ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

টঙ্গীতে শ্রমিক মাহফুজ হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়কে মানববন্ধন: ছিনতাই বন্ধে জনদাবি ও ছাত্রসমাজের হুঁশিয়ারি

md younus
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / ২১২৬ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420




গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মাহফুজুর রহমান (১৯) নামের এক তরুণ ছাত্রের নির্মম হত্যাকাণ্ডে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের এই শিক্ষার্থী পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং পড়ালেখার খরচ চালাতেন নিজের আয় থেকেই। এই হত্যা শুধু একটি জীবনকে নিভিয়ে দেয়নি—উন্মোচন করেছে পুরো শহরের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র।
এ ঘটনার বিচার এবং টঙ্গীতে ছিনতাই-সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থায়ী নিরাপত্তার দাবিতে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজগেট এলাকায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘টঙ্গী যুব সমাজ’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই–গাজীপুর’।
মানববন্ধনে অংশ নেন সংগঠন দুটির শতাধিক সদস্য ছাড়াও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন, যুবদল-ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী, মোতাহার হোসেন মোহন (প্রতিষ্ঠাতা, ইউনিটি অফ থাউজেন্ড ও সভাপতি, বাতিঘর ফাউন্ডেশন), ছাত্রনেতা সানাউল্লাহ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সদস্য আকরাম ও নাঈম হোসেন, ক্রীড়াবিদ আলমগীর এবং গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নেতা লতিফ।
বক্তাদের বক্তব্য, মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মাহফুজ একজন ছাত্র এবং শ্রমিক—জীবনের জন্য লড়াই করছিল। অথচ এই শহরে নিরাপদে ঘরে ফেরার সুযোগটুকুও তার ছিল না। প্রতিদিন টঙ্গীর ফ্লাইওভার, সংযোগ সড়কগুলো যেন ছিনতাইকারীদের দখলে থাকে। অথচ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায়।”
তারা বলেন, “ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের অনেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। ফলে তারা বারবার আইনের ফাঁক গলে রক্ষা পায়। এখন সময় এসেছে এই মুখোশ উন্মোচনের।”
ছাত্র ও শ্রমিক সমাজের বার্তা, ছাত্রনেতারা বলেন, “রাতের শিফটে যারা কাজ করেন, যারা পড়ালেখা করে বাসায় ফেরেন—তারা আজ সবচেয়ে অনিরাপদ। প্রতিটি সড়কে সিসিটিভি, আলো ও নিয়মিত টহল চাই। অপরাধী রাজনৈতিক হোক কিংবা সমাজের চেনা মুখ—তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তারা আরও বলেন, “ছিনতাইকারীদের অনেকেই মাদকাসক্ত, তাদের কেউ কেউ পরিচিত মুখ। তবে অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। সমাজচ্যুত করতে হলে সবাইকে সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশ ও জনসাধারণ একসঙ্গে কাজ করলে এই দানবীয় ছিনতাই বন্ধ সম্ভব।”
ঘটনাপট: গত ৯ জুলাই রাত ১২:৩০ মিনিটে, টঙ্গী ফ্লাইওভারে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন মাহফুজুর রহমান (১৯)। তার পিতার নাম ফরিদ উদ্দিন ও মাতা কহিনূর বেগম। হত্যাকাণ্ডের সময় তার কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তার মরদেহ বর্তমানে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
ধারাবাহিকভাবে ছিনতাইয়ে প্রাণ হারানোদের তালিকা, ৯ জুলাই ২০২৫ – মাহফুজুর রহমান, পোশাক শ্রমিক ও কলেজছাত্র (টঙ্গী ফ্লাইওভার)
৩০ জুন ২০২৫ – জসিম উদ্দিন, রিকশাচালক (গলাকেটে হত্যা)
১৭ জুন ২০২৫ – মেহেদী হাসান, কলেজছাত্র (মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সময় নিহত)
৭ মে ২০২৫ – সোনিয়া আক্তার, গার্মেন্টস কর্মী (ছিনতাইকারীর হাতে খুন)
(তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে), মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি:
১. টঙ্গী ফ্লাইওভারসহ আশপাশের এলাকায় রাত্রিকালীন টহল বৃদ্ধি
২. গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত লাইটিং
৩. ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
৪. রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
৫. নিহত মাহফুজুর রহমানের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও আইনি ন্যায়বিচার
