ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন

md younus
  • আপডেট সময় : ০২:১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / ১৭৩৯ বার পড়া হয়েছে




পদোন্নতি জটিলতা ঘিরে আবারও অচলাবস্থার মুখে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। চলমান সংকট নিরসনে সিন্ডিকেট সভা থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে সোমবার (১১ মে) থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এর আগে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চলে। ওই সময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ৩০ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার, উপাচার্য ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে এক বৈঠকে সংকট নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আশা দেখা দিয়েছিল।
তবে শিক্ষকসমাজের অভিযোগ, বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য একক সিদ্ধান্তের পথে এগিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভার নোটিশ দিয়ে শুক্রবার (৯ মে) সকাল ১১টায় সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু ওই সভায় অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, সোমবার (১১ মে) থেকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালন এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছি। কিন্তু কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না আসায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।”
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশীজনভিত্তিক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে সেশনজট আরও বাড়বে। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন

আপডেট সময় : ০২:১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

পদোন্নতি জটিলতা ঘিরে আবারও অচলাবস্থার মুখে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। চলমান সংকট নিরসনে সিন্ডিকেট সভা থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে সোমবার (১১ মে) থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এর আগে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চলে। ওই সময় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ৩০ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার, উপাচার্য ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে এক বৈঠকে সংকট নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আশা দেখা দিয়েছিল।
তবে শিক্ষকসমাজের অভিযোগ, বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য একক সিদ্ধান্তের পথে এগিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভার নোটিশ দিয়ে শুক্রবার (৯ মে) সকাল ১১টায় সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু ওই সভায় অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, সোমবার (১১ মে) থেকে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালন এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমরা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছি। কিন্তু কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না আসায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।”
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশীজনভিত্তিক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে সেশনজট আরও বাড়বে। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।