এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে সমাবেশে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামুর আশ্বাস
রিকশা শ্রমিক-মালিক ঐক্য গঠনের ঘোষণা: জরিমানা-জুলুম বন্ধে বিদ্যুৎ অফিসের প্রতি আহ্বান
- আপডেট সময় : ১১:৩৩:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
- / ২২২০ বার পড়া হয়েছে

এরশাদনগরের ৮ নম্বর ব্লকে রিকশা মালিক ও চালকদের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ মইনুদ্দিন মঈন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ হিরা। উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আপেল, মিঠুন, স্বপন, মোরসালিন মুন্না, রুবেল, সোহেল, রফিক ভান্ডারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শতাধিক রিকশা শ্রমিক।
সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু। বক্তাদের অভিযোগ,
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু ব্যক্তি আদালতের নামে রিকশা মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা আদায় করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে এই জরিমানা দুই থেকে ছয় লক্ষ টাকা পর্যন্ত গড়ে ওঠে। তাদের দাবি, এটি গরিব খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি অবিচার এবং আইনগত ও নৈতিকভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
রিকশা মালিক ও শ্রমিকরা জানান, এরশাদনগর এলাকা নদীভাঙন ও হতদরিদ্র মানুষের বসতি। তারা ভাড়া করা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। রিকশার গ্যারেজ বা চার্জিং মিটারের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম এবং হয়রানির কারণে তাদের জীবনে বাড়তি কষ্ট নেমে এসেছে।
কামরুল ইসলাম কামুর বক্তব্য, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু তার বক্তব্যে বলেন—“এলাকার মানুষ খুবই গরিব ও অসহায়। তারা শ্রম দিয়ে রিকশা চালান, সামান্য আয়ে সংসার চালান। তাদের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা চাপানো অন্যায়। আমরা বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে কথা বলব, এক্সচেঞ্জ অফিসার এবং প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গেও আলাপ করব। আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন—“আমি চাই আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। সমিতি গড়ে তুলুন, যাতে অন্যায়ভাবে কেউ আর আপনাদের হয়রানি করতে না পারে। আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি।”
সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত, সমাবেশ শেষে রিকