শিক্ষা, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার নানা উদ্যোগে আলোচনায় মোঃ কামাল উদ্দিন
দায়িত্বের নতুন অধ্যায়: গাছা কলেজ থেকে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮০ বার পড়া হয়েছে

গাছা, গাজীপুর মহানগরের একটি ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা। শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রমজীবী মানুষের বসতি, বাজার ও আবাসিক এলাকার সমন্বয়ে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে এই জনপদের চিত্র। মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষা, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আলো, ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধার প্রত্যাশাও। এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় গাছা কলেজের গভর্নিং বডির এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মোঃ কামাল উদ্দিনের মনোনয়ন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে। নতুন দায়িত্বের সঙ্গে নতুন প্রত্যাশা, এখন মূল প্রশ্ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে তিনি কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন এবং তাঁর সামনে থাকা প্রত্যাশাগুলো বাস্তবে কতটা রূপ পায়।
গাছা কলেজে নতুন দায়িত্ব, গাছা কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ কলেজের শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে উন্নতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার মানোন্নয়ন; শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন; শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান; ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ; নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ; ইভটিজিং প্রতিরোধ; কলেজের আশপাশে নিরাপদ যাতায়াত; শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। কলেজে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় এবং আশপাশের সড়কে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ অনেকটাই কমতে পারে।
ডিজিটাল সাইনবোর্ডের উদ্যোগ, গাছা কলেজকে আধুনিক ও দৃশ্যমানভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে ডিজিটাল সাইনবোর্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সাইনবোর্ড নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মনির হোসেন, মোঃ ওমর ফারুক খান, মোঃ সোলায়মান সরকারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে কলেজের তথ্য প্রদর্শন, বিভিন্ন ঘোষণা ও প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি একটি আধুনিক সংযোজন হতে পারে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শুধু ভবন, সাইনবোর্ড কিংবা অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি, ফলাফল, লাইব্রেরি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ, সবকিছুর সমন্বয়েই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। তাই গাছা কলেজের নতুন এডহক কমিটির সামনে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশাগুলোর একটি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করতে পারে।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা, গাছা এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক অবস্থানের কথাও কামাল উদ্দিনের কর্মকাণ্ডের আলোচনায় এসেছে। তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারিত বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং কোনো ধরনের আপস না করার কথা বলা হয়েছে। মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। গাছার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্যোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক সমস্যার দিকে নজর, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন, সড়কবাতি, যানজট ও নিরাপদ চলাচলের বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জীবন মার্কেট ব্রিজ এলাকায় অটোরিকশা ও সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় একটি নতুন বেষ্টনী নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলাচলের সমস্যা কিছুটা কমার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একইভাবে গাছা রোড থেকে ইয়াকুব আলী মেম্বার রোড হয়ে কলমেশ্বর ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান এবং দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলোয় আলোকিত করার উদ্যোগ, গাছা ইঞ্জিনিয়ার রোড, ইয়াকুব মেম্বার রোড, ফকির মার্কেট ও বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো সড়কবাতি সংস্কার এবং নতুন বাতি স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা শুধু যানবাহন চলাচলের জন্য নয়, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অলিগলিতেও পর্যাপ্ত আলোকব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা, গাছা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের বসবাস ও চলাচল রয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মস্থলে যাতায়াত এবং রাতের চলাচলের নিরাপত্তা তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক বিষয়। স্থানীয়ভাবে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, কোনো অপরাধ বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রতিটি অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করাই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার পরিকল্পনা, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালুর একটি পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে নিম্নআয়ের মানুষ, শ্রমজীবী পরিবার ও প্রবীণদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের পর চিকিৎসকের সংখ্যা, চিকিৎসার ধরন, সময়সূচি ও সেবার পরিধি নির্দিষ্টভাবে জানানো হলে এলাকাবাসীও এর সুবিধা নিতে আরও সহজে সক্ষম হবেন।
মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের কথা শোনা, কামাল উদ্দিনের কর্মকাণ্ডের আলোচনায় আরেকটি বিষয় বারবার উঠে আসে,এলাকায় গিয়ে সরাসরি মানুষের সমস্যা শোনা। রাস্তা, ড্রেন, আলো, নিরাপত্তা কিংবা অন্যান্য নাগরিক সমস্যার বিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন ও আলোচনা করার কথা তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় এই ধরনের জনসম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ একটি এলাকার প্রকৃত সমস্যা অনেক সময় অফিসের নথির চেয়ে মানুষের মুখ থেকেই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে জানা যায়।
রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে ভূমিকা, গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামাল উদ্দিন দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি, র্যালি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তাঁর উপস্থিতির কথা স্থানীয়ভাবে প্রচারিত হয়েছে। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরের কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি তাঁর সমর্থকদের প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।
সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ মোল্লার মায়ের জানাজায় তাঁর উপস্থিতির কথাও স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে এমন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকে অনেকেই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সেখানে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ন্যায়, সততা ও মানবকল্যাণের পথে চলার আহ্বান জানানোর কথাও তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে।
মানুষের পাশে থাকার পারিবারিক ঐতিহ্যের দাবি, স্থানীয় কিছু মানুষের বক্তব্যে কামাল উদ্দিনের পারিবারিক ইতিহাসও উঠে আসে। তাঁদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর পিতা হাজী আবেদ আলী তৎকালীন গাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ উল্লেখ করেন। প্রয়াত মনির হোসেন রবির সামাজিক ভূমিকার কথাও স্থানীয়দের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে। তবে পারিবারিক ইতিহাসের এসব বিষয়কে আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করতে পুরোনো সরকারি নথি, নির্বাচনী তথ্য ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংযুক্ত করা হলে তা ভবিষ্যতের ইতিহাসভিত্তিক প্রতিবেদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠতে পারে। সমালোচনা থাকবেই, কাজই দেবে উত্তর, জনজীবনে সক্রিয় একজন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিকে ঘিরে যেমন সমর্থন থাকে, তেমনি মতভেদ ও সমালোচনাও স্বাভাবিক। কামাল উদ্দিনের সমর্থকদের বক্তব্য, সমালোচনাকে তাঁরা কাজের পথে বাধা হিসেবে না দেখে নিজেদের ভুল সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখতে চান। বাস্তবে একজন জনসম্পৃক্ত ব্যক্তির মূল্যায়নের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হলো তাঁর কাজের ফলাফল, কতগুলো সমস্যা সমাধান হয়েছে, কতগুলো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে, মানুষের জীবন কতটা সহজ হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব কাজের কতটা মিল রয়েছে।
নতুন দায়িত্ব, নতুন পরীক্ষা, গাছা কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কামাল উদ্দিনের জন্য শুধু একটি নতুন পদ নয়; এটি একটি নতুন ধরনের দায়িত্বও। রাজনীতিতে সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকতে হলে প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গাছা কলেজের সামনে এখন তাই কয়েকটি বড় প্রত্যাশা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আধুনিক অবকাঠামো, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যার কার্যকর সমাধান। গাছার মানুষের প্রত্যাশা, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষও চান তাঁদের এলাকার রাস্তা-ড্রেন, আলো, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও নাগরিক সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সমাধানের উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব পরিবর্তন।
একটি সুন্দর ও পরিকল্পিত ওয়ার্ড গড়ে তুলতে রাস্তা-ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজন পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, নিরাপদ ফুটপাত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা। এসব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক উদ্যোগ থাকলে একটি জনপদের পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়।
শেষ কথা, ইতিহাস কথায় নয়, কাজেই লেখা হয়, গাছার রাজনীতি, শিক্ষা ও নাগরিক জীবনে মোঃ কামাল উদ্দিনকে ঘিরে যে প্রত্যাশার কথা বলা হচ্ছে, তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বাস্তবায়ন। গাছা কলেজের নতুন দায়িত্ব, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যা, মাদকবিরোধী অবস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সব মিলিয়ে তাঁর সামনে দায়িত্বের পরিধি বিস্তৃত। একজন রাজনৈতিক সংগঠকের পরিচয় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে; কিন্তু জনসেবার ক্ষেত্রে মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে কাজের দৃশ্যমান ফলাফল। তাই গাছার মানুষ এখন অপেক্ষা করবে, কথার সঙ্গে কাজ কতটা মেলে, পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়ন কতটা এগোয় এবং নতুন দায়িত্ব মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
ইতিহাস বড় বড় কথায় তৈরি হয় না। ইতিহাস তৈরি হয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, দায়িত্ব পালন করে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এবং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কাজের মধ্য দিয়ে। গাছার আগামী দিনের গল্পও সেই কাজের মধ্য দিয়েই লেখা হবে।



















