টঙ্গীতে পরকীয়ার বলি কামরুল: প্রেমিকা গ্রেফতার, স্বামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অবশেষে ধরা
- আপডেট সময় : ০১:১৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
- / ২১১৭ বার পড়া হয়েছে


গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় পরকীয়ার জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন এক যুবক—নাম কামরুল ইসলাম (২৬)। এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. সাব্বির আহমেদকে দীর্ঘ পলাতক থাকার পর অবশেষে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত: প্রেম, পরকীয়া ও প্রতিশোধ, নিহত কামরুল দত্তপাড়া এরশাদনগর ৩ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এক সন্তানের জননী সুলতানা বেগমের সঙ্গে, যিনি একই এলাকার ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা ও প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদের স্ত্রী। স্থানীয়দের মতে, এই সম্পর্ক ঘিরেই দাম্পত্য কলহ এবং পরিণতিতে ঘটে রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড।
গত শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সুলতানার সঙ্গে দেখা করতে আসেন কামরুল দত্তপাড়ার দিঘীরপাড় দারুল আহসান মাদানিয়া মাদ্রাসার সামনে। সে সময় সুলতানা সন্তানকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিচ্ছিলেন। আচমকাই হাজির হন স্বামী সাব্বির। সঙ্গে থাকা ধারালো সুইচগিয়ার ও লোহার রড দিয়ে তিনি কামরুলের ওপর হামলা চালান। কামরুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে সাব্বির পালিয়ে যান।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ পর্যন্ত, গুরুতর আহত কামরুলকে প্রথমে আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিকেল, এবং সবশেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মামলা, গ্রেফতার ও তদন্ত, ঘটনার দিনই কামরুলের বড় ভাই কামাল হোসাইন বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে সুলতানাকে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার ভোরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্ত এলাকা থেকে সাব্বির আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত সাব্বিরকে থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
সমাজে প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন ? এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ বলছেন, এটি প্রেমের অন্তিম পরিণতি, কেউ বলছেন নির্মম প্রতিশোধ।
সাংবাদিকরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। পারিবারিক সম্মান ও সামাজিক চাপের কারণেই হয়তো তারা নীরব থাকছেন। প্রতিবেশীরাও মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন।
একটি প্রেম, একটি পরকীয়া সম্পর্ক, একটি জীবন এবং এক পরিবারের সব আশা–সবকিছু মিশে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। ভালোবাসা যদি কাউকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, তবে সেই ভালোবাসা কি আদৌ প্রকৃত ভালোবাসা? এই প্রশ্নই এখন সমাজের বুকে ঝুলছে। আমরা কামরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।





















