ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সত্যের সন্ধানে সাধনার সুর একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন রাত জাগা এক মানুষ, নিরাপদ পাড়ার স্বপ্ন সত্যকে শর্ত, সেবাকে অঙ্গীকার সংগ্রাম থেকে সেবার শপথ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা গড়তে শফিকুল ইসলাম শফিক দোয়ার সাগরে বিদায় পবিত্র ভূমির পথে শেখ মোঃ সুমন “একজনকে হারিয়েছে টঙ্গী, আরেকজনের জীবন থমকে আছে কারাগারে” বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের জন্য আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের লড়াই ঐক্যের শক্তিতে তারুণ্যের অগ্রযাত্রা শেখ মোঃ সুমনের ভাবনায় যুবসমাজ ও মানবিক রাজনীতি কারামুক্তি দিবসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বেনজির রহমান খান পিন্টুর সংগ্রামী শুভেচ্ছা আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী

দাড়াইলে বাবা বাউল চাঁন ফকিরের ৩৫তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ওরশ

সত্যের সন্ধানে সাধনার সুর

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৭৬ বার পড়া হয়েছে




“সত্য আজ সমাগত, মিথ্যা অবনত, সত্যের বিজয় চিরস্থায়ী।” আধ্যাত্মিক সাধনা, বাউল দর্শন, মানবপ্রেম ও লোকজ সংস্কৃতির এক দীর্ঘ ঐতিহ্যকে ধারণ করে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার দাড়াইল গ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পীরানে পীর, পীর দস্তগীর শাহ, সুফি সাধক, কবি ও পীরে কামেল হযরত বাবা বাউল চাঁন ফকিরের ৩৫তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ওরশ মোবারক। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার, বাংলা ২, ৩ ও ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ উপলক্ষে দাড়াইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দরবার প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাধনা, দর্শন ও মানবপ্রেমের মিলনমেলা, “ত্বরীকা নূরে মোহাম্মদীয়া-বাউলী দরবার শরীফ” স্থাপিত ১৩৩৬ বঙ্গাব্দকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ভক্ত, আশেকান, জাকেরান ও এলাকাবাসীর মধ্যে যে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে উঠেছে, এবারের ওরশ সেই ধারাবাহিকতারই একটি আয়োজন। দাওয়াতপত্রে বাউল চাঁনের সাধনা ও দর্শনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি পংক্তি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তৌহিদের বাণী, আল্লাহর অস্তিত্বের উপলব্ধি, আত্মজিজ্ঞাসা, মারফত ও আত্মার মিলনের মতো আধ্যাত্মিক ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বাউল চাঁনের রচনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাওয়াতপত্রে প্রচারিত আরেকটি ভাববাণীতে বলা হয়েছে,
“যার মনে যারে চায়,
তারে ভালবাস
শুদ্ধ মনে নিত্য জানি
তার কাছে আস।
সে চায় না কিছু, চায় শুধু হাসিমুখ—
বিস্তৃত না হয় যেন হই-পরলোক।”
এসব বাণীর মধ্য দিয়ে প্রেম, মানবতা, আত্মশুদ্ধি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি আধ্যাত্মিক অন্বেষণের একটি ভাবধারা তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার বাউল ও সুফি-ফকিরি ধারায় গান, সাধনা, গুরু-শিষ্য সম্পর্ক এবং লোকজ সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষণামূলক বিভিন্ন লেখাতেও বাউল-ফকিরি সংস্কৃতির সঙ্গে মরমি সাধনা ও লোকজ সংগীতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। তিন দিনের কর্মসূচিতে দোয়া, মাহফিল ও বাউল গান, আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন বাদ মাগরিব দোয়া, মাহফিল ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। রাত ১০টা থেকে থাকবে বাউল গান ও আধ্যাত্মিক সংগীতের আসর। দাড়াইলের মাজার প্রাঙ্গণকে ঘিরে তিন দিনের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত, আশেকান-জাকেরান ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। প্রতিবছরের মতো এবারও মহাসমারোহে এ ওরশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভক্ত-অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের স্ববান্ধবে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। “ছোটবেলা থেকেই অনুষ্ঠানটি দেখে আসছি” মনোয়ার হোসেন খোকন, দাড়াইলের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান দেখে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা-দাদার সময় থেকেও এ আয়োজনের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, দাড়াইলের এই আয়োজন শুধু স্থানীয় মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন। খোকন আরও বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
