ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ সত্যের সন্ধানে সাধনার সুর একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন রাত জাগা এক মানুষ, নিরাপদ পাড়ার স্বপ্ন সত্যকে শর্ত, সেবাকে অঙ্গীকার সংগ্রাম থেকে সেবার শপথ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা গড়তে শফিকুল ইসলাম শফিক দোয়ার সাগরে বিদায় পবিত্র ভূমির পথে শেখ মোঃ সুমন “একজনকে হারিয়েছে টঙ্গী, আরেকজনের জীবন থমকে আছে কারাগারে” বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের জন্য আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের লড়াই ঐক্যের শক্তিতে তারুণ্যের অগ্রযাত্রা শেখ মোঃ সুমনের ভাবনায় যুবসমাজ ও মানবিক রাজনীতি কারামুক্তি দিবসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বেনজির রহমান খান পিন্টুর সংগ্রামী শুভেচ্ছা

চার ঘণ্টার জনসংলাপে মানুষের প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধির জবাব হাজী পিয়ার আলী স্কুল মাঠে ব্যতিক্রমী মতবিনিময় সভা ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা প্রশ্নোত্তর, প্রত্যাশা ও মানুষের সঙ্গে প্রাণখোলা সংলাপ

করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ

md younus
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

oplus_0




“করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫টার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টঙ্গীর হাজী পিয়ার আলী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জনসংযোগ ও মতবিনিময় সভা। প্রায় চার ঘণ্টার এই আয়োজনে ছিল না শুধু বক্তৃতা; ছিল মানুষের কথা শোনা, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরা এবং জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রাণখোলা সংলাপ।
টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, সহকারী পুলিশ কমিশনার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মতবিনিময়ের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রশ্ন এবং গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির উত্তর ও বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস।
বক্তৃতার মঞ্চ নয়, প্রশ্নের মঞ্চ, একজনের পর একজন স্থানীয় বাসিন্দা দাঁড়িয়ে তাঁদের এলাকার বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কেউ জানতে চান মাদক কীভাবে বন্ধ হবে। কেউ জানতে চান ময়লা-আবর্জনার স্থায়ী সমাধান কী। কেউ বলেন কবরস্থান ছোট হয়ে গেছে। কেউ চান রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার। কেউ চান শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ। কেউ বলেন শিক্ষিত তরুণদের চাকরির সমস্যা। কেউ আবার হাজী পিয়ার আলী স্কুলের ভবনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রশ্নগুলো ছিল সরাসরি, কখনো আবেগঘন; আর উত্তর দেওয়ার সময়ও ছিল তাৎক্ষণিক। এ কারণেই আয়োজকদের দৃষ্টিতে চার ঘণ্টার এই আয়োজন শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং জনগণের সমস্যা সরাসরি শোনার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্ব পায়।
মাদক নিয়ে পুলিশের সরাসরি আশ্বাস, মাদক প্রসঙ্গে স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানালে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জনগণের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ জরুরি। সভায় পুলিশের এই সরাসরি বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
ময়লা-আবর্জনা নিয়ে জনপ্রতিনিধির জবাব, ময়লা ফেলা ও নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এম. মঞ্জুরুল করিম রনি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জনগণকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেললে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে। অর্থাৎ, পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে, এই বার্তাটিও সভায় উঠে আসে। কবরস্থান সম্প্রসারণের আশ্বাস, এলাকার কবরস্থান ছোট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়রা তুলে ধরলে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি প্রয়োজনীয় আবেদন করার পর বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। জায়গা কেনার প্রয়োজন হলে অনুদানের বিষয়টি দেখার কথাও তিনি বলেন। মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন নিয়েও তিনি সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। রাস্তা-ড্রেন ও খেলার মাঠ, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার প্রশ্নেরও উত্তর দেন এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় রাস্তা সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও অবকাঠামোগত কাজ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা তিনি জানান। অন্যদিকে খেলার মাঠের প্রশ্নে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরির উদ্যোগ ও বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরেন। শিশু-কিশোরদের মাঠের দাবি তাই শুধু বিনোদনের প্রশ্ন নয়, এটি একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রশ্ন হিসেবেও সভায় আলোচিত হয়।
