- আপডেট সময় : ০৫:০৪:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / ১৯৩৪ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহস, ত্যাগ ও অসীম দেশপ্রেমের প্রতীক ছিলেন নবম সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ. জলিল। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ও দুর্গম অঞ্চল, সুন্দরবনের ঘন অরণ্য, খাল-বিল ও নদীপথ অতিক্রম করে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত অসংখ্য সম্মুখযুদ্ধের মাধ্যমে নবম সেক্টরের নাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অমর অধ্যায়ে পরিণত হয়।

মোঃ মজিবুর রহমান ক্রীড়াবিদ
বৃহত্তম ও জটিল যুদ্ধক্ষেত্র। নবম সেক্টর ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ সেক্টর। বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরা, সুন্দরবন এবং যশোরের একটি অংশ নিয়ে গঠিত এই সেক্টর ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জটিল যুদ্ধক্ষেত্র। নদী-নালা ও অরণ্যে ঘেরা এই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতেও মেজর এম.এ. জলিল ছিলেন এক অনন্য নেতা, সাহসী, দূরদর্শী ও মানবিক। তিনি অধিকাংশ অভিযানে নিজেই সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জোগাতেন।
হাসনাবাদে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নবম সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার ভারাসাল অধিনে হাসনাবাদ ও আমলালি ক্যাম্পে মোঃ মজিবুর রহমান ক্রীড়াবিদ রিক্রোডিং তালিকাভুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তারা সুন্দরবন ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ধর্ষ অভিযান পরিচালনা করেন। নদীপথ ও স্থলপথ উভয় দিক থেকেই শত্রুর ঘাঁটিতে আঘাত হানার এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের খবর। মেজর এম.এ. জলিলের নেতৃত্বে পরিচালিত সাহসী অভিযানের খবর সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। বিবিসি লন্ডন, ভয়েস অব আমেরিকা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার তাকে যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছে। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদেরও।
মুক্তিযোদ্ধা ও ক্রীড়াবিদ মজিবুর রহমানের স্মৃতিচারণ। নবম সেক্টরের ক্রীড়া সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, “মেজর এম.এ. জলিলের সাহসিকতা ও ত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা নবম সেক্টরের সকল মুক্তিযোদ্ধার পক্ষ থেকে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সকল সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশেষ করে স্বাধীনতা পদক কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই, কারণ তারা প্রকৃত বিজয়ীদের যথাযথ সম্মান প্রদান করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মেজর এম.এ. জলিল গ্রেপ্তার হলে নবম সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ঢাকার পুরানা পল্টনে “নির্ভীক সংঘ” নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয়। ভান্ডারিয়ায় একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে বায়তুল মোকাররমে আরও একটি বৃহৎ জনসভা হয়। আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপতির বাসভবনে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর মুক্তির আশ্বাস দেন।
লাস ভেগার আমেরিকা
ক্রীড়া অঙ্গনেও গৌরব। মোঃ মজিবুর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধেই নয়, ক্রীড়াঙ্গনেও দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তিনি স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক অর্জন করেছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা তাকে সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

এশিয়া চ্যাম্পিয়নসীপে মাস্টার্স ভারোউত্তোলন কাতারে স্বর্ণপদক জয়ী
জাতির গর্বের ইতিহাস। মজিবুর রহমান বলেন, “মেজর এম.এ. জলিলের মতো সাহসী কমান্ডার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান করা দেশের জনগণের দায়িত্ব।” শেষে তিনি মরহুম এই বীর সেনানায়কের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “আমরা যারা তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি, তাদের কাছে তিনি শুধু একজন কমান্ডার নন; তিনি সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। তাঁর বীরত্বের ইতিহাস জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”





