শেষ কথা, একজন ছাত্রের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নকেই ধ্বংস করেনি, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার নামে প্রতিশ্রুতি নয়, চাই বাস্তব ব্যবস্থা। শহরবাসীর জান-মালের নিরাপত্তায় প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে গাজীপুরকে আবারও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টঙ্গীতে শ্রমিক মাহফুজ হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়কে মানববন্ধন: ছিনতাই বন্ধে জনদাবি ও ছাত্রসমাজের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৫:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মাহফুজুর রহমান (১৯) নামের এক তরুণ ছাত্রের নির্মম হত্যাকাণ্ডে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের এই শিক্ষার্থী পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং পড়ালেখার খরচ চালাতেন নিজের আয় থেকেই। এই হত্যা শুধু একটি জীবনকে নিভিয়ে দেয়নি—উন্মোচন করেছে পুরো শহরের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র।
এ ঘটনার বিচার এবং টঙ্গীতে ছিনতাই-সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থায়ী নিরাপত্তার দাবিতে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজগেট এলাকায় এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘টঙ্গী যুব সমাজ’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই–গাজীপুর’।
মানববন্ধনে অংশ নেন সংগঠন দুটির শতাধিক সদস্য ছাড়াও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন, যুবদল-ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী, মোতাহার হোসেন মোহন (প্রতিষ্ঠাতা, ইউনিটি অফ থাউজেন্ড ও সভাপতি, বাতিঘর ফাউন্ডেশন), ছাত্রনেতা সানাউল্লাহ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সদস্য আকরাম ও নাঈম হোসেন, ক্রীড়াবিদ আলমগীর এবং গাজীপুর মহানগর জামায়াতের নেতা লতিফ।
বক্তাদের বক্তব্য, মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মাহফুজ একজন ছাত্র এবং শ্রমিক—জীবনের জন্য লড়াই করছিল। অথচ এই শহরে নিরাপদে ঘরে ফেরার সুযোগটুকুও তার ছিল না। প্রতিদিন টঙ্গীর ফ্লাইওভার, সংযোগ সড়কগুলো যেন ছিনতাইকারীদের দখলে থাকে। অথচ প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকায়।”
তারা বলেন, “ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের অনেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। ফলে তারা বারবার আইনের ফাঁক গলে রক্ষা পায়। এখন সময় এসেছে এই মুখোশ উন্মোচনের।”
ছাত্র ও শ্রমিক সমাজের বার্তা, ছাত্রনেতারা বলেন, “রাতের শিফটে যারা কাজ করেন, যারা পড়ালেখা করে বাসায় ফেরেন—তারা আজ সবচেয়ে অনিরাপদ। প্রতিটি সড়কে সিসিটিভি, আলো ও নিয়মিত টহল চাই। অপরাধী রাজনৈতিক হোক কিংবা সমাজের চেনা মুখ—তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তারা আরও বলেন, “ছিনতাইকারীদের অনেকেই মাদকাসক্ত, তাদের কেউ কেউ পরিচিত মুখ। তবে অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। সমাজচ্যুত করতে হলে সবাইকে সাহস করে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশ ও জনসাধারণ একসঙ্গে কাজ করলে এই দানবীয় ছিনতাই বন্ধ সম্ভব।”
ঘটনাপট: গত ৯ জুলাই রাত ১২:৩০ মিনিটে, টঙ্গী ফ্লাইওভারে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন মাহফুজুর রহমান (১৯)। তার পিতার নাম ফরিদ উদ্দিন ও মাতা কহিনূর বেগম। হত্যাকাণ্ডের সময় তার কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তার মরদেহ বর্তমানে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
ধারাবাহিকভাবে ছিনতাইয়ে প্রাণ হারানোদের তালিকা, ৯ জুলাই ২০২৫ – মাহফুজুর রহমান, পোশাক শ্রমিক ও কলেজছাত্র (টঙ্গী ফ্লাইওভার)
৩০ জুন ২০২৫ – জসিম উদ্দিন, রিকশাচালক (গলাকেটে হত্যা)
১৭ জুন ২০২৫ – মেহেদী হাসান, কলেজছাত্র (মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সময় নিহত)
৭ মে ২০২৫ – সোনিয়া আক্তার, গার্মেন্টস কর্মী (ছিনতাইকারীর হাতে খুন)
(তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে), মানববন্ধন থেকে পাঁচ দফা দাবি:
১. টঙ্গী ফ্লাইওভারসহ আশপাশের এলাকায় রাত্রিকালীন টহল বৃদ্ধি
২. গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত লাইটিং
৩. ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
৪. রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
৫. নিহত মাহফুজুর রহমানের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও আইনি ন্যায়বিচার
শেষ কথা, একজন ছাত্রের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নকেই ধ্বংস করেনি, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার নামে প্রতিশ্রুতি নয়, চাই বাস্তব ব্যবস্থা। শহরবাসীর জান-মালের নিরাপত্তায় প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে গাজীপুরকে আবারও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করতে।