ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুর: টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদনগর বড় বাজারে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রধান কার্যালয় অবশেষে দখলমুক্ত হয়েছে

টঙ্গীতে ১৭ বছরের দখলমুক্ত কার্যালয়: স্বেচ্ছাসেবক দলের বিজয়

md younus
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৪১৪ বার পড়া হয়েছে




শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুক্ত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই পুনঃউদ্ধারকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কার্যালয় ছিল দৈর্ঘ্যে ৫০ ফুট ও প্রস্থে ২০ ফুট। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
২০১২ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ রশিদ ডেকারেটর অফিসটি অবৈধভাবে দখল করে দোকানঘর ও মার্কেট তৈরি করেন। রশিদের মৃত্যুর পর তার ছেলে ও ভাতিজারা দখল বজায় রাখেন এবং নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে বের করে দেন। নেতারা জানান, বহুবার থানায় অভিযোগ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও অভিযোগ সত্ত্বেও দ্রুত পদক্ষেপ হয়নি। তাই স্থানীয় নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে কার্যালয় দখলমুক্ত করেন।
মোঃ আলাউদ্দিন কন্ট্রাক্টর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, সংবাদ সম্মেলনে বলেন—“আমরা শুধু একটি অফিস ফিরে পাইনি, আমরা ফিরে পেয়েছি শহীদদের রক্তে লেখা ইতিহাস, আমাদের আন্দোলনের শক্তি। যারা এই অফিসে দখলদারত্ব চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রধান অতিথি, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম (সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদল ও ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতা) বলেন—“একটি পার্টি অফিস কখনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জনগণের জন্য এটি কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার হবে। আজ আমরা শুধু একটি কার্যালয় ফিরিয়ে আনিনি, আমরা গণতন্ত্রের শক্তিকে দৃঢ় করেছি।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, নারী, যুবক ও সাধারণ মানুষ মিলিত হয়ে আনন্দ উদযাপন করেন। ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, দোয়া মাহফিল ও মিষ্টি বিতরণে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ১ নং বড় বাজার কমিটির সভাপতি বাবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিরাজ মিয়া, ৪৯ নং ওয়ার্ড (সাবেক ১২ নং ওয়ার্ড) স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন কন্টাক্ট কর, বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু), ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল চৌধুরী, ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মজিবর মাষ্টার, ৪৯ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা রাবেয়া বেগম, দপ্তর সম্পাদিকা হালিমা আক্তার, ৪৯ নং ওয়ার্ড মহিলা দলনেত্রী ফাতেমা বেগম, লাইলী বেগম, মুক্তা, মায়া, ৩ নং ব্লক বিএনপি’র সভাপতি জিয়াউদ্দিন, ৪ নং ব্লক বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম, ২ নং ব্লক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনসুর কন্ট্রাক্টর, ৭ নং ব্লক বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক আমজাদ হোসেন, আহবায়ক সদস্য আব্দুল জলিল, ৪৯ নং ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, কসাই বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, মহিলা দল ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে উঠে আসে, দখলদারিত্ব মানি না—স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয় আমাদের আন্দোলনের আত্মা। যত দখল, তত প্রতিরোধ—বিএনপি হার মানে না। কার্যালয় নয়, এটি রক্ত-ঘামের প্রতীক—এই ইতিহাস কেউ মুছতে পারবে না। টঙ্গীর দুর্গ জনগণের দখলে—সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এভাবে টঙ্গীর মাটিতে দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রাম শেষ হলো বিজয়ের পদধ্বনিতে। কার্যালয় ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপি শুধু একটি অফিসই ফিরে পায়নি, বরং পুনর্গঠন করে আন্দোলনের শক্তি, ইতিহাসের আত্মা এবং গণতন্ত্রের অটুট বার্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাজীপুর: টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদনগর বড় বাজারে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রধান কার্যালয় অবশেষে দখলমুক্ত হয়েছে

টঙ্গীতে ১৭ বছরের দখলমুক্ত কার্যালয়: স্বেচ্ছাসেবক দলের বিজয়

আপডেট সময় : ০৪:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুক্ত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই পুনঃউদ্ধারকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কার্যালয় ছিল দৈর্ঘ্যে ৫০ ফুট ও প্রস্থে ২০ ফুট। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
২০১২ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ রশিদ ডেকারেটর অফিসটি অবৈধভাবে দখল করে দোকানঘর ও মার্কেট তৈরি করেন। রশিদের মৃত্যুর পর তার ছেলে ও ভাতিজারা দখল বজায় রাখেন এবং নেতাকর্মীদের হুমকি দিয়ে বের করে দেন। নেতারা জানান, বহুবার থানায় অভিযোগ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরও অভিযোগ সত্ত্বেও দ্রুত পদক্ষেপ হয়নি। তাই স্থানীয় নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে কার্যালয় দখলমুক্ত করেন।
মোঃ আলাউদ্দিন কন্ট্রাক্টর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, সংবাদ সম্মেলনে বলেন—“আমরা শুধু একটি অফিস ফিরে পাইনি, আমরা ফিরে পেয়েছি শহীদদের রক্তে লেখা ইতিহাস, আমাদের আন্দোলনের শক্তি। যারা এই অফিসে দখলদারত্ব চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রধান অতিথি, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম (সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদল ও ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র নেতা) বলেন—“একটি পার্টি অফিস কখনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জনগণের জন্য এটি কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার হবে। আজ আমরা শুধু একটি কার্যালয় ফিরিয়ে আনিনি, আমরা গণতন্ত্রের শক্তিকে দৃঢ় করেছি।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, নারী, যুবক ও সাধারণ মানুষ মিলিত হয়ে আনন্দ উদযাপন করেন। ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, দোয়া মাহফিল ও মিষ্টি বিতরণে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ১ নং বড় বাজার কমিটির সভাপতি বাবুল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিরাজ মিয়া, ৪৯ নং ওয়ার্ড (সাবেক ১২ নং ওয়ার্ড) স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন কন্টাক্ট কর, বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক মোঃ কামরুল ইসলাম (কামু), ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল চৌধুরী, ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মজিবর মাষ্টার, ৪৯ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা রাবেয়া বেগম, দপ্তর সম্পাদিকা হালিমা আক্তার, ৪৯ নং ওয়ার্ড মহিলা দলনেত্রী ফাতেমা বেগম, লাইলী বেগম, মুক্তা, মায়া, ৩ নং ব্লক বিএনপি’র সভাপতি জিয়াউদ্দিন, ৪ নং ব্লক বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম, ২ নং ব্লক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনসুর কন্ট্রাক্টর, ৭ নং ব্লক বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক আমজাদ হোসেন, আহবায়ক সদস্য আব্দুল জলিল, ৪৯ নং ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, কসাই বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, মহিলা দল ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে উঠে আসে, দখলদারিত্ব মানি না—স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয় আমাদের আন্দোলনের আত্মা। যত দখল, তত প্রতিরোধ—বিএনপি হার মানে না। কার্যালয় নয়, এটি রক্ত-ঘামের প্রতীক—এই ইতিহাস কেউ মুছতে পারবে না। টঙ্গীর দুর্গ জনগণের দখলে—সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এভাবে টঙ্গীর মাটিতে দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রাম শেষ হলো বিজয়ের পদধ্বনিতে। কার্যালয় ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিএনপি শুধু একটি অফিসই ফিরে পায়নি, বরং পুনর্গঠন করে আন্দোলনের শক্তি, ইতিহাসের আত্মা এবং গণতন্ত্রের অটুট বার্তা।