টঙ্গীর মানুষ, শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে অধ্যক্ষ মোঃ আলাউদ্দিন মিয়ার অভাবনীয় সম্মান, সংগ্রাম ও সত্যের জয়গাথা
এক জনমে এতো ভালোবাসা!
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১৫০ বার পড়া হয়েছে

এক মানুষ, এক জীবন তবু এত ভালোবাসা কীভাবে বহন করেন তিনি ? একজন মানুষের জীবনে কতটা ভালোবাসা জমা হতে পারে ? একজনের জন্য কত মানুষ হৃদয়ে ব্যথা অনুভব করতে পারে ? কত শিশু তার মুক্তির জন্য কান্না করতে পারে ?

টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া ঠিক তেমনই এক নাম যার জীবনের গল্প যেন মানুষের ভালোবাসা ও সত্যের বিজয়ের অপরূপ দৃষ্টান্ত। নিজের সামাজিক মাধ্যমের এক লেখায় তিনি বলেছেন, “এক জনমে মানুষের এত ভালোবাসা কেমন করে বইব ? অসংখ্য মানুষের মায়া, আবার দু-একজনের ঘৃণাও। কিন্তু সত্যের পথে হাঁটলে আল্লাহ কখনো একা ছেড়ে দেন না।”

গ্রেফতার, ষড়যন্ত্র এবং এক শিশুর বজ্র কণ্ঠ যা টঙ্গীকে কাঁদিয়েছিল। ২২ এপ্রিল ২০২৫। একটি অশুভ মহল ষড়যন্ত্র করে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় পাঠিয়ে দেয়। সেদিন ছিল অন্ধকারের রাত। কিন্তু সেই অন্ধকারেই এক টুকরো আলো হিসেবে দাঁড়িয়ে যায় মাত্র পাঁচ বছরের এক বালক আব্দুল আহাদ প্রিন্স। টঙ্গীর কিংবদন্তি নেতা মরহুম, আব্দুল আউয়াল সাহেবের নাতি। থানার ভেতর তার দিকে তাকিয়ে বজ্রকণ্ঠে বলে, “দাদা, তোমাকে কে আটকে রেখেছে ? আমি তালা ভেঙে নিয়ে যাব। না দিলে সব পুড়িয়ে ফেলব।” কোনও নাটক নয়, কোনও সাজানো ঘটনা নয়, একটি পাঁচ বছরের শিশুর হৃদয়ের সত্যিকারের ভালোবাসা।
অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া লিখেছেন, “আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমার জীবন তো ধন্য ও সার্থক। এক জনমে এত ভালোবাসা আর কোথায় পাই!”
শিশুটির দাদা ভাওয়াল গড় জেলার প্রথম মুসলিম গ্রাজুয়েট, কিংবদন্তি নেতা মরহুম আব্দুল হাকিম মাস্টার এমসিএ। তাই প্রশ্ন ওঠে “প্রকৃতি কি এই ক্ষুদ্র বালককে নিয়ে বড় কিছু ভাবছে ?” উত্তর সময়ই দেবে। সত্যের পাশে আল্লাহ থাকেন আবার ফিরে এলেন তিনি। দীর্ঘ লড়াই, অপমান, অপপ্রচার, মানসিক কষ্টের পর ৯ অক্টোবর তিনি জামিন পান। টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের প্রিয় ক্যাম্পাসে ফেরার পর হাজারো মানুষের ভালোবাসায় তিনি অভিভূত হয়ে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সত্যের বিজয় হয়েছে।”
শিক্ষকদের আন্দোলনে তার সরব উপস্থিতি জাতীয়করণের এক প্রেরণাদায়ক পথিকৃৎ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন, “শহীদ মিনার জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। নারী শিক্ষক বোনেরাও পিছিয়ে নেই। আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ। দাবী আদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র।”
তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন “বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ হবে ইনশাআল্লাহ।”
শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে তার উদ্বেগ এক জাতির বিবেকের প্রতিনিধি, তিনি লিখেছেন “শিক্ষিত জাতি মানেই উন্নত রাষ্ট্র। অথচ শিক্ষক সমাজ আজও অবহেলিত। মেধাবীরা এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। আমরা জাতি হিসেবে যেন কেমন হয়ে গেছি!” পেশাগত জীবনের শেষ প্রান্ত থেকে তিনি বলেন, “মানবিক কারণে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিন। নতুবা জাতি মেধাহীন হয়ে পড়বে।” এ যেন শিক্ষক সমাজের হৃদয়ের ভাষা। তরুণদের ওপর তার আস্থা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তার চোখে। একদিন সাবেক শিক্ষার্থীরা দেখা করতে এলে তিনি বলেন, “তরুণরাই পারে ঘুনে ধরা সমাজকে পরিবর্তন করতে। ওরা সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক। ওরা সক্ষম এক ক্ষুধা দারিদ্র দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।” তরুণদের আহ্বানে তিনি “নিরাপদ সড়ক আন্দোলন”-এ যুক্ত হয়ে যান।
টঙ্গীর সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা একজন শিক্ষক থেকে জননন্দিত সামাজিক ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু একজন অধ্যক্ষ নন, একজন অভিভাবক, একজন নৈতিকতার প্রতীক, একজন পরামর্শদাতা, একজন সমাজদূরদর্শী, একজন সৎ প্রশাসক, এবং মানুষের মনের মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ এমনকি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও তাকে ভালোবাসেন কারণ। তিনি সত্যবাদী, সৎ, নির্লোভ এবং মানুষের প্রতি গভীর মমতাবান।
“নিশ্চয়ই কষ্টের পর রয়েছে স্বস্তি।” সূরা ইনশিরাহ, “যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।” সূরা তালাক “মানুষ তার কর্মেই বেঁচে থাকে।” —হাদিস, “সৎ লোকদের সাথে আল্লাহ আছেন।” সূরা বাকারাহ। তার সংগ্রাম ও ফিরে আসা যেন এসব আয়াতের বাস্তব রূপ। একজন মানুষের প্রতি মানুষের এত ভালোবাসা এ জাতির জন্য আশীর্বাদ। অধ্যক্ষ মোঃ আলাউদ্দিন মিয়ার জীবন আমাদের শেখায়। সত্য পরাজিত হয় না। সৎ মানুষ একদিন সম্মান পায়। মানুষ ভালোবাসা দিয়ে অন্ধকার ভেদ করতে পারে। শিক্ষক জাতির প্রকৃত নির্মাতা। তরুণরাই ভবিষ্যৎ, টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে তিনি ফিরে এসেছেন এটা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়, এটা টঙ্গীর মানুষের হৃদয়ের জয়।
এক জনমে এত ভালোবাসা
এ সত্যিই খুব কম মানুষই পায়।


















