ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

আকবর হোসেন ফারুক: সংগ্রামের সৈনিক থেকে যুব রাজনীতির প্রাণপুরুষ

md younus
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
  • / ২১৩২ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুরের রাজনীতিতে এমন কিছু নাম ইতিহাস হয়ে থাকে, যাঁদের জীবন কেবল নিজেদের নয়—একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ঠিক তেমনি একজন হলেন আকবর হোসেন ফারুক। যিনি শুধু নামেই নয়, কাজে, ত্যাগে এবং নেতৃত্বে আজকের যুবসমাজের জন্য এক জীবন্ত কিংবদন্তি। গাজীপুরের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যাঁদের নাম ইতিহাসের পাতায় উঠে আসে তাঁদের নিষ্ঠা, ত্যাগ, ও নিরন্তর সংগ্রামের কারণে। এই তালিকায় অন্যতম এক নাম—আকবর হোসেন ফারুক। আজ আমরা জানব তাঁর জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত এক চলমান সংগ্রামের উপাখ্যান।
আকবর হোসেন ফারুকের শেকড় ও জন্ম এবং বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকার : আকবর হোসেন ফারুক জন্মগ্রহণ করেন গাজীপুরের এক ঐতিহ্যবাহী ও জনহিতৈষী পরিবারে। তাঁর পিতা আলহাজ্ব হাবিব উল্লাহ ছিলেন একজন সমাজসেবী ও রাজনৈতিক অগ্রদূত। তিনি টঙ্গী পৌরসভার প্রথম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। তাঁর জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বয়ং টঙ্গীতে এসে একটি টেলিভিশন উপহার দেন—যেটি সেই সময় পুরো টঙ্গীবাসীর বিনোদন ও তথ্য জানার একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে।
আলহাজ্ব হাবিব উল্লাহ সেই টেলিভিশনটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, যাতে সবাই রাষ্ট্র ও বিশ্বের খবরে অংশ নিতে পারে।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘শুভেচ্ছা স্বর্ণপদক’ প্রদান করেন। যা ছিল পরিবারের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। এই স্বর্ণপদক, সযত্নে রাখা হলেও, আলহাজ্ব হাবিব উল্লাহ এটিকে একটি সিম্বল হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ থেকেই বোঝা যায়, আকবর হোসেন ফারুক-এর রক্তে কতটা আত্মত্যাগ ও সেবার চেতনা বইছে।
মায়ের ভালোবাসা ও এক অপূর্ণ বিদায় : আকবর হোসেন ফারুক-এর মা, মৃত মোসাঃ মনোয়ারা বেগম ছিলেন নীতিবান, ধর্মপরায়ণ, সৎ, ও পরোপকারী একজন নারী এবং মানুষের প্রতি দয়ার প্রতীক। রাজনৈতিক হয়রানির এক কঠিন সময়ে, যখন আকবর হোসেন ফারুক আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন, ঠিক তখনই তিনি এজলাশের সামনে উপস্থিত ছিলেন—এই সময় তাঁর মা খবর পান যে তাঁর ছেলেকে কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
মায়ের মনের চাপ সহ্য না করতে পেরে, সেখানেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। এই হৃদয়বিদারক খবর আকবর হোসেন ফারুক কোর্টের এজলাশেই পান। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় এটি। তিনি বলেন, “আমি পাশে থাকতে পারিনি। এজলাশে দাঁড়িয়ে শুনি, মা আর নেই। এই বেদনা আমি আজও ভুলতে পারিনি।”
এই ট্র্যাজেডি তাঁর হৃদয়ে আজও এক অপূরণীয় ক্ষত হয়ে আছে। নিজের অসহায়ত্ব ও পাথরচাপা যন্ত্রণা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই ব্যথা আমি সারা জীবন বয়ে বেড়াব।”
শিক্ষা ও রাজনীতিতে হাতেখড়ি: ছাত্রজীবন থেকেই আকবর হোসেন ফারুক রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিএনপির ছাত্রসংগঠন ও পরে যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি—১নং যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল; আহ্বায়ক, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদল। তিনি ১৭ বছর ধরে বিএনপি ও যুবদলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
যখন দমন-পীড়ন, নেতৃত্ব সংকট, ভয়ভীতি, মামলা, হামলা, গ্রেফতার আর নির্যাতনে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ, তখন তিনিই রাজপথের নির্ভীক সৈনিক হয়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন।
আকবর হোসেন ফারুকই ছিলেন আশ্রয়ের নাম। উত্তরা থেকে টঙ্গী, রাজপথ থেকে ওয়ার্ড, প্রতিটি এলাকায় যুবদলের কর্মীদের খুঁজে বের করে তিনি তাঁদের সংগঠিত করেছেন, পাশে থেকেছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং কখনো খাদ্য, কখনো আর্থিক, আবার কখনো মনোবলের জ্বালানি জুগিয়েছেন।
তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রধান হাতিয়ার ছিল সংহতি, দলীয় শৃঙ্খলা ও নির্ভীকতা।
বিভিন্ন সময় তিনি গোপনে যুবদলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও আইনি সহায়তা দিয়েছেন। এক কথায়—রাজনীতিতে বটবৃক্ষের মতো নেতৃত্বস্থলে আছেন।
আকবর হোসেন ফারুক বলেন—“বিএনপি ছাড়া এই দেশের গণতন্ত্র সম্ভব না। তারেক রহমানের হাত ধরে এই দেশ আবার মুক্ত বাতাস পাবে—এই বিশ্বাসই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”
দলীয় অনুশাসন ও নেতৃত্বে অবিচলতা, আকবর হোসেন ফারুক মনে করেন, “বিএনপি ছাড়া এ দেশ স্বাধীনভাবে চলতে পারবে না। বিএনপি দেশের গণতন্ত্রের মুখ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে—এই বিশ্বাসে আমি দল করি, করবো, প্রয়োজনে প্রাণ দেব।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র নেতৃত্বে দেশ এগিয়েছিল, আর আজকের যুবসমাজের জন্য তারেক রহমান-ই হচ্ছেন ভরসার প্রতীক।
ব্যবসায়িক সফলতা ও আত্মত্যাগ: রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে আকবর হোসেন ফারুক ছিলেন সফল ব্যবসায়ী। তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল—AK Faruk Traders, FNF Auto Zone, AK Construction & Machinery Supply, AK Real Estate & Agro Ventures—বেশ কয়েকটি ছোট, বড়, মাঝারি ব্যবসা।
কিন্তু রাজনীতির ত্যাগ-তিতিক্ষায় এক পর্যায়ে নিজের প্রায় ৭ বিঘা জমির মালিকানাও হারিয়ে ফেলেন। তবু দল ছাড়েননি।
“রাজনীতি করতে গেলে অনেক কিছু হারাতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, একদিন আবার ফিরে পাবো—মানুষের ভালোবাসা দিয়েই,” —আকবর হোসেন ফারুক।
তরুণদের প্রতি আহ্বান: আকবর হোসেন ফারুক বিশ্বাস করেন, যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। “যুবদল মানে শুধু মিছিল নয়—এটা ভবিষ্যতের নেতৃত্বের কারখানা। আমি চাই তরুণরা যেন জিয়াউর রহমানের মতো আত্মবিশ্বাসী, খালেদা জিয়ার মতো সংগ্রামী, আর তারেক রহমানের মতো পরিকল্পিত হোক।”
তিনি নেতাকর্মীদের বলেন—“রাজনীতিতে আসো আদর্শ নিয়ে, নিজের পকেট নয়, জনগণের মঙ্গল চিন্তা করো, মিথ্যা মামলা, নির্যাতনে ভেঙে পড়ো না, নিজেকে তৈরি করো একজন নেতৃত্বদানের মানুষ হিসেবে।”
সাংবাদিকতা ও কলমের লড়াই: আকবর হোসেন ফারুক কেবল রাজনীতিক নন, তিনি একজন লেখকও। অতীতে তিনি বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন। ছিলেন সহকারী সম্পাদক হিসেবেও। তাঁর কলম ছিল সত্যের পক্ষে, গণমানুষের কণ্ঠস্বর। আজও তিনি লেখেন—সংবাদপত্রে, সামাজিক মাধ্যমে—যেখানে অন্যায়, সেখানেই প্রতিবাদের ভাষা।
ভবিষ্যৎ দর্শন ও যুব সমাজের পথচিত্র: “যুবদল মানে তরুণ সমাজের শক্তি। যারা মাঠে নামবে, আন্দোলন করবে, নেতৃত্ব গড়বে। আমি চাই, প্রতিটি যুবক যেন জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করে।” —আকবর হোসেন ফারুক। আজকের আকবর হোসেন ফারুক একজন সংগঠক, একজন অভিভাবক। অনেক তরুণ নেতাকর্মী তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। তিনি সবার জন্য উন্মুক্ত, কাউকে খালি হাতে ফেরান না।
আকবর হোসেন ফারুক-এর জীবন এক অনন্য শিক্ষা ও প্রতিচ্ছবি—যেখানে ত্যাগ, নেতৃত্ব, পারিবারিক ঐতিহ্য, দেশপ্রেম এবং দলীয় আনুগত্য সবকিছুর বিরল সম্মিলন রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে গাজীপুরের যুব রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়—একটি আদর্শিক শক্তি হিসেবে। যুবদল যখন পুনর্গঠনের পথে, তখন এমন একজন মানুষের জীবনগল্প তরুণদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আকবর হোসেন ফারুক: সংগ্রামের সৈনিক থেকে যুব রাজনীতির প্রাণপুরুষ

