ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাছায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম রাউন্ড ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ

কাবাডির মাঠে নতুন বার্তা খেলাধুলায় ফিরুক তরুণ প্রজন্ম

md younus
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৮১ বার পড়া হয়েছে




মাঠজুড়ে উত্তেজনা, দর্শকদের করতালি, খেলোয়াড়দের দুরন্ত ছুটে চলা, সব মিলিয়ে গাজীপুরের গাছায় কাবাডির মাঠ যেন হয়ে উঠেছিল এক ভিন্ন সামাজিক মিলনমেলা। শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, ক্রীড়াঙ্গনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার একটি বার্তাও উঠে এসেছে এই আয়োজন থেকে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা এলাকায় অনুষ্ঠিত ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর প্রথম রাউন্ড ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। সম্প্রতি গাজীপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের বিভিন্ন পর্যায়ের আয়োজনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য তরুণদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা।
মাঠে পুলিশ-জনতার এক নতুন সংযোগ, খেলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। জিএমপির সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে পুলিশ কমিশনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় গাছা মেট্রো থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম রাব্বানীসহ পুলিশের কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গাছা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী আব্দুল জব্বার সরকার উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আরও উপস্থিত ছিলেন মো. ফারুক হোসেন খান, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
কাবাডির মাঠ থেকে যে বার্তা, কাবাডি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় খেলা। মাঠের এই খেলা কেবল শরীরচর্চা নয়, শৃঙ্খলা, দলগত সহযোগিতা, সাহস ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরিরও একটি মাধ্যম। গাজীপুরে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের মূল বার্তাতেও তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশার কথাও আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এমন আয়োজন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের বক্তব্য, খেলার মাঠ যত সক্রিয় হবে, তরুণদের অবসর সময় তত বেশি ইতিবাচক কাজে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
খেলাধুলার পাশে থাকার দাবি হাজী আব্দুল জব্বার সরকারের, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাজী আব্দুল জব্বার সরকার বিভিন্ন ফুটবল ও ক্রিকেটসহ ক্রীড়া আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ডেগেরচালা জামতলা ঐক্যবদ্ধ যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত সিনিয়র বনাম জুনিয়র ফুটবল ম্যাচে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জামতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত ওই খেলায় স্থানীয় তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনের জন্য ফুটবল, ক্রিকেটসহ ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সহযোগিতা করে থাকেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সহযোগিতার নির্দিষ্ট পরিমাণ বা ধারাবাহিকতার বিষয়ে কোনো স্বাধীন নথি এই প্রতিবেদনের জন্য যাচাই করা হয়নি।
মাঠের দাবি, একটি স্থায়ী খেলার জায়গা, খেলার মাঠের সংকটও উঠে এসেছে স্থানীয়দের কথায়। তাদের দাবি, নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলাধুলার জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ মাঠ প্রয়োজন। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, হাজী আব্দুল জব্বার সরকার খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি মাঠের ব্যবস্থা করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
একটি মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়, একটি এলাকার শিশু-কিশোরদের সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রও হতে পারে। মাঠ থাকলে সেখানে ফুটবল-ক্রিকেটের পাশাপাশি কাবাডি, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পুরস্কারের চেয়েও বড় হয়ে উঠুক অংশগ্রহণ, খেলায় একজন চ্যাম্পিয়ন হবে, একজন রানার্সআপ হবে, এটাই প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু একটি এলাকার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে আরও বেশি তরুণের মাঠে ফিরে আসা। স্থানীয় পর্যায়ের ক্রীড়া আয়োজনে যদি পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে অংশ নেয়, তাহলে মাঠকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। গাছার এই কাবাডি আয়োজন সেই সম্ভাবনার কথাই সামনে এনেছে।
ইতিহাসের পাতায় একটি খেলার দিন, একসময় পাড়া-মহল্লার বিকেল মানেই ছিল মাঠে ছুটে যাওয়া। বাঁশের খুঁটি, মাটির মাঠ আর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে শুরু হতো ফুটবল, কাবাডি কিংবা ক্রিকেট। সময় বদলেছে। শহর বড় হয়েছে, মাঠ কমেছে, ব্যস্ততা বেড়েছে। তবু খেলার প্রতি মানুষের টান কমেনি। গাছার কাবাডির মাঠে তাই শুধু খেলোয়াড়দের লড়াই হয়নি; সেখানে দেখা গেছে একটি সামাজিক প্রত্যাশাও, তরুণরা মাঠে থাকুক, সুস্থ থাকুক, মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকুক। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ধারণার সঙ্গে খেলাধুলার এই সংযোগ আরও বিস্তৃত হলে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও বাড়তে পারে। গাজীপুরের সাম্প্রতিক কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি আয়োজনেও এমন সামাজিক লক্ষ্য সামনে এসেছে। শেষ পর্যন্ত কাবাডির মাঠে জয়ের হিসাব থাকবে স্কোরবোর্ডে। কিন্তু সমাজের জন্য বড় জয় হবে তখনই, যখন একটি প্রজন্ম মাঠকে আপন করে নেবে, খেলাধুলাকে জীবনযাপনের অংশ করবে এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার অংশীদার হবে। মাঠ বাঁচুক, খেলা বাঁচুক, তার সঙ্গে বেড়ে উঠুক গাছার নতুন প্রজন্ম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাছায় কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম রাউন্ড ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ

কাবাডির মাঠে নতুন বার্তা খেলাধুলায় ফিরুক তরুণ প্রজন্ম

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাঠজুড়ে উত্তেজনা, দর্শকদের করতালি, খেলোয়াড়দের দুরন্ত ছুটে চলা, সব মিলিয়ে গাজীপুরের গাছায় কাবাডির মাঠ যেন হয়ে উঠেছিল এক ভিন্ন সামাজিক মিলনমেলা। শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, ক্রীড়াঙ্গনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার একটি বার্তাও উঠে এসেছে এই আয়োজন থেকে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা এলাকায় অনুষ্ঠিত ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর প্রথম রাউন্ড ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। সম্প্রতি গাজীপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের বিভিন্ন পর্যায়ের আয়োজনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য তরুণদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা।
মাঠে পুলিশ-জনতার এক নতুন সংযোগ, খেলার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। জিএমপির সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে পুলিশ কমিশনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় গাছা মেট্রো থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম রাব্বানীসহ পুলিশের কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গাছা থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাজী আব্দুল জব্বার সরকার উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আরও উপস্থিত ছিলেন মো. ফারুক হোসেন খান, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও গাছা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
কাবাডির মাঠ থেকে যে বার্তা, কাবাডি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় খেলা। মাঠের এই খেলা কেবল শরীরচর্চা নয়, শৃঙ্খলা, দলগত সহযোগিতা, সাহস ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরিরও একটি মাধ্যম। গাজীপুরে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের মূল বার্তাতেও তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশার কথাও আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এমন আয়োজন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের বক্তব্য, খেলার মাঠ যত সক্রিয় হবে, তরুণদের অবসর সময় তত বেশি ইতিবাচক কাজে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে।
খেলাধুলার পাশে থাকার দাবি হাজী আব্দুল জব্বার সরকারের, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাজী আব্দুল জব্বার সরকার বিভিন্ন ফুটবল ও ক্রিকেটসহ ক্রীড়া আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ডেগেরচালা জামতলা ঐক্যবদ্ধ যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত সিনিয়র বনাম জুনিয়র ফুটবল ম্যাচে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জামতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত ওই খেলায় স্থানীয় তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনের জন্য ফুটবল, ক্রিকেটসহ ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সহযোগিতা করে থাকেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সহযোগিতার নির্দিষ্ট পরিমাণ বা ধারাবাহিকতার বিষয়ে কোনো স্বাধীন নথি এই প্রতিবেদনের জন্য যাচাই করা হয়নি।
মাঠের দাবি, একটি স্থায়ী খেলার জায়গা, খেলার মাঠের সংকটও উঠে এসেছে স্থানীয়দের কথায়। তাদের দাবি, নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলাধুলার জন্য একটি স্থায়ী ও নিরাপদ মাঠ প্রয়োজন। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, হাজী আব্দুল জব্বার সরকার খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি মাঠের ব্যবস্থা করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
একটি মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়, একটি এলাকার শিশু-কিশোরদের সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রও হতে পারে। মাঠ থাকলে সেখানে ফুটবল-ক্রিকেটের পাশাপাশি কাবাডি, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পুরস্কারের চেয়েও বড় হয়ে উঠুক অংশগ্রহণ, খেলায় একজন চ্যাম্পিয়ন হবে, একজন রানার্সআপ হবে, এটাই প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু একটি এলাকার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে আরও বেশি তরুণের মাঠে ফিরে আসা। স্থানীয় পর্যায়ের ক্রীড়া আয়োজনে যদি পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে অংশ নেয়, তাহলে মাঠকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। গাছার এই কাবাডি আয়োজন সেই সম্ভাবনার কথাই সামনে এনেছে।
ইতিহাসের পাতায় একটি খেলার দিন, একসময় পাড়া-মহল্লার বিকেল মানেই ছিল মাঠে ছুটে যাওয়া। বাঁশের খুঁটি, মাটির মাঠ আর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে শুরু হতো ফুটবল, কাবাডি কিংবা ক্রিকেট। সময় বদলেছে। শহর বড় হয়েছে, মাঠ কমেছে, ব্যস্ততা বেড়েছে। তবু খেলার প্রতি মানুষের টান কমেনি। গাছার কাবাডির মাঠে তাই শুধু খেলোয়াড়দের লড়াই হয়নি; সেখানে দেখা গেছে একটি সামাজিক প্রত্যাশাও, তরুণরা মাঠে থাকুক, সুস্থ থাকুক, মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকুক। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ধারণার সঙ্গে খেলাধুলার এই সংযোগ আরও বিস্তৃত হলে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও বাড়তে পারে। গাজীপুরের সাম্প্রতিক কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি আয়োজনেও এমন সামাজিক লক্ষ্য সামনে এসেছে। শেষ পর্যন্ত কাবাডির মাঠে জয়ের হিসাব থাকবে স্কোরবোর্ডে। কিন্তু সমাজের জন্য বড় জয় হবে তখনই, যখন একটি প্রজন্ম মাঠকে আপন করে নেবে, খেলাধুলাকে জীবনযাপনের অংশ করবে এবং সুস্থ, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার অংশীদার হবে। মাঠ বাঁচুক, খেলা বাঁচুক, তার সঙ্গে বেড়ে উঠুক গাছার নতুন প্রজন্ম।