ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের কার্যক্রম শুরু

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • / ২১১৮ বার পড়া হয়েছে




বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) পূর্ণাঙ্গ মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। তিন বছর মেয়াদি এই মিশন চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই ১৬টি দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ পূর্ণাঙ্গ ম্যান্ডেট নিয়ে সরাসরি কান্ট্রি অফিস পরিচালনা করে। অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে—মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ফিলিস্তিন, গিনি, হন্ডুরাস, লাইবেরিয়া, সিরিয়া, নাইজার ও মৌরিতানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রসমূহ।
জাতিসংঘের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং অতীতে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তদন্তে জাতিসংঘ একটি সমন্বিত তথ্যানুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, “বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার রয়েছে, এই মিশনের সূচনা তারই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। এটি আমাদের কার্যালয়কে পূর্বে করা সুপারিশ বাস্তবায়নে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারবে। পাশাপাশি সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।”
এই মিশনের অধীনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা দেবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়তার পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও অন্যান্য অংশীজনের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে, ওএইচসিএইচআরের বাংলাদেশ মিশন স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় একটি উপদেষ্টা পরিষদ, যার সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এসব কান্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে করে জাতিসংঘ সরাসরি ভুক্তভোগী, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানবাধিকার সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে এই নতুন মিশনের শুরু মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এই কার্যক্রম দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের কার্যক্রম শুরু

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) পূর্ণাঙ্গ মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। তিন বছর মেয়াদি এই মিশন চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) জেনেভা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই ১৬টি দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যেখানে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ পূর্ণাঙ্গ ম্যান্ডেট নিয়ে সরাসরি কান্ট্রি অফিস পরিচালনা করে। অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে—মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ফিলিস্তিন, গিনি, হন্ডুরাস, লাইবেরিয়া, সিরিয়া, নাইজার ও মৌরিতানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রসমূহ।
জাতিসংঘের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং অতীতে সংঘটিত সহিংস ঘটনার তদন্তে জাতিসংঘ একটি সমন্বিত তথ্যানুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, “বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার যে অঙ্গীকার রয়েছে, এই মিশনের সূচনা তারই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। এটি আমাদের কার্যালয়কে পূর্বে করা সুপারিশ বাস্তবায়নে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারবে। পাশাপাশি সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।”
এই মিশনের অধীনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা দেবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়তার পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও অন্যান্য অংশীজনের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে, ওএইচসিএইচআরের বাংলাদেশ মিশন স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় একটি উপদেষ্টা পরিষদ, যার সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এসব কান্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে করে জাতিসংঘ সরাসরি ভুক্তভোগী, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানবাধিকার সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে এই নতুন মিশনের শুরু মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এই কার্যক্রম দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।