ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হত্যা মামলার আসামিকে ঘিরে বিতর্ক: শিক্ষকের রাজনীতি, বিএনপির অবস্থান ও স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ

md younus
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / ২১১৬ বার পড়া হয়েছে




রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামি হয়েছেন গাজীপুরের টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আজিজুল হক রাজুর বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে, যখন সাংবাদিকরা সরেজমিনে কলেজে গিয়ে তথ্য সংগ্রহে যান। এ সময় রাজু সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি তিনবার জেল খেটেছি, তখন তো আপনাদের কাউকে দেখিনি। আপনারা এখন কেন আসছেন?” এছাড়াও, তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ডেইলি ক্যাম্পাসের গাজীপুর প্রতিনিধির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যক্ষ হারুনের বক্তব্য ও মামলার পটভূমি, অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। আমি ২৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বহুবার আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি।” তিনি দাবি করেন, কলেজের পদ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকেও তাকে সমর্থন দিয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়— “অধ্যাপক হারুন একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি নেতা, যিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”
শিক্ষক ও রাজনীতির দ্বান্দ্বিক বাস্তবতা, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে: একজন শিক্ষক কি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন? নৈতিকভাবে তা ব্যক্তির অধিকার হলেও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা, এবং একাডেমিক পরিবেশে পক্ষপাতের প্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও বিশ্লেষকরা।
তবে এটাও ঠিক, বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু শিক্ষাবিদ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু যখন কোনো মামলার আসামি হয়ে পড়েন একজন শিক্ষাপ্রধান, তখন তার রাজনৈতিক পরিচয় ও পেশাগত ভূমিকা নিয়ে সমাজে দ্বিধা তৈরি হয়।
সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং হেনস্তা। দেশের প্রচলিত আইনে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। কোনো মামলার তদন্ত কিংবা সত্য উদঘাটনের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে, তথ্য সংগ্রহ করতে এবং প্রতিবেদন তৈরি করতে স্বাধীন। তাদের কাজ পেশাগত, দলীয় নয়। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পেশাজীবী মহল।
রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিমুখিতা, সমালোচকরা বলছেন, অতীতে সরকারি দলের নেতারা শিক্ষকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে অভিযুক্ত হলে বিরোধী দলগুলো তীব্র ভাষায় নিন্দা করত। এখন বিরোধী দলের কোনো নেতা বা তাদের ঘনিষ্ঠ কেউ একই পরিণতির শিকার হলে দলীয়ভাবে তার পক্ষাবলম্বন করাও একই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ।
সংবেদনশীল সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন, বর্তমান সময়ে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বিচারহীনতা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করা জরুরি। একজন সাংবাদিকের পেশাগত কাজকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে হেনস্তা করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, ঠিক যেমন কোনো রাজনৈতিক নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানোও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্ভূত বিতর্ক কেবল একজন অধ্যক্ষ বা রাজনৈতিক নেতার বিষয় নয়—এটি বৃহত্তর সমাজে শিক্ষার স্বাধীনতা, রাজনীতির শুদ্ধতা এবং সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হত্যা মামলার আসামিকে ঘিরে বিতর্ক: শিক্ষকের রাজনীতি, বিএনপির অবস্থান ও স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট সময় : ১১:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামি হয়েছেন গাজীপুরের টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আজিজুল হক রাজুর বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে, যখন সাংবাদিকরা সরেজমিনে কলেজে গিয়ে তথ্য সংগ্রহে যান। এ সময় রাজু সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি তিনবার জেল খেটেছি, তখন তো আপনাদের কাউকে দেখিনি। আপনারা এখন কেন আসছেন?” এছাড়াও, তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ডেইলি ক্যাম্পাসের গাজীপুর প্রতিনিধির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অধ্যক্ষ হারুনের বক্তব্য ও মামলার পটভূমি, অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। আমি ২৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বহুবার আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি।” তিনি দাবি করেন, কলেজের পদ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকেও তাকে সমর্থন দিয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়— “অধ্যাপক হারুন একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি নেতা, যিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”
শিক্ষক ও রাজনীতির দ্বান্দ্বিক বাস্তবতা, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে: একজন শিক্ষক কি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন? নৈতিকভাবে তা ব্যক্তির অধিকার হলেও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা, এবং একাডেমিক পরিবেশে পক্ষপাতের প্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও বিশ্লেষকরা।
তবে এটাও ঠিক, বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু শিক্ষাবিদ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু যখন কোনো মামলার আসামি হয়ে পড়েন একজন শিক্ষাপ্রধান, তখন তার রাজনৈতিক পরিচয় ও পেশাগত ভূমিকা নিয়ে সমাজে দ্বিধা তৈরি হয়।
সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান এবং হেনস্তা। দেশের প্রচলিত আইনে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। কোনো মামলার তদন্ত কিংবা সত্য উদঘাটনের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে, তথ্য সংগ্রহ করতে এবং প্রতিবেদন তৈরি করতে স্বাধীন। তাদের কাজ পেশাগত, দলীয় নয়। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পেশাজীবী মহল।
রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিমুখিতা, সমালোচকরা বলছেন, অতীতে সরকারি দলের নেতারা শিক্ষকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে অভিযুক্ত হলে বিরোধী দলগুলো তীব্র ভাষায় নিন্দা করত। এখন বিরোধী দলের কোনো নেতা বা তাদের ঘনিষ্ঠ কেউ একই পরিণতির শিকার হলে দলীয়ভাবে তার পক্ষাবলম্বন করাও একই ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ।
সংবেদনশীল সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন, বর্তমান সময়ে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বিচারহীনতা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করা জরুরি। একজন সাংবাদিকের পেশাগত কাজকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে হেনস্তা করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, ঠিক যেমন কোনো রাজনৈতিক নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানোও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্ভূত বিতর্ক কেবল একজন অধ্যক্ষ বা রাজনৈতিক নেতার বিষয় নয়—এটি বৃহত্তর সমাজে শিক্ষার স্বাধীনতা, রাজনীতির শুদ্ধতা এবং সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে।