ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমজীবী শৈশব থেকে বিএনপির প্রতি নিখাদ ভালোবাসা, আজ জিয়া সংসদের সহ-প্রচার সম্পাদক

শহীদ জিয়ার হাতে মাটি তোলার স্মৃতি থেকে: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের জীবনগাথা

md younus
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২২৮৮ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুরের এরশাদনগরের সরু গলিতে একটি ঘর। সেখানেই বসে স্মৃতির পাতা উল্টে দেন মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রুজল যেন সাক্ষ্য দেয় তাঁর দীর্ঘ পথচলার। “আমি কোনোদিন ভাবিনি রাজনীতি করব,” বলছিলেন তিনি, “কিন্তু শহীদ জিয়া আমার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিলেন।”
ধামরাইয়ের কাগজিপাড়ার ছেলে, ঢাকা জেলার ধামরাই থানার কাগজিপাড়া কুমড়াইল গ্রামে জন্ম তাঁর। বাবা মোঃ আলী হোসেন ও মা সোনাভান বিবি—আজ দুজনেই নেই। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে বড় ছিলেন তিনি। শৈশবের দিনগুলো ছিল অভাব-অনটনে ভরা। জীবন তাকে টেনে নিয়ে যায় শ্রমজীবী বাস্তবতায়।
মাটির কোদাল আর শহীদ জিয়ার সান্নিধ্য: সত্তরের দশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় যখন খাল খনন ও মাঠ সংস্কারের কাজ চলছিল, তখন একদিন শ্রমিকদের ভিড়ে ছিলেন কিশোর মোশারফ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেও।
জিয়া যখন শ্রমিকদের হাতে কোদাল তুলে দিচ্ছিলেন, মোশারফও এগিয়ে গেলেন। শহীদ জিয়ার হাত থেকে কোদাল নিয়ে মাটি তোলার সেই মুহূর্ত আজও তাঁকে আলোড়িত করে।
“আমি তখন শুধু একজন দিনমজুর। কিন্তু যখন তাঁর হাত থেকে কোদালটা নিলাম, মনে হলো আমি দেশ গড়ার কাজে শরিক হয়েছি। সেই মুহূর্তে আমার বুকের ভেতর আগুন জ্বলে উঠেছিল। শহীদ জিয়ার মতো মানুষকে দেখে আমি বিএনপিকে ভালোবেসে ফেললাম।”
অন্ধকার থেকে আলোর পথে : ১৯৮১ সালে শহীদ জিয়ার হত্যার পর তাঁর মন ভেঙে যায়। বারবার মনে হয়েছে—দেশ তার অভিভাবক হারাল। কিন্তু ধামরাইয়ের ব্যারিস্টার জিয়াউল হকের হাত ধরে আবারো রাজনীতিতে ফেরা। তখনো কোনো পদ নেই, কোনো প্রলোভন নেই। শুধু একটাই বিশ্বাস—“বিএনপিকে ছাড়া বাঁচব না।”
গাজীপুরে চলে আসার পর শুরু হয় নতুন অধ্যায়। ওয়ার্ড সভাপতি বারেক খান, যুবদল নেতা মিজান, মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার—সবার সঙ্গেই জড়িয়ে পড়লেন তিনি। রাতের পর রাত, মিটিং থেকে মিছিল—সবখানেই ছিলেন সামনের সারির এক অকৃত্রিম কর্মী।


জিয়া সংসদ: নতুন আশ্রয়, এরশাদনগরে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও যখন অবমূল্যায়ন পেলেন, তখন মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। ভাবছিলেন—“দলকে ভালোবাসলেও আমি কি আসলেই কোনো জায়গায় আছি?”
হঠাৎ একদিন পরিচয় হলো গাজীপুর মহানগর জিয়া সংসদের সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদ রানার সঙ্গে। প্রথম দেখা, তারপর কথা, তারপর একসাথে কাজ—সব মিলিয়ে নতুন আলো দেখতে পেলেন তিনি।
“মাসুদ রানা ভাইকে দেখে আমি শহীদ জিয়ার ছায়া খুঁজে পাই। তাঁর ব্যবহারে, তাঁর ত্যাগে, তাঁর আদর্শে—সব জায়গায় শহীদ জিয়ার ছাপ দেখি।”
শুধু সভাপতি মাসুদ রানা নয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বও তাঁকে আকৃষ্ট করে। ধীরে ধীরে তিনি বুঝলেন—এটাই তাঁর প্রকৃত আশ্রয়, এটাই তাঁর রাজনৈতিক ঘর।
দায়িত্বের স্বীকৃতি, সবশেষে জিয়া সংসদের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন তিনি। গলায় আবেগ মিশিয়ে বললেন—“আমি কোনোদিন পদ চাইনি। কিন্তু আজ যখন সভাপতি মাসুদ রানা আমাকে বুকে টেনে নিয়ে দায়িত্ব দিলেন, মনে হলো আমার ত্যাগ সার্থক হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।”
অঙ্গীকার: আজও তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন—দল মানেই শহীদ জিয়া, দল মানেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর অঙ্গীকার—“যতদিন বেঁচে আছি, জিয়া সংসদের পতাকা উঁচিয়ে ধরে মানুষের সেবা করে যাব। শহীদ জিয়ার আদর্শ আমার বুকের ভেতর রক্ত হয়ে বইছে।”
মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের গল্প কেবল একজন মানুষের রাজনৈতিক যাত্রার কাহিনি নয়, বরং শ্রমজীবী বাস্তবতা থেকে উঠে আসা এক মানুষের হৃদয়-ছোঁয়া সংগ্রামের ইতিহাস। শহীদ জিয়ার হাতে মাটি তোলার সেই মুহূর্ত আজও তাঁকে পথ দেখায়। আর তিনি বিশ্বাস করেন—
“যদি আমরা সবাই শহীদ জিয়ার মতো দেশকে ভালোবাসতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ আবারও মাথা তুলে দাঁড়াবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শ্রমজীবী শৈশব থেকে বিএনপির প্রতি নিখাদ ভালোবাসা, আজ জিয়া সংসদের সহ-প্রচার সম্পাদক

শহীদ জিয়ার হাতে মাটি তোলার স্মৃতি থেকে: মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের জীবনগাথা

আপডেট সময় : ০২:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজীপুরের এরশাদনগরের সরু গলিতে একটি ঘর। সেখানেই বসে স্মৃতির পাতা উল্টে দেন মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রুজল যেন সাক্ষ্য দেয় তাঁর দীর্ঘ পথচলার। “আমি কোনোদিন ভাবিনি রাজনীতি করব,” বলছিলেন তিনি, “কিন্তু শহীদ জিয়া আমার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিলেন।”
ধামরাইয়ের কাগজিপাড়ার ছেলে, ঢাকা জেলার ধামরাই থানার কাগজিপাড়া কুমড়াইল গ্রামে জন্ম তাঁর। বাবা মোঃ আলী হোসেন ও মা সোনাভান বিবি—আজ দুজনেই নেই। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে বড় ছিলেন তিনি। শৈশবের দিনগুলো ছিল অভাব-অনটনে ভরা। জীবন তাকে টেনে নিয়ে যায় শ্রমজীবী বাস্তবতায়।
মাটির কোদাল আর শহীদ জিয়ার সান্নিধ্য: সত্তরের দশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় যখন খাল খনন ও মাঠ সংস্কারের কাজ চলছিল, তখন একদিন শ্রমিকদের ভিড়ে ছিলেন কিশোর মোশারফ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেও।
জিয়া যখন শ্রমিকদের হাতে কোদাল তুলে দিচ্ছিলেন, মোশারফও এগিয়ে গেলেন। শহীদ জিয়ার হাত থেকে কোদাল নিয়ে মাটি তোলার সেই মুহূর্ত আজও তাঁকে আলোড়িত করে।
“আমি তখন শুধু একজন দিনমজুর। কিন্তু যখন তাঁর হাত থেকে কোদালটা নিলাম, মনে হলো আমি দেশ গড়ার কাজে শরিক হয়েছি। সেই মুহূর্তে আমার বুকের ভেতর আগুন জ্বলে উঠেছিল। শহীদ জিয়ার মতো মানুষকে দেখে আমি বিএনপিকে ভালোবেসে ফেললাম।”
অন্ধকার থেকে আলোর পথে : ১৯৮১ সালে শহীদ জিয়ার হত্যার পর তাঁর মন ভেঙে যায়। বারবার মনে হয়েছে—দেশ তার অভিভাবক হারাল। কিন্তু ধামরাইয়ের ব্যারিস্টার জিয়াউল হকের হাত ধরে আবারো রাজনীতিতে ফেরা। তখনো কোনো পদ নেই, কোনো প্রলোভন নেই। শুধু একটাই বিশ্বাস—“বিএনপিকে ছাড়া বাঁচব না।”
গাজীপুরে চলে আসার পর শুরু হয় নতুন অধ্যায়। ওয়ার্ড সভাপতি বারেক খান, যুবদল নেতা মিজান, মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার—সবার সঙ্গেই জড়িয়ে পড়লেন তিনি। রাতের পর রাত, মিটিং থেকে মিছিল—সবখানেই ছিলেন সামনের সারির এক অকৃত্রিম কর্মী।


জিয়া সংসদ: নতুন আশ্রয়, এরশাদনগরে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও যখন অবমূল্যায়ন পেলেন, তখন মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। ভাবছিলেন—“দলকে ভালোবাসলেও আমি কি আসলেই কোনো জায়গায় আছি?”
হঠাৎ একদিন পরিচয় হলো গাজীপুর মহানগর জিয়া সংসদের সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদ রানার সঙ্গে। প্রথম দেখা, তারপর কথা, তারপর একসাথে কাজ—সব মিলিয়ে নতুন আলো দেখতে পেলেন তিনি।
“মাসুদ রানা ভাইকে দেখে আমি শহীদ জিয়ার ছায়া খুঁজে পাই। তাঁর ব্যবহারে, তাঁর ত্যাগে, তাঁর আদর্শে—সব জায়গায় শহীদ জিয়ার ছাপ দেখি।”
শুধু সভাপতি মাসুদ রানা নয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বও তাঁকে আকৃষ্ট করে। ধীরে ধীরে তিনি বুঝলেন—এটাই তাঁর প্রকৃত আশ্রয়, এটাই তাঁর রাজনৈতিক ঘর।
দায়িত্বের স্বীকৃতি, সবশেষে জিয়া সংসদের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন তিনি। গলায় আবেগ মিশিয়ে বললেন—“আমি কোনোদিন পদ চাইনি। কিন্তু আজ যখন সভাপতি মাসুদ রানা আমাকে বুকে টেনে নিয়ে দায়িত্ব দিলেন, মনে হলো আমার ত্যাগ সার্থক হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।”
অঙ্গীকার: আজও তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন—দল মানেই শহীদ জিয়া, দল মানেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর অঙ্গীকার—“যতদিন বেঁচে আছি, জিয়া সংসদের পতাকা উঁচিয়ে ধরে মানুষের সেবা করে যাব। শহীদ জিয়ার আদর্শ আমার বুকের ভেতর রক্ত হয়ে বইছে।”
মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের গল্প কেবল একজন মানুষের রাজনৈতিক যাত্রার কাহিনি নয়, বরং শ্রমজীবী বাস্তবতা থেকে উঠে আসা এক মানুষের হৃদয়-ছোঁয়া সংগ্রামের ইতিহাস। শহীদ জিয়ার হাতে মাটি তোলার সেই মুহূর্ত আজও তাঁকে পথ দেখায়। আর তিনি বিশ্বাস করেন—
“যদি আমরা সবাই শহীদ জিয়ার মতো দেশকে ভালোবাসতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ আবারও মাথা তুলে দাঁড়াবে।”