অতিথিদের তালিকায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা, আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গাজীপুর মহানগর বিএনপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য, গাজীপুর-২ আসনকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন মোঃ শওকত হোসেন সরকার, প্রশাসক, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এবং সভাপতি, গাজীপুর মহানগর বিএনপি। এছাড়া অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন আলহাজ্ব রাকিব উদ্দিন সরকার (পাপ্পু), সাবেক ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর; প্রভাষক বশির উদ্দিন, আহ্বায়ক, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি; মাহবুব আলম শুক্কুর, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর; এবং সাজেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন মোঃ কামরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন (খোকন) এবং উদ্বোধক হিসেবে রয়েছেন আলহাজ্ব শাহ মোঃ নাসির উদ্দিন নাসু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, চেয়ারম্যান, উত্তরা প্রবতন সিটি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন আলমগীর হোসেন ভাসানী, যুগ্ম আহ্বায়ক, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল। দরবার শরীফের পক্ষ থেকে আবুল হোসেন মাতবর, সেক্রেটারি, বাউল চাঁন দরবার শরীফ ও সহ-সভাপতি, ৫২নং ওয়ার্ড বিএনপি, সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আয়োজনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
একটি গ্রামের আয়োজন, বিস্তৃত মানুষের মিলন, দাড়াইলের এই ওরশকে স্থানীয়রা শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক অংশগ্রহণের একটি ক্ষেত্র হিসেবেও দেখে থাকেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, প্রকৌশলী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভক্তবৃন্দ ও আশেকান-জাকেরান”-এর সম্মিলিত উদ্যোগেই এ আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্ম, সময় বদলেছে, নগর বিস্তৃত হয়েছে, দাড়াইলের চারপাশেও বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। কিন্তু মানুষের স্মৃতি, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান, লোকসংগীত ও স্থানীয় ঐতিহ্যের কিছু ধারা এখনো টিকে আছে। বাবা বাউল চাঁন ফকিরের ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই ওরশ সেই স্মৃতি ও ঐতিহ্যের একটি ধারাবাহিক প্রকাশ, এমনটাই মনে করেন আয়োজক ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা। বাংলার মরমি সংগীত ও বাউল সংস্কৃতিতে মানুষের অন্তর্জগত, আত্মশুদ্ধি, প্রেম ও সৃষ্টিকর্তার সন্ধানের বিষয় বহুদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। আজকের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও যখন মানুষ শেকড় ও ঐতিহ্যের সন্ধান করে, তখন দাড়াইলের এই আয়োজন স্থানীয় ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক চর্চার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠছে।
দাওয়াত সবার জন্য, আয়োজকদের পক্ষ থেকে গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে ওরশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এ আয়োজনে ভক্ত, সাধক, বাউলপ্রেমী, স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলিত হবেন। দোয়া, মাহফিল, তবারক বিতরণ ও বাউল গানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে হযরত বাবা বাউল চাঁন ফকিরকে। দাড়াইলের মাটিতে তাই আবারও উঠবে আধ্যাত্মিক গানের সুর, বসবে মানুষের মিলনমেলা। অতীতের সাধনা, বর্তমানের মানুষের অংশগ্রহণ আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন হয়ে উঠবে স্মৃতি ও সংস্কৃতির এক মিলনক্ষেত্র, এমন প্রত্যাশাই আয়োজকদের।
আয়োজনে: ওরশ উদযাপন কমিটি, প্রিয় এলাকাবাসী, ভক্তবৃন্দ ও আশেকান-জাকেরান। স্থান: মাজার প্রাঙ্গণ, দাড়াইল, সাতাইশ, টঙ্গী পশ্চিম থানা, গাজীপুর মহানগর। তারিখ: ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার। কর্মসূচি: বাদ মাগরিব দোয়া, মাহফিল ও তবারক বিতরণ; রাত ১০টা থেকে বাউল গান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দাড়াইলে বাবা বাউল চাঁন ফকিরের ৩৫তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ওরশ