চাকরির প্রশ্নে তরুণদের প্রত্যাশা, এলাকার নাম বা ঠিকানার কারণে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগও ওঠে। জবাবে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সভায় একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য তরুণদের প্রত্যাশাকে আরও সামনে নিয়ে আসে, রাজনীতি শুধু রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন নয়; কর্মসংস্থানও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা, হাজী পিয়ার আলী স্কুলের ভবনের সমস্যাও বাদ যায়নি। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয়রা স্কুল সংস্কারের দাবি জানান। এম. মঞ্জুরুল করিম রনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন এবং বরাদ্দের সুযোগ হলে স্কুলটির সংস্কারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
চার ঘণ্টা ধরে মানুষের সঙ্গে প্রাণখোলা কথা, বিকেল ৫টার পর শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নের পরিধিও বাড়তে থাকে। কেউ এসেছেন নিজের সমস্যা নিয়ে।, কেউ এসেছেন প্রতিবেশীর সমস্যা নিয়ে। কেউ এসেছেন এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে। নারীরাও নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। সাধারণ মানুষ সরাসরি কথা বলেছেন। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন। এই সরাসরি যোগাযোগই আয়োজনটির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে ওঠে।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম: মানুষের কথা বলার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ, এই মতবিনিময় সভার আয়োজনে ও স্থানীয় জনগণকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, যিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত, ভূমিকা রাখেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাঁর উদ্যোগে এলাকার সাধারণ মানুষ যেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সামনে নিজেদের কথা সরাসরি তুলে ধরতে পারেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, নারী, তরুণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন প্রশ্ন সরাসরি সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
জাহাঙ্গীর আলমের ভূমিকার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, মানুষের কথা শোনা এবং সেই কথাগুলো জনপ্রতিনিধির সামনে পৌঁছে দেওয়া। এম. মঞ্জুরুল করিম রনি: প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, সভায় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, জনগণের কথা সরাসরি শোনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মতবিনিময় বিভিন্ন এলাকায় হলে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে মানুষের কথা শুনতে এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে আগ্রহী। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল, জনগণের সমস্যাকে সামনে এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
একটি সন্ধ্যা, চার ঘণ্টা, স্মরণীয় এক জনসংলাপ, ১৮ সেপ্টেম্বরের সেই বিকেল ধীরে ধীরে সন্ধ্যায় পরিণত হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামে। কিন্তু মানুষের প্রশ্ন থামেনি। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলেছে প্রশ্ন, উত্তর, আলোচনা ও প্রত্যাশার বিনিময়। অনুষ্ঠানের তাৎপর্য এখানেই, এখানে মানুষ শুধু শুনতে আসেনি, বলতেও এসেছে। জনপ্রতিনিধি শুধু বক্তব্য দেননি, প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। পুলিশ শুধু নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেনি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। আর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুধু সংগঠনের কথা বলেনি, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সামনে আনার একটি মঞ্চ তৈরির চেষ্টা করেছে।
ইতিহাস কি এভাবেই তৈরি হয় ? একটি এলাকার ইতিহাস শুধু বড় বড় স্থাপনা কিংবা রাজনৈতিক মিছিল দিয়ে তৈরি হয় না। কখনো কখনো ইতিহাস তৈরি হয় মানুষের সাধারণ প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে। মাদক নিয়ে একজন মায়ের উদ্বেগ, রাস্তা নিয়ে একজন শ্রমজীবীর অভিযোগ, স্কুল নিয়ে একজন অভিভাবকের দাবি, মাঠ নিয়ে একজন কিশোরের স্বপ্ন, কবরস্থান নিয়ে একজন পরিবারের প্রয়োজন, এসবই একটি জনপদের জীবন্ত ইতিহাস।
