ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

অবিলম্বে রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানে হতাশ বিএনপি

md younus
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
  • / ২১২৩ বার পড়া হয়েছে




বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ চলমান থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের অনুপস্থিতিতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। এতে করে দেশের জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করে বিএনপি।
মঙ্গলবার (২৭ মে) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এর আগের দিন (২৬ মে) রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. মোশাররফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে গত ২৪ মে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। একই দিনে আরও দুটি রাজনৈতিক দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, এবং পরদিন আরও বিশটি দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এসব সংলাপের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মাধ্যমে যেসব বক্তব্য সরকার উপস্থাপন করেছে, তাতে নির্বাচন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের উল্লেখ নেই। এ বিষয়টিকে ‘নির্বাচনী অনিশ্চয়তা’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো সময়েই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইনি। বরং আমরা ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাইছি। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে তা একযোগে চলতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, শনিবার (২৪ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিও ছিল ‘অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর’। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা এবং কার্যক্রম পরিচালনায় দুর্বলতার অভিযোগও তোলেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, “বিভিন্ন মহলের অযৌক্তিক ও এখতিয়ারবহির্ভূত দাবির ফলে সরকারের কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে—এই অভিযোগ সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই করেছে।”
বিএনপির পক্ষ থেকে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি জানিয়ে বলা হয়, সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকা জনমনে আইনের শাসন নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের পক্ষে আদালতের রায় ও গেজেট প্রকাশ হলেও তার শপথ গ্রহণের কোনো উদ্যোগ না নেওয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি দাবি করে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবিলম্বে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার গঠনের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, সরকারের প্রতি বিএনপির সহযোগিতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
ড. মোশাররফ বলেন, “ডিসেম্বরের পর নির্বাচন আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। কারণ ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে রমজান, এসএসসি পরীক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি। আমরা ইতিবাচক বার্তা আশা করেছিলাম, কিন্তু সেটি আসেনি। সংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনই একমাত্র পথ। সেক্ষেত্রে নির্বাচন, বিচার ও সংস্কারের প্রক্রিয়াকে একত্রে এগিয়ে নিতে হবে এবং এ লক্ষ্যেই আমরা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অবিলম্বে রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানে হতাশ বিএনপি

আপডেট সময় : ০৭:১৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ চলমান থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের অনুপস্থিতিতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। এতে করে দেশের জনগণের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করে বিএনপি।
মঙ্গলবার (২৭ মে) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এর আগের দিন (২৬ মে) রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. মোশাররফ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে গত ২৪ মে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। একই দিনে আরও দুটি রাজনৈতিক দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, এবং পরদিন আরও বিশটি দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এসব সংলাপের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের মাধ্যমে যেসব বক্তব্য সরকার উপস্থাপন করেছে, তাতে নির্বাচন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের উল্লেখ নেই। এ বিষয়টিকে ‘নির্বাচনী অনিশ্চয়তা’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো সময়েই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাইনি। বরং আমরা ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাইছি। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে তা একযোগে চলতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, শনিবার (২৪ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিও ছিল ‘অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর’। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা এবং কার্যক্রম পরিচালনায় দুর্বলতার অভিযোগও তোলেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, “বিভিন্ন মহলের অযৌক্তিক ও এখতিয়ারবহির্ভূত দাবির ফলে সরকারের কাজের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে—এই অভিযোগ সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই করেছে।”
বিএনপির পক্ষ থেকে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি জানিয়ে বলা হয়, সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকা জনমনে আইনের শাসন নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের পক্ষে আদালতের রায় ও গেজেট প্রকাশ হলেও তার শপথ গ্রহণের কোনো উদ্যোগ না নেওয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি দাবি করে, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবিলম্বে একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার গঠনের জন্য একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, সরকারের প্রতি বিএনপির সহযোগিতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
ড. মোশাররফ বলেন, “ডিসেম্বরের পর নির্বাচন আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। কারণ ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে রমজান, এসএসসি পরীক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি। আমরা ইতিবাচক বার্তা আশা করেছিলাম, কিন্তু সেটি আসেনি। সংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচনই একমাত্র পথ। সেক্ষেত্রে নির্বাচন, বিচার ও সংস্কারের প্রক্রিয়াকে একত্রে এগিয়ে নিতে হবে এবং এ লক্ষ্যেই আমরা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।