মানুষকে বিনামূল্যে গাছ উপহার দেওয়ার উদ্যোগে ধাক্কা; ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো চারা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সমাজের সহযোগিতা কামনা
সবুজ স্বপ্নে আঘাত: আজমত উল্লাহ মাস্টারের নার্সারিতে ভাঙচুরের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ১৬৬০ বার পড়া হয়েছে

টঙ্গী-গাজীপুরে বৃক্ষরোপণ ও কৃষকবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচিত মুখ মোঃ আজমত উল্লাহ মাস্টার-এর স্বপ্নের নার্সারিতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করে গড়ে তোলা ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের শত শত চারা এক রাতেই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, কিছু দুর্বৃত্ত গভীর রাতে নার্সারিতে ঢুকে আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, লেবু, লিচু, মেহগনি ও অন্যান্য মূল্যবান গাছের চারা ভেঙে ফেলে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। এতে তিনি আর্থিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি ভেঙে পড়েছে মানুষের জন্য গড়ে তোলা তার একটি মানবিক উদ্যোগ।
আজমত উল্লাহ মাস্টার জানান, মানুষের মাঝে বিনামূল্যে গাছ বিতরণ, কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এই নার্সারি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি তো কারও ক্ষতি করিনি। মানুষের ঘরে ঘরে গাছ পৌঁছে দিতে, শিশু-কিশোরদের গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে এবং একটি সবুজ সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই এই নার্সারি করেছি। কিন্তু যারা এই চারাগুলো ভেঙে দিয়েছে, তারা কেন এমন করল আমি বুঝতে পারছি না।”
তার আরও দাবি, স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ তাকে জানিয়েছেন যে, যেখানে তিনি নার্সারি গড়ে তুলেছিলেন সেটি পূর্বে কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে এ বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি-এর “ফুল নয়, একটি গাছ উপহার দিন” আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে আজমত উল্লাহ মাস্টার দীর্ঘদিন ধরে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে গবাদিপশু বিতরণ, পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিশুদের হাতে-কলমে বৃক্ষরোপণের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও করে যাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করা কেবল একজন মানুষের ক্ষতি নয়, বরং পরিবেশ ও সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগেরও ক্ষতি। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারি পুনর্গঠনে সহায়তা এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজমত উল্লাহ মাস্টার বলেন, “গাছগুলো শুধু চারা ছিল না, এগুলো ছিল মানুষের জন্য আমার ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আমি চাই আবার নতুন করে শুরু করতে। সমাজের সচেতন মানুষ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে এই ক্ষতি কাটিয়ে আবারও হাজারো মানুষের হাতে সবুজের উপহার তুলে দিতে পারব।”
একটি ভাঙা চারা আবার রোপণ করা যায়, কিন্তু একটি ভালো উদ্যোগ ভেঙে পড়লে তার ক্ষতি সমাজকেই বহন করতে হয়। তাই পরিবেশ, মানবিকতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এমন উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।




















