ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প একটি চারা, একটি স্বপ্ন, একটি বাংলাদেশ গাজীপুরের টঙ্গীতে দুই কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে সবুজের বাগান গড়লেন শেখ মোঃ সুমন; পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ থেকে সামাজিক দায়িত্বের এক অনুপ্রেরণার গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার

দিঘি ও মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন: ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার টঙ্গীবাসী

md younus
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
  • / ২১১৭ বার পড়া হয়েছে




টঙ্গী দত্তপাড়ায় মাঠ ও দীঘি রক্ষায় আলমগীর হোসেন দিপুর সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তৃতা দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা। শিশু-কিশোর, ছাত্র-যুবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর ব্যাপক উপস্থিতিতে মুখরিত হয় দীঘিপাড়।-সংবাদ আলোচনা।

টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী দীঘি ও দীঘিপাড়ের মাঠ রক্ষায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জোরালো মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা ও আয়োজক ছিলেন সমাজসেবক এবং টঙ্গী ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু, যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের টঙ্গী পূর্ব থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক নেতৃত্বে আলমগীর হোসেন দিপু: একজন সাহসী সমাজ সংস্কারক, সমাজের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু শুধুমাত্র রাজনীতিক নন, তিনি তরুণ সমাজের আশা-ভরসার নাম। নিজের অর্থায়নে গরিব-অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি স্থাপন করে দিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিন শতাধিক শিশু-কিশোর জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত।
তিনি নিয়মিত পুলিশি বিট কার্যক্রম, গ্রাম্য পুলিশ অনুষ্ঠান, এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে অংশ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দত্তপাড়ার ঐতিহাসিক দীঘি ও দীঘিপাড়ের মাঠ রক্ষায় তার অগ্রণী ভূমিকা এই মানববন্ধনে আবারও প্রমাণিত হলো।
ঐতিহ্য ধ্বংসের পাঁয়তারা: ভূমিদস্যুদের দখল ও দখলদারিত্ব, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর দত্তপাড়াসহ ৪৮, ৫০ ও অন্যান্য সংলগ্ন ওয়ার্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক এই দীঘি, যেটি একসময় ভাওয়াল রাজা দরিদ্র মানুষের জন্য খনন করিয়েছিলেন, তা আজ ভূমিদস্যুদের দখলের পাঁয়তারার শিকার। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কিছু প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেদারসে দিঘির আশপাশের জমি বিক্রি করে দিচ্ছে। তারা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানের জমি কম মূল্যে হস্তান্তরের মাধ্যমে জনসাধারণের অধিকার হরণ করছে।
মানববন্ধনে জনগণের ক্ষোভ ও দাবির ঝড়, টঙ্গী সচেতন ছাত্র ও যুবসমাজের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, স্থানীয় মসজিদের খতিব মাওলানা বোরহান উদ্দিন, যুবনেতা নাইমুর রহমান নাইম, ফুটবল সংগঠক আসিফ, শিক্ষানুরাগী নূর মোহাম্মদ, সাংবাদিক সমাজ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমাদের আবেগ, আমাদের স্মৃতি—মাঠ ও দীঘি দখলমুক্ত করতে হবে!” “মাদক নয়, খেলার মাঠ চাই!” “ভূমিদস্যুদের দখলদারিত্ব রুখে দিতে হবে—প্রশাসনের কাছে জবাব চাই!” “বাচ্চাদের জীবন বাঁচাতে মাঠ ফিরিয়ে দাও। দরকার হলে টাকা নাও, কিন্তু মাঠ দাও।” প্রশাসনের প্রতি দাবি: অবৈধ দখল সরিয়ে জনগণের মাঠ ফিরিয়ে দিন। বক্তারা বলেন, এই মাঠ ও দীঘি যদি পুনরুদ্ধার করা না হয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন, যেন দুই দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে মাঠ ও দীঘিকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন—যদি অবৈধ দখল না সরানো হয়, তাহলে রাজপথ অবরোধসহ ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাঠ রক্ষা জরুরি, দত্তপাড়ার আশেপাশে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদ্রাসা, দত্তপাড়া প্রাইমারি স্কুল, কিরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রওশন সরকারি বিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনার পর বিকেলে খেলাধুলায় অংশ নেয়। একটি খেলার মাঠ না থাকায় তারা ধীরে ধীরে বিপথে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, “খেলার মাঠ থাকলে যুব সমাজ মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।” খেলাধুলা একটি জাতির মানসিক উন্নয়নের অনন্য অবলম্বন।
দীঘি বাঁচাও, মাঠ বাঁচাও, যুব সমাজ বাঁচাও! সমাপনী বক্তব্যে মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু বলেন, “আমি এই সমাজের সন্তান, সমাজের জন্যই আমার এই লড়াই। দীঘি এবং মাঠ রক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়ব। আগামী প্রজন্মের মুখের দিকে চেয়ে, আমি এই মাঠ উদ্ধার করব ইনশাআল্লাহ।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিঘি ও মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন: ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার টঙ্গীবাসী

আপডেট সময় : ০৮:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫

টঙ্গী দত্তপাড়ায় মাঠ ও দীঘি রক্ষায় আলমগীর হোসেন দিপুর সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তৃতা দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা। শিশু-কিশোর, ছাত্র-যুবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর ব্যাপক উপস্থিতিতে মুখরিত হয় দীঘিপাড়।-সংবাদ আলোচনা।

টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী দীঘি ও দীঘিপাড়ের মাঠ রক্ষায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক জোরালো মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মূল উদ্যোক্তা ও আয়োজক ছিলেন সমাজসেবক এবং টঙ্গী ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু, যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের টঙ্গী পূর্ব থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক নেতৃত্বে আলমগীর হোসেন দিপু: একজন সাহসী সমাজ সংস্কারক, সমাজের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু শুধুমাত্র রাজনীতিক নন, তিনি তরুণ সমাজের আশা-ভরসার নাম। নিজের অর্থায়নে গরিব-অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি স্থাপন করে দিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিন শতাধিক শিশু-কিশোর জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত।
তিনি নিয়মিত পুলিশি বিট কার্যক্রম, গ্রাম্য পুলিশ অনুষ্ঠান, এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে অংশ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দত্তপাড়ার ঐতিহাসিক দীঘি ও দীঘিপাড়ের মাঠ রক্ষায় তার অগ্রণী ভূমিকা এই মানববন্ধনে আবারও প্রমাণিত হলো।
ঐতিহ্য ধ্বংসের পাঁয়তারা: ভূমিদস্যুদের দখল ও দখলদারিত্ব, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর দত্তপাড়াসহ ৪৮, ৫০ ও অন্যান্য সংলগ্ন ওয়ার্ডজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক এই দীঘি, যেটি একসময় ভাওয়াল রাজা দরিদ্র মানুষের জন্য খনন করিয়েছিলেন, তা আজ ভূমিদস্যুদের দখলের পাঁয়তারার শিকার। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কিছু প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেদারসে দিঘির আশপাশের জমি বিক্রি করে দিচ্ছে। তারা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানের জমি কম মূল্যে হস্তান্তরের মাধ্যমে জনসাধারণের অধিকার হরণ করছে।
মানববন্ধনে জনগণের ক্ষোভ ও দাবির ঝড়, টঙ্গী সচেতন ছাত্র ও যুবসমাজের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, স্থানীয় মসজিদের খতিব মাওলানা বোরহান উদ্দিন, যুবনেতা নাইমুর রহমান নাইম, ফুটবল সংগঠক আসিফ, শিক্ষানুরাগী নূর মোহাম্মদ, সাংবাদিক সমাজ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমাদের আবেগ, আমাদের স্মৃতি—মাঠ ও দীঘি দখলমুক্ত করতে হবে!” “মাদক নয়, খেলার মাঠ চাই!” “ভূমিদস্যুদের দখলদারিত্ব রুখে দিতে হবে—প্রশাসনের কাছে জবাব চাই!” “বাচ্চাদের জীবন বাঁচাতে মাঠ ফিরিয়ে দাও। দরকার হলে টাকা নাও, কিন্তু মাঠ দাও।” প্রশাসনের প্রতি দাবি: অবৈধ দখল সরিয়ে জনগণের মাঠ ফিরিয়ে দিন। বক্তারা বলেন, এই মাঠ ও দীঘি যদি পুনরুদ্ধার করা না হয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন, যেন দুই দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে মাঠ ও দীঘিকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন—যদি অবৈধ দখল না সরানো হয়, তাহলে রাজপথ অবরোধসহ ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাঠ রক্ষা জরুরি, দত্তপাড়ার আশেপাশে মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদ্রাসা, দত্তপাড়া প্রাইমারি স্কুল, কিরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রওশন সরকারি বিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনার পর বিকেলে খেলাধুলায় অংশ নেয়। একটি খেলার মাঠ না থাকায় তারা ধীরে ধীরে বিপথে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, “খেলার মাঠ থাকলে যুব সমাজ মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।” খেলাধুলা একটি জাতির মানসিক উন্নয়নের অনন্য অবলম্বন।
দীঘি বাঁচাও, মাঠ বাঁচাও, যুব সমাজ বাঁচাও! সমাপনী বক্তব্যে মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু বলেন, “আমি এই সমাজের সন্তান, সমাজের জন্যই আমার এই লড়াই। দীঘি এবং মাঠ রক্ষার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়ব। আগামী প্রজন্মের মুখের দিকে চেয়ে, আমি এই মাঠ উদ্ধার করব ইনশাআল্লাহ।”