ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

টঙ্গীতে পরকীয়ার বলি এক যুবক: প্রকাশ্যে খুন, প্রেমিকা গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক

md younus
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / ২১৩৪ বার পড়া হয়েছে




টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কামরুল এরশাদনগর ৩ নম্বর ব্লকের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং বয়স ছিল ২৬ বছর। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক সন্তানের জননী ও কামরুলের প্রেমিকা সুলতানা বেগমকে, যিনি ১ নম্বর ব্লকের পাখি মিয়ার মেয়ে ও অভিযুক্ত স্বামী মো. সাব্বির আহমেদের স্ত্রী। প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ, তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সাব্বির এখনো পলাতক রয়েছে।


ঘটনার সূত্রপাত হয় সুলতানা ও কামরুলের মধ্যে গোপন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে দু’জনের মধ্যে পরকীয়া চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী সাব্বির তাদের বারবার সতর্ক করেন ও সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন। কিন্তু কামরুল ওই অনুরোধ মানেননি, বরং সম্পর্ক বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়। গত শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে দত্তপাড়া দিঘীরপাড় দারুল আহসান মাদানিয়া মাদ্রাসার সামনে সুলতানার সঙ্গে দেখা করতে আসেন কামরুল। সুলতানা সেসময় সন্তানকে মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় হঠাৎ হাজির হন সাব্বির। তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো সুইচগিয়ার ও লোহার রড দিয়ে কামরুলের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা প্রথমে কামরুলকে আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়, পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সবশেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে কামরুল মারা যান। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই কামাল হোসাইন বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি প্রেমিকা সুলতানা বেগমকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানায়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিকরা নিহত কামরুলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। পারিবারিক সম্মান, সামাজিক চাপে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। প্রতিবেশীরাও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার ঝড় বইছে। কেউ বলছেন এটি প্রেমের অবসান, কেউ বলছেন এটি প্রতিশোধের নির্মমতা। এক তরুণের জীবন, এক নারীর বন্ধন আর এক পরিবারের ভবিষ্যৎ—সবকিছু মিশে গিয়ে একটিই প্রশ্ন রেখে গেছে সমাজের সামনে, ভালোবাসা যদি মৃত্যু ডেকে আনে তবে তা কি সত্যিই ভালোবাসা? এই ঘটনায় আমরা নিহত কামরুলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টঙ্গীতে পরকীয়ার বলি এক যুবক: প্রকাশ্যে খুন, প্রেমিকা গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক

আপডেট সময় : ০৮:১০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে কামরুল ইসলাম নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কামরুল এরশাদনগর ৩ নম্বর ব্লকের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং বয়স ছিল ২৬ বছর। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক সন্তানের জননী ও কামরুলের প্রেমিকা সুলতানা বেগমকে, যিনি ১ নম্বর ব্লকের পাখি মিয়ার মেয়ে ও অভিযুক্ত স্বামী মো. সাব্বির আহমেদের স্ত্রী। প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ, তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সাব্বির এখনো পলাতক রয়েছে।


ঘটনার সূত্রপাত হয় সুলতানা ও কামরুলের মধ্যে গোপন সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিন ধরে দু’জনের মধ্যে পরকীয়া চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী সাব্বির তাদের বারবার সতর্ক করেন ও সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন। কিন্তু কামরুল ওই অনুরোধ মানেননি, বরং সম্পর্ক বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়। গত শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে দত্তপাড়া দিঘীরপাড় দারুল আহসান মাদানিয়া মাদ্রাসার সামনে সুলতানার সঙ্গে দেখা করতে আসেন কামরুল। সুলতানা সেসময় সন্তানকে মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় হঠাৎ হাজির হন সাব্বির। তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো সুইচগিয়ার ও লোহার রড দিয়ে কামরুলের ওপর অতর্কিতে হামলা চালান এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা প্রথমে কামরুলকে আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়, পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সবশেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে কামরুল মারা যান। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই কামাল হোসাইন বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি প্রেমিকা সুলতানা বেগমকে গ্রেপ্তার করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানায়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিকরা নিহত কামরুলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। পারিবারিক সম্মান, সামাজিক চাপে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। প্রতিবেশীরাও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার ঝড় বইছে। কেউ বলছেন এটি প্রেমের অবসান, কেউ বলছেন এটি প্রতিশোধের নির্মমতা। এক তরুণের জীবন, এক নারীর বন্ধন আর এক পরিবারের ভবিষ্যৎ—সবকিছু মিশে গিয়ে একটিই প্রশ্ন রেখে গেছে সমাজের সামনে, ভালোবাসা যদি মৃত্যু ডেকে আনে তবে তা কি সত্যিই ভালোবাসা? এই ঘটনায় আমরা নিহত কামরুলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।