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

গাজীপুরের রাজনীতিতে এমন কিছু নাম ইতিহাস হয়ে থাকে, যাঁদের জীবন কেবল নিজেদের নয়—একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ঠিক তেমনি একজন হলেন আকবর হোসেন ফারুক। যিনি শুধু নামেই নয়, কাজে, ত্যাগে এবং নেতৃত্বে আজকের যুবসমাজের জন্য এক জীবন্ত কিংবদন্তি। গাজীপুরের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যাঁদের নাম ইতিহাসের পাতায় উঠে আসে তাঁদের নিষ্ঠা, ত্যাগ, ও নিরন্তর সংগ্রামের কারণে। এই তালিকায় অন্যতম এক নাম—আকবর হোসেন ফারুক। আজ আমরা জানব তাঁর জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত এক চলমান সংগ্রামের উপাখ্যান।
আকবর হোসেন ফারুকের শেকড় ও জন্ম এবং বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকার : আকবর হোসেন ফারুক জন্মগ্রহণ করেন গাজীপুরের এক ঐতিহ্যবাহী ও জনহিতৈষী পরিবারে। তাঁর পিতা আলহাজ্ব হাবিব উল্লাহ ছিলেন একজন সমাজসেবী ও রাজনৈতিক অগ্রদূত। তিনি টঙ্গী পৌরসভার প্রথম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম নির্বাচিত মেম্বার ছিলেন। তাঁর জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বয়ং টঙ্গীতে এসে একটি টেলিভিশন উপহার দেন—যেটি সেই সময় পুরো টঙ্গীবাসীর বিনোদন ও তথ্য জানার একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে।
আলহাজ্ব হাবিব উল্লাহ সেই টেলিভিশনটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, যাতে সবাই রাষ্ট্র ও বিশ্বের খবরে অংশ নিতে পারে।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘শুভেচ্ছা স্বর্ণপদক’ প্রদান করেন। যা ছিল পরিবারের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। এই স্বর্ণপদক, সযত্নে রাখা হলেও, আলহাজ্ব হাবিব উল্লাহ এটিকে একটি সিম্বল হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ থেকেই বোঝা যায়, আকবর হোসেন ফারুক-এর রক্তে কতটা আত্মত্যাগ ও সেবার চেতনা বইছে।
মায়ের ভালোবাসা ও এক অপূর্ণ বিদায় : আকবর হোসেন ফারুক-এর মা, মৃত মোসাঃ মনোয়ারা বেগম ছিলেন নীতিবান, ধর্মপরায়ণ, সৎ, ও পরোপকারী একজন নারী এবং মানুষের প্রতি দয়ার প্রতীক। রাজনৈতিক হয়রানির এক কঠিন সময়ে, যখন আকবর হোসেন ফারুক আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন, ঠিক তখনই তিনি এজলাশের সামনে উপস্থিত ছিলেন—এই সময় তাঁর মা খবর পান যে তাঁর ছেলেকে কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
মায়ের মনের চাপ সহ্য না করতে পেরে, সেখানেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। এই হৃদয়বিদারক খবর আকবর হোসেন ফারুক কোর্টের এজলাশেই পান। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় এটি। তিনি বলেন, “আমি পাশে থাকতে পারিনি। এজলাশে দাঁড়িয়ে শুনি, মা আর নেই। এই বেদনা আমি আজও ভুলতে পারিনি।”
এই ট্র্যাজেডি তাঁর হৃদয়ে আজও এক অপূরণীয় ক্ষত হয়ে আছে। নিজের অসহায়ত্ব ও পাথরচাপা যন্ত্রণা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই ব্যথা আমি সারা জীবন বয়ে বেড়াব।”
শিক্ষা ও রাজনীতিতে হাতেখড়ি: ছাত্রজীবন থেকেই আকবর হোসেন ফারুক রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিএনপির ছাত্রসংগঠন ও পরে যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তিনি—১নং যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল; আহ্বায়ক, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদল। তিনি ১৭ বছর ধরে বিএনপি ও যুবদলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
যখন দমন-পীড়ন, নেতৃত্ব সংকট, ভয়ভীতি, মামলা, হামলা, গ্রেফতার আর নির্যাতনে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ, তখন তিনিই রাজপথের নির্ভীক সৈনিক হয়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন।
