টঙ্গী পূর্ব–পশ্চিম থানা ও অঙ্গসংগঠনের ব্যাপক অংশগ্রহণে জনসমাগম, দিনভর নানা ঘটনাপ্রবাহ
মঞ্জুরুল করিম রনির নেতৃত্বে টঙ্গীজুড়ে ধানের শীষের গণমিছিল, শেষ প্রচারণায় বিএনপির সংগঠিত শক্তির প্রদর্শন
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৯৩২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর–২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি-এর নেতৃত্বে টঙ্গীজুড়ে অনুষ্ঠিত বিশাল গণমিছিল ও নির্বাচনী প্রচারণা এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা সৃষ্টি করেছে।
সোমবার বিকেলে টঙ্গী আশরাফ সেতু সংলগ্ন বাটা রোড থেকে শুরু হওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই গণমিছিল টঙ্গী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের অংশবিশেষ অতিক্রম করে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ও গাজীপুর অভিমুখে অগ্রসর হয়। ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত এই কর্মসূচিতে প্রার্থী নিজেই নেতৃত্ব দেন। এতে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিপুল জনসমাগমে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অংশগ্রহণ গণমিছিলে টঙ্গী পূর্ব থানা ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল এবং বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও নেতাকর্মীরা সংগঠিতভাবে অংশ নেন। টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ, যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাংগঠনিক নেতারা গণমিছিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মহিলা দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের মহিলা নেত্রীরাও রঙিন শাড়ি পরিধান করে উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেন।
গণমিছিলে ছিল রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি, পিকআপ, মাইক্রোবাস, ছোট জিপ, ব্যান্ড ট্রাক ও সাজসজ্জাকৃত বিভিন্ন যানবাহন। ঢোল–ঢাক, মাইকিং, ডেকসেট ও বড় পর্দার টিভি ডিসপ্লের মাধ্যমে নির্বাচনী বার্তা প্রচার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে গান–বাজনার সঙ্গে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে গণমিছিল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রচারণাকালে টঙ্গীর কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সাময়িক বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। মাজার বস্তি এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
একই দিনে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকায় কিছু গার্মেন্টস শ্রমিক বেতন ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সড়কের পাশে অবস্থান নেন। এতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওই এলাকায় কিছু সময় যান চলাচলে ধীরগতি দেখা যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে। তিনি নেতা–কর্মী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “আপনার ভোট আপনার আমানত। স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।” এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘ভোট দিবো কিসে, ধানের শীষে’ এবং ‘১২ তারিখ সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন’এমন স্লোগান দেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় গাজীপুর–২ আসন জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারণার শেষ দিনে টঙ্গীজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের এই সংগঠিত উপস্থিতি দলটির সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।





