সত্যের সন্ধানে সাধনার সুর

আপডেট সময় : ১০:৪৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

“সত্য আজ সমাগত, মিথ্যা অবনত, সত্যের বিজয় চিরস্থায়ী।” আধ্যাত্মিক সাধনা, বাউল দর্শন, মানবপ্রেম ও লোকজ সংস্কৃতির এক দীর্ঘ ঐতিহ্যকে ধারণ করে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার দাড়াইল গ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পীরানে পীর, পীর দস্তগীর শাহ, সুফি সাধক, কবি ও পীরে কামেল হযরত বাবা বাউল চাঁন ফকিরের ৩৫তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ওরশ মোবারক। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার, বাংলা ২, ৩ ও ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ উপলক্ষে দাড়াইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দরবার প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাধনা, দর্শন ও মানবপ্রেমের মিলনমেলা, “ত্বরীকা নূরে মোহাম্মদীয়া-বাউলী দরবার শরীফ” স্থাপিত ১৩৩৬ বঙ্গাব্দকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ভক্ত, আশেকান, জাকেরান ও এলাকাবাসীর মধ্যে যে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে উঠেছে, এবারের ওরশ সেই ধারাবাহিকতারই একটি আয়োজন। দাওয়াতপত্রে বাউল চাঁনের সাধনা ও দর্শনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি পংক্তি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তৌহিদের বাণী, আল্লাহর অস্তিত্বের উপলব্ধি, আত্মজিজ্ঞাসা, মারফত ও আত্মার মিলনের মতো আধ্যাত্মিক ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বাউল চাঁনের রচনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাওয়াতপত্রে প্রচারিত আরেকটি ভাববাণীতে বলা হয়েছে,
“যার মনে যারে চায়,
তারে ভালবাস
শুদ্ধ মনে নিত্য জানি
তার কাছে আস।
সে চায় না কিছু, চায় শুধু হাসিমুখ—
বিস্তৃত না হয় যেন হই-পরলোক।”
এসব বাণীর মধ্য দিয়ে প্রেম, মানবতা, আত্মশুদ্ধি ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি আধ্যাত্মিক অন্বেষণের একটি ভাবধারা তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার বাউল ও সুফি-ফকিরি ধারায় গান, সাধনা, গুরু-শিষ্য সম্পর্ক এবং লোকজ সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষণামূলক বিভিন্ন লেখাতেও বাউল-ফকিরি সংস্কৃতির সঙ্গে মরমি সাধনা ও লোকজ সংগীতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। তিন দিনের কর্মসূচিতে দোয়া, মাহফিল ও বাউল গান, আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন বাদ মাগরিব দোয়া, মাহফিল ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। রাত ১০টা থেকে থাকবে বাউল গান ও আধ্যাত্মিক সংগীতের আসর। দাড়াইলের মাজার প্রাঙ্গণকে ঘিরে তিন দিনের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত, আশেকান-জাকেরান ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। প্রতিবছরের মতো এবারও মহাসমারোহে এ ওরশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভক্ত-অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের স্ববান্ধবে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। “ছোটবেলা থেকেই অনুষ্ঠানটি দেখে আসছি” মনোয়ার হোসেন খোকন, দাড়াইলের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান দেখে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা-দাদার সময় থেকেও এ আয়োজনের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, দাড়াইলের এই আয়োজন শুধু স্থানীয় মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন। খোকন আরও বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
অতিথিদের তালিকায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা, আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গাজীপুর মহানগর বিএনপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য, গাজীপুর-২ আসনকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন মোঃ শওকত হোসেন সরকার, প্রশাসক, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এবং সভাপতি, গাজীপুর মহানগর বিএনপি। এছাড়া অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন আলহাজ্ব রাকিব উদ্দিন সরকার (পাপ্পু), সাবেক ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর; প্রভাষক বশির উদ্দিন, আহ্বায়ক, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি; মাহবুব আলম শুক্কুর, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর; এবং সাজেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন মোঃ কামরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন (খোকন) এবং উদ্বোধক হিসেবে রয়েছেন আলহাজ্ব শাহ মোঃ নাসির উদ্দিন নাসু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, চেয়ারম্যান, উত্তরা প্রবতন সিটি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন আলমগীর হোসেন ভাসানী, যুগ্ম আহ্বায়ক, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল। দরবার শরীফের পক্ষ থেকে আবুল হোসেন মাতবর, সেক্রেটারি, বাউল চাঁন দরবার শরীফ ও সহ-সভাপতি, ৫২নং ওয়ার্ড বিএনপি, সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আয়োজনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
একটি গ্রামের আয়োজন, বিস্তৃত মানুষের মিলন, দাড়াইলের এই ওরশকে স্থানীয়রা শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক অংশগ্রহণের একটি ক্ষেত্র হিসেবেও দেখে থাকেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, প্রকৌশলী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভক্তবৃন্দ ও আশেকান-জাকেরান”-এর সম্মিলিত উদ্যোগেই এ আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে।
ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্ম, সময় বদলেছে, নগর বিস্তৃত হয়েছে, দাড়াইলের চারপাশেও বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। কিন্তু মানুষের স্মৃতি, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান, লোকসংগীত ও স্থানীয় ঐতিহ্যের কিছু ধারা এখনো টিকে আছে। বাবা বাউল চাঁন ফকিরের ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই ওরশ সেই স্মৃতি ও ঐতিহ্যের একটি ধারাবাহিক প্রকাশ, এমনটাই মনে করেন আয়োজক ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা। বাংলার মরমি সংগীত ও বাউল সংস্কৃতিতে মানুষের অন্তর্জগত, আত্মশুদ্ধি, প্রেম ও সৃষ্টিকর্তার সন্ধানের বিষয় বহুদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। আজকের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও যখন মানুষ শেকড় ও ঐতিহ্যের সন্ধান করে, তখন দাড়াইলের এই আয়োজন স্থানীয় ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক চর্চার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠছে।
দাওয়াত সবার জন্য, আয়োজকদের পক্ষ থেকে গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে ওরশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, তিন দিনের এ আয়োজনে ভক্ত, সাধক, বাউলপ্রেমী, স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলিত হবেন। দোয়া, মাহফিল, তবারক বিতরণ ও বাউল গানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে হযরত বাবা বাউল চাঁন ফকিরকে। দাড়াইলের মাটিতে তাই আবারও উঠবে আধ্যাত্মিক গানের সুর, বসবে মানুষের মিলনমেলা। অতীতের সাধনা, বর্তমানের মানুষের অংশগ্রহণ আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন হয়ে উঠবে স্মৃতি ও সংস্কৃতির এক মিলনক্ষেত্র, এমন প্রত্যাশাই আয়োজকদের।
আয়োজনে: ওরশ উদযাপন কমিটি, প্রিয় এলাকাবাসী, ভক্তবৃন্দ ও আশেকান-জাকেরান। স্থান: মাজার প্রাঙ্গণ, দাড়াইল, সাতাইশ, টঙ্গী পশ্চিম থানা, গাজীপুর মহানগর। তারিখ: ১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার। কর্মসূচি: বাদ মাগরিব দোয়া, মাহফিল ও তবারক বিতরণ; রাত ১০টা থেকে বাউল গান।