আকবর হোসেন ফারুকই ছিলেন আশ্রয়ের নাম। উত্তরা থেকে টঙ্গী, রাজপথ থেকে ওয়ার্ড, প্রতিটি এলাকায় যুবদলের কর্মীদের খুঁজে বের করে তিনি তাঁদের সংগঠিত করেছেন, পাশে থেকেছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং কখনো খাদ্য, কখনো আর্থিক, আবার কখনো মনোবলের জ্বালানি জুগিয়েছেন।
তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রধান হাতিয়ার ছিল সংহতি, দলীয় শৃঙ্খলা ও নির্ভীকতা।
বিভিন্ন সময় তিনি গোপনে যুবদলের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও আইনি সহায়তা দিয়েছেন। এক কথায়—রাজনীতিতে বটবৃক্ষের মতো নেতৃত্বস্থলে আছেন।
আকবর হোসেন ফারুক বলেন—“বিএনপি ছাড়া এই দেশের গণতন্ত্র সম্ভব না। তারেক রহমানের হাত ধরে এই দেশ আবার মুক্ত বাতাস পাবে—এই বিশ্বাসই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।”
দলীয় অনুশাসন ও নেতৃত্বে অবিচলতা, আকবর হোসেন ফারুক মনে করেন, “বিএনপি ছাড়া এ দেশ স্বাধীনভাবে চলতে পারবে না। বিএনপি দেশের গণতন্ত্রের মুখ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে—এই বিশ্বাসে আমি দল করি, করবো, প্রয়োজনে প্রাণ দেব।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র নেতৃত্বে দেশ এগিয়েছিল, আর আজকের যুবসমাজের জন্য তারেক রহমান-ই হচ্ছেন ভরসার প্রতীক।
ব্যবসায়িক সফলতা ও আত্মত্যাগ: রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে আকবর হোসেন ফারুক ছিলেন সফল ব্যবসায়ী। তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল—AK Faruk Traders, FNF Auto Zone, AK Construction & Machinery Supply, AK Real Estate & Agro Ventures—বেশ কয়েকটি ছোট, বড়, মাঝারি ব্যবসা।
কিন্তু রাজনীতির ত্যাগ-তিতিক্ষায় এক পর্যায়ে নিজের প্রায় ৭ বিঘা জমির মালিকানাও হারিয়ে ফেলেন। তবু দল ছাড়েননি।
“রাজনীতি করতে গেলে অনেক কিছু হারাতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, একদিন আবার ফিরে পাবো—মানুষের ভালোবাসা দিয়েই,” —আকবর হোসেন ফারুক।
তরুণদের প্রতি আহ্বান: আকবর হোসেন ফারুক বিশ্বাস করেন, যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। “যুবদল মানে শুধু মিছিল নয়—এটা ভবিষ্যতের নেতৃত্বের কারখানা। আমি চাই তরুণরা যেন জিয়াউর রহমানের মতো আত্মবিশ্বাসী, খালেদা জিয়ার মতো সংগ্রামী, আর তারেক রহমানের মতো পরিকল্পিত হোক।”
তিনি নেতাকর্মীদের বলেন—“রাজনীতিতে আসো আদর্শ নিয়ে, নিজের পকেট নয়, জনগণের মঙ্গল চিন্তা করো, মিথ্যা মামলা, নির্যাতনে ভেঙে পড়ো না, নিজেকে তৈরি করো একজন নেতৃত্বদানের মানুষ হিসেবে।”
সাংবাদিকতা ও কলমের লড়াই: আকবর হোসেন ফারুক কেবল রাজনীতিক নন, তিনি একজন লেখকও। অতীতে তিনি বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন। ছিলেন সহকারী সম্পাদক হিসেবেও। তাঁর কলম ছিল সত্যের পক্ষে, গণমানুষের কণ্ঠস্বর। আজও তিনি লেখেন—সংবাদপত্রে, সামাজিক মাধ্যমে—যেখানে অন্যায়, সেখানেই প্রতিবাদের ভাষা।
ভবিষ্যৎ দর্শন ও যুব সমাজের পথচিত্র: “যুবদল মানে তরুণ সমাজের শক্তি। যারা মাঠে নামবে, আন্দোলন করবে, নেতৃত্ব গড়বে। আমি চাই, প্রতিটি যুবক যেন জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করে।” —আকবর হোসেন ফারুক। আজকের আকবর হোসেন ফারুক একজন সংগঠক, একজন অভিভাবক। অনেক তরুণ নেতাকর্মী তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। তিনি সবার জন্য উন্মুক্ত, কাউকে খালি হাতে ফেরান না।
আকবর হোসেন ফারুক-এর জীবন এক অনন্য শিক্ষা ও প্রতিচ্ছবি—যেখানে ত্যাগ, নেতৃত্ব, পারিবারিক ঐতিহ্য, দেশপ্রেম এবং দলীয় আনুগত্য সবকিছুর বিরল সম্মিলন রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে গাজীপুরের যুব রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়—একটি আদর্শিক শক্তি হিসেবে। যুবদল যখন পুনর্গঠনের পথে, তখন এমন একজন মানুষের জীবনগল্প তরুণদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।