ধর্ম–রাজনীতি–সমাজের ত্রিমাত্রিক রূপ
এরশাদনগরের দিনভর সমাবেশ
- আপডেট সময় : ০৯:৪৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২১৩৭ বার পড়া হয়েছে

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এরশাদনগরের ৭ নং ব্লক যেন এক মহাকাব্যের মঞ্চ। কখনো আযানের সুর, কখনো কোরআন তেলাওয়াত, দুপুরে শান্তিপূর্ণ মিছিল, আসরের নামাজের পর মিটিং, আর গভীর রাতে অপরাধী ধরার প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে ধর্ম, রাজনীতি আর সমাজ একদিনে মিলেমিশে তৈরি করল এক অভিনব উপাখ্যান।
শান্তির সুর, প্রার্থনার আবহ, শুক্রবার ভোর থেকে মিনারের বাতাস যেন অন্যরকম। ৭ নং ব্লকের মসজিদে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। শিশুরা দৌড়ঝাঁপ করছে, বৃদ্ধরা ছিপি চশমা মুছছে—মনে হচ্ছিল, আজকের দিনটি বিশেষ কিছু বয়ে আনবে। সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদল ও ৪৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোঃ কামরুল ইসলাম কামু প্রস্তুত হয়ে আসেন মসজিদে। তিনি বলেন—“ধর্ম আর মানুষের কল্যাণ—এই দুইটাই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
খুতবার আগে মিম্বারের পাশে দাঁড়িয়ে কামু বলেন—“আকীদা হলো—যদি সৎ নিয়ত করেন, আল্লাহ তা পূরণ করেন। রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ।” মসজিদ ভরে যায় নীরব শ্রোতায়। তিনি সংযতভাবে যোগ করেন—“আমি দীর্ঘ বক্তব্য দিতে চাই না। শুধু চাই, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আপনাদের কল্যাণে কাজ করতে পারি।”
নামাজ শেষে: কবরস্থানে মোনাজাত ও সমাজসেবা জুম্মার নামাজ শেষে হাজারো মানুষ কবরস্থানে যান। মোনাজাত শেষে কামু প্রতিশ্রুতি দেন—কবর খননকারীদের জন্য সরঞ্জাম রাখার ও বিশ্রামের কক্ষ নির্মাণ, মসজিদের ভাঙা পানির মোটরের জন্য অনুদান, রিয়াজুল জান্নাহ দাফন-কাফন সংগঠনের সহায়তায় দাফন কার্যক্রমে স্থায়ী সহায়তা। মানুষ এককণ্ঠে বলে ওঠে—“কথা নয়, কাজ করছেন।”

জুম্মার নামাজ শেষে দুপুর আড়াইটা নাগাদ ঢেউয়ের মতো মানুষের স্রোত নেমে আসে রাস্তায়। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক মুখরিত হয় স্লোগানে— “জিয়ার সৈনিক এক হও!” “অমর হোক শহীদ জিয়া!” “ধানের শীষ জিন্দাবাদ!”
মীরাজ মাইকে নির্দেশ দেন—“শান্তি বজায় রাখুন, নির্দ্বিধায় এগোবেন।” এ যেন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজনৈতিক ঐক্যের জাগরণ। এক কথায় আওয়ামী লীগের মিছিল প্রতিরোধের সমাবেশ।
আসরের নামাজের পর ৭ নং ব্লকের জামে মসজিদের সামনে আবারও জমে ওঠে মানুষ। ইমাম মুফতি আব্দুল হক কোরআন তেলাওয়াত করেন, তারপরে মিলাদ ও দোয়া হয়। পরে বেরিবাঁধের ময়দানে মিটিং শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন নুরুল হক ফকির, ইসমাইল সরদার, আব্দুর রশিদ ভূইয়া, মোঃ জলিল খাঁ, লিটন হাফেজসহ অসংখ্য গণ্যমান্য ব্যক্তি। কামু মঞ্চে বলেন—“আওয়ামী লীগের কোনো সন্ত্রাসী মিছিল এখানে স্থান পাবে না। জনগণের নিরাপত্তাই আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি।” মিটিং শেষে মানুষ ছোট ছোট দলে বাড়ি ফিরলেও তাদের কণ্ঠে একই শপথ—“ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।” সন্ধ্যার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে নতুন নিরাপত্তার অনুভূতি।

রাত ১১টার দিকে আলমগীর নামের এক যুবককে স্থানীয়রা ছিনতাইকারী চক্রকে ধরে ফেলে। রহিমা নামের এক নারী ও রহিম নামের এক গাড়িচালকসহ কয়েকজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এলাকাবাসী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলে—“এভাবেই সমাজকে রক্ষা করতে হয়।”
এরশাদনগরের দিনটি ছিল এক অনন্য মিলনমেলা। ভোরে প্রার্থনা, দুপুরে মিছিল, বিকেলে মিটিং, রাতে অপরাধী ধরার প্রতিরোধ—সব মিলিয়ে ধর্ম, রাজনীতি ও সমাজের ত্রিমাত্রিক উপাখ্যান।
কামু শেষে বলেন—“শব্দে প্রতিশ্রুতি নয়, কাজে প্রমাণ চাই। আমি সেই কাজ করেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ আলাউদ্দিন কন্ট্রাক্টর (সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দল), মোঃ মিরাজ মিয়া (সাধারণ সম্পাদক ১নং ব্লক বড় বাজার পরিচালনা কমিটি), সহ-সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন মোল্লা, জয়েজন্ট সেক্রেটারী আব্দুল জলিল, হালিমা আক্তার (দপ্তর সম্পাদক), টঙ্গী পূর্ব থানা, ফাতেমা বেগম, লাইলী বেগম, মুক্তা, মায়া, সূর্যবানু (মহিলা দল), নুরুল ইসলাম (সভাপতি, ৪ নং ব্লক বিএনপি), মুনসুর কন্ট্রাক্টর (সাধারণ সম্পাদক, ২ নং ব্লক বিএনপি), শাহ আলম (সাধারণ সম্পাদক, ৭ নং ব্লক বিএনপি), মোঃ মামুন সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ৭ নং ব্লক,
মোঃ রতন (যুবদল সদস্য), মোঃ শাহ আলম (সাবেক সভাপতি, ওয়ার্ড বিএনপি), নূর ইসলাম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক), শাহজাহান (সাবেক যয়েন্ট সেক্রেটারি, যুবদল), মোঃ কামাল (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোঃ ফারুক আহমেদ (যুবদল, ৪ নং ব্লক), শাহজাহান মিয়া (প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, যুবদল), মোঃ মতিন মিয়া (প্রভাবশালী নেতা, বিএনপি) প্রমুখ।












