টঙ্গীতে টাস্কফোর্স অভিযানে তিনটি অবৈধ পলিথিন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রায় ৩ টন কাঁচামাল জব্দ
- আপডেট সময় : ১০:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
- / ২১১৮ বার পড়া হয়েছে

টঙ্গীতে বারবার সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আজ বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী টঙ্গীতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানে তিনটি অবৈধ পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরির কারখানা এবং একটি অবৈধ সুতা রং কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈদ্যুতিক মিটার ও সার্ভিস তার জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে এসব কারখানার মালিক বা কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নিয়মিত মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন টঙ্গী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইদুজ্জামান হিমু। প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের রিসার্চ অফিসার মোঃ মকবুল হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আরেফিন বাদল, পরিদর্শক সঞ্জিত বিশ্বাস ও নুরুল আমিন প্রধান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা।

জব্দকৃত মালামাল, অভিযানের সময় বড়দরা এলাকার ‘মায়ের দোয়া প্লাস্টিক’ নামের এক কারখানা থেকে ১১০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন এবং ২২০ কেজি পিপি দানা জব্দ করা হয়। এ সময় স্থানীয় সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন মিয়া (পিতা: খুরশিদ মিয়া, ময়মনসিংহ রোড) ও মোহাম্মদ আনোয়ার আলী (পিতা: মোঃ হাসেম, কিশোরগঞ্জ)।
আরেকটি জব্দ অভিযান চালানো হয় চেরাগ আলী বেক্সিম রোডের ‘মারফত এন্টারপ্রাইজ’ নামের কারখানায়। সেখান থেকে ২০০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন এবং ২,০৬০ কেজি পিপি দানা জব্দ করা হয়। জব্দের সময় সাক্ষী ছিলেন জিহাদ (পিতা: শাহজাহান), ফুলমিয়া (পিতা: মোঃ মন্টু মিয়া, বেলকুচি, দৌলতপুর)।
জব্দকৃত মালামাল মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ১২(২), ১২(৩) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
পূর্ব সতর্কতা ও প্রশাসনিক অবস্থান, অভিযুক্ত কারখানাগুলোকে ইতিপূর্বে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কারখানাগুলোতে গিয়ে কাগজপত্র দিয়ে নিষিদ্ধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু কোনো মালিকপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ফলে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, “এ ধরনের অবৈধ ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো ধরনের অনুমোদন বা অনাপত্তিপত্র (NOC) ব্যতিরেকে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাবে না। কেউ অবৈধভাবে পুনরায় কারখানা চালু করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