১৮ সেপ্টেম্বর হাজী পিয়ার আলী স্কুল মাঠের চার ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় সেই জীবন্ত ইতিহাসেরই কিছু অধ্যায় উঠে এসেছে। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন সামনে, সভায় যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর কতটা বাস্তব সমাধান হয়। কারণ মানুষের প্রশ্নকে মঞ্চে জায়গা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাবকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। “করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগান তাই শুধু একটি অনুষ্ঠানের শিরোনাম নয়, এটি এখন বাস্তবায়নের প্রত্যাশা। মানুষ কথা বলেছে। জনপ্রতিনিধি উত্তর দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় নেতৃত্ব মানুষকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। এখন সময় সেই কথাগুলোকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার। জনতার প্রশ্ন থেকে যদি উন্নয়নের কাজ শুরু হয়, তবে ১৮ সেপ্টেম্বরের সেই চার ঘণ্টা একটি স্মরণীয় জনসংলাপ হিসেবে স্থানীয় ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চার ঘণ্টার জনসংলাপে মানুষের প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধির জবাব হাজী পিয়ার আলী স্কুল মাঠে ব্যতিক্রমী মতবিনিময় সভা ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা প্রশ্নোত্তর, প্রত্যাশা ও মানুষের সঙ্গে প্রাণখোলা সংলাপ

করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫টার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টঙ্গীর হাজী পিয়ার আলী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জনসংযোগ ও মতবিনিময় সভা। প্রায় চার ঘণ্টার এই আয়োজনে ছিল না শুধু বক্তৃতা; ছিল মানুষের কথা শোনা, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরা এবং জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রাণখোলা সংলাপ।
টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, সহকারী পুলিশ কমিশনার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মতবিনিময়ের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রশ্ন এবং গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির উত্তর ও বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস।
বক্তৃতার মঞ্চ নয়, প্রশ্নের মঞ্চ, একজনের পর একজন স্থানীয় বাসিন্দা দাঁড়িয়ে তাঁদের এলাকার বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কেউ জানতে চান মাদক কীভাবে বন্ধ হবে। কেউ জানতে চান ময়লা-আবর্জনার স্থায়ী সমাধান কী। কেউ বলেন কবরস্থান ছোট হয়ে গেছে। কেউ চান রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার। কেউ চান শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ। কেউ বলেন শিক্ষিত তরুণদের চাকরির সমস্যা। কেউ আবার হাজী পিয়ার আলী স্কুলের ভবনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রশ্নগুলো ছিল সরাসরি, কখনো আবেগঘন; আর উত্তর দেওয়ার সময়ও ছিল তাৎক্ষণিক। এ কারণেই আয়োজকদের দৃষ্টিতে চার ঘণ্টার এই আয়োজন শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং জনগণের সমস্যা সরাসরি শোনার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্ব পায়।
মাদক নিয়ে পুলিশের সরাসরি আশ্বাস, মাদক প্রসঙ্গে স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মাদকসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানালে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহকারী পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জনগণের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ জরুরি। সভায় পুলিশের এই সরাসরি বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
ময়লা-আবর্জনা নিয়ে জনপ্রতিনিধির জবাব, ময়লা ফেলা ও নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এম. মঞ্জুরুল করিম রনি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জনগণকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেললে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে। অর্থাৎ, পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে, এই বার্তাটিও সভায় উঠে আসে। কবরস্থান সম্প্রসারণের আশ্বাস, এলাকার কবরস্থান ছোট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়রা তুলে ধরলে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি প্রয়োজনীয় আবেদন করার পর বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। জায়গা কেনার প্রয়োজন হলে অনুদানের বিষয়টি দেখার কথাও তিনি বলেন। মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন নিয়েও তিনি সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। রাস্তা-ড্রেন ও খেলার মাঠ, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যার প্রশ্নেরও উত্তর দেন এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় রাস্তা সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও অবকাঠামোগত কাজ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা তিনি জানান। অন্যদিকে খেলার মাঠের প্রশ্নে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরির উদ্যোগ ও বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরেন। শিশু-কিশোরদের মাঠের দাবি তাই শুধু বিনোদনের প্রশ্ন নয়, এটি একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রশ্ন হিসেবেও সভায় আলোচিত হয়।
