নেতৃত্বে মানবিকতা, অভিজ্ঞতায় দৃঢ়তা
আরিফ হোসেন হাওলাদারের সংগ্রামী রাজনৈতিক যাত্রা
- আপডেট সময় : ১০:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
- / ২১২২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন কিছু নেতার নাম পাওয়া যায়, যাঁরা শুধু মিছিল-মিটিংয়ে দৃশ্যমান নন—সংগঠন, মানবতা ও দূরদর্শিতার বাস্তব রূপে পরিণত হয়েছেন। তেমনই একজন নেতা হচ্ছেন টঙ্গী ও গাজীপুরের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মানবিক মনোভাব তাঁকে আজ দলীয় কর্মীদের জন্য শুধু একজন উচ্চপদস্থ নেতা নয়, বরং একজন প্রজ্ঞাবান অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
টঙ্গী সরকারি কলেজে পড়াকালীন সময় থেকে তাঁর রাজনীতির শুরু। ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে রাজপথে সাহসিকতার সঙ্গে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। বারবার মামলা-হামলার সম্মুখীন হয়েও রাজনীতি থেকে পিছু হটেননি। বরং সময়ের সাথে নিজেকে সংগঠিত করে এগিয়ে গেছেন। বছরের পর বছর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সাংগঠনিক দক্ষতা ও আদর্শের ভিত্তিতে নিজেকে তৈরি করেছেন একজন যোগ্য নেতৃত্বে।
দলের বিপদ-আপদে কখন কী করতে হয়, কাকে কোথায় দাঁড়াতে হবে, কোথায় সংযম এবং কোথায় সোচ্চার হতে হবে—এসব বিষয়ে আরিফ হাওলাদারের বিশ্লেষণ ও দিকনির্দেশনা কর্মীদের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনায় পরিণত হয়েছে। তিনি জানেন এলাকার প্রতিটি রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি। কারা কোথায় কীভাবে সক্রিয়, কারা পেছন থেকে চালনা করছে, কোন কর্মী কখন আস্থাহীন হয়ে পড়ছে—সবই তাঁর চোখ এড়িয়ে যায় না। তবুও তিনি শোরগোল না করে পরিস্থিতি বুঝে, মুখে শান্তির হাসি ধরে রেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।
বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড সকলকে অনুপ্রাণিত করে। অসহায় পরিবারে খাদ্য বিতরণ, অসুস্থ কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, কর্মহীনদের বস্ত্র-চিকিৎসা সহায়তা, এমনকি কারাবন্দী নেতাকর্মীদের পরিবারকে নিয়মিত খোঁজখবর—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন মানুষের কাছে আশ্রয়স্থল। মানবিকতা যেন তার রাজনৈতিক চিন্তার মূল ভিত্তি।
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় দৃঢ়, আবেগপ্রবণ হলেও বিচক্ষণ। অনেক সময় আবেগে নরম ভঙ্গিমায় থাকলেও প্রয়োজন হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন না। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তেই থাকে বাস্তবতা, দায়িত্ববোধ ও সততার ছাপ। কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়—সেটি আত্মিক। তিনি কখনো উচ্চস্বরে নিজের উপস্থিতি জানান দেন না, কিন্তু তাঁর আচরণ, পরিকল্পনা ও সহমর্মিতাই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
সংগঠনের প্রতিটি স্তর, বিশেষ করে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে তিনি নিরলস কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেওয়া, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা এবং সংকটকালে সবার পাশে দাঁড়ানো—এসবই তাঁর প্রতিদিনের কাজের অংশ। রাজনীতিকে তিনি দেখেন দায়বদ্ধতা ও জনসেবার বড় মাধ্যম হিসেবে।
সংগঠনের অভ্যন্তরে অনেক সময় মতবিরোধ, ভাঙন কিংবা বিভ্রান্তি দেখা দিলেও তিনি ছিলেন এবং আছেন এককথায় ঐক্যের কণ্ঠস্বর। কর্মীদের মধ্যে যখন হতাশা ও দিকভ্রান্তি দেখা দেয়, তখন তাঁর দেওয়া পরিকল্পনা, নীরবভাবে গঠিত দিকনির্দেশনা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো অনেক নেতার তুলনায় ভিন্ন এক উচ্চতায় তাঁকে নিয়ে গেছে।
আজকের সময়ে যখন রাজনীতি অনেকাংশে বাণিজ্যিক ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, তখন আরিফ হাওলাদারের মতো নেতৃত্ব থাকা মানে শুধু দলের জন্য নয়, সমাজের জন্যও এক আশার আলো। তৃণমূল কর্মীদের ভালোবাসা, নেতৃবৃন্দের আস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মান তিনি অর্জন করেছেন অকৃত্রিম সেবার মাধ্যমে। তাঁর রাজনীতি আদর্শভিত্তিক, দায়িত্বনিষ্ঠ এবং মানবিকতার ছাপে গড়া।
আরিফ হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষার ক্ষেত্র। তিনি রাজনীতিকে দেখেছেন সেবার মাধ্যম হিসেবে, নেতৃত্বকে দেখেছেন দায়িত্ব হিসেবে। বছরের পর বছর যে সংগ্রাম, যে দুঃসাহসিকতা, যে সততা এবং যে মানবিকতা তিনি বহন করেছেন—তা তাঁকে করে তুলেছে গাজীপুর ও টঙ্গীর কান্ডারী। আজকের রাজনীতিতে এমন অভিজ্ঞ, দূরদর্শী এবং মানবিক নেতৃত্ব আরও বেশি প্রয়োজন।





