চাকরির প্রশ্নে তরুণদের প্রত্যাশা, এলাকার নাম বা ঠিকানার কারণে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগও ওঠে। জবাবে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সভায় একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য তরুণদের প্রত্যাশাকে আরও সামনে নিয়ে আসে, রাজনীতি শুধু রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন নয়; কর্মসংস্থানও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা, হাজী পিয়ার আলী স্কুলের ভবনের সমস্যাও বাদ যায়নি। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয়রা স্কুল সংস্কারের দাবি জানান। এম. মঞ্জুরুল করিম রনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন এবং বরাদ্দের সুযোগ হলে স্কুলটির সংস্কারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
চার ঘণ্টা ধরে মানুষের সঙ্গে প্রাণখোলা কথা, বিকেল ৫টার পর শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নের পরিধিও বাড়তে থাকে। কেউ এসেছেন নিজের সমস্যা নিয়ে।, কেউ এসেছেন প্রতিবেশীর সমস্যা নিয়ে। কেউ এসেছেন এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে। নারীরাও নিজেদের প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। সাধারণ মানুষ সরাসরি কথা বলেছেন। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন। এই সরাসরি যোগাযোগই আয়োজনটির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে ওঠে।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম: মানুষের কথা বলার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ, এই মতবিনিময় সভার আয়োজনে ও স্থানীয় জনগণকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, যিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত, ভূমিকা রাখেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাঁর উদ্যোগে এলাকার সাধারণ মানুষ যেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সামনে নিজেদের কথা সরাসরি তুলে ধরতে পারেন, এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, নারী, তরুণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন প্রশ্ন সরাসরি সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
জাহাঙ্গীর আলমের ভূমিকার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, মানুষের কথা শোনা এবং সেই কথাগুলো জনপ্রতিনিধির সামনে পৌঁছে দেওয়া। এম. মঞ্জুরুল করিম রনি: প্রশ্নের জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, সভায় গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, জনগণের কথা সরাসরি শোনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মতবিনিময় বিভিন্ন এলাকায় হলে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে মানুষের কথা শুনতে এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে আগ্রহী। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল, জনগণের সমস্যাকে সামনে এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
একটি সন্ধ্যা, চার ঘণ্টা, স্মরণীয় এক জনসংলাপ, ১৮ সেপ্টেম্বরের সেই বিকেল ধীরে ধীরে সন্ধ্যায় পরিণত হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামে। কিন্তু মানুষের প্রশ্ন থামেনি। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলেছে প্রশ্ন, উত্তর, আলোচনা ও প্রত্যাশার বিনিময়। অনুষ্ঠানের তাৎপর্য এখানেই, এখানে মানুষ শুধু শুনতে আসেনি, বলতেও এসেছে। জনপ্রতিনিধি শুধু বক্তব্য দেননি, প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। পুলিশ শুধু নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেনি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। আর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব শুধু সংগঠনের কথা বলেনি, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সামনে আনার একটি মঞ্চ তৈরির চেষ্টা করেছে।
ইতিহাস কি এভাবেই তৈরি হয় ? একটি এলাকার ইতিহাস শুধু বড় বড় স্থাপনা কিংবা রাজনৈতিক মিছিল দিয়ে তৈরি হয় না। কখনো কখনো ইতিহাস তৈরি হয় মানুষের সাধারণ প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে। মাদক নিয়ে একজন মায়ের উদ্বেগ, রাস্তা নিয়ে একজন শ্রমজীবীর অভিযোগ, স্কুল নিয়ে একজন অভিভাবকের দাবি, মাঠ নিয়ে একজন কিশোরের স্বপ্ন, কবরস্থান নিয়ে একজন পরিবারের প্রয়োজন, এসবই একটি জনপদের জীবন্ত ইতিহাস।
১৮ সেপ্টেম্বর হাজী পিয়ার আলী স্কুল মাঠের চার ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় সেই জীবন্ত ইতিহাসেরই কিছু অধ্যায় উঠে এসেছে। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন সামনে, সভায় যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর কতটা বাস্তব সমাধান হয়। কারণ মানুষের প্রশ্নকে মঞ্চে জায়গা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাবকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। “করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগান তাই শুধু একটি অনুষ্ঠানের শিরোনাম নয়, এটি এখন বাস্তবায়নের প্রত্যাশা। মানুষ কথা বলেছে। জনপ্রতিনিধি উত্তর দিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় নেতৃত্ব মানুষকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। এখন সময় সেই কথাগুলোকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার। জনতার প্রশ্ন থেকে যদি উন্নয়নের কাজ শুরু হয়, তবে ১৮ সেপ্টেম্বরের সেই চার ঘণ্টা একটি স্মরণীয় জনসংলাপ হিসেবে স্থানীয় ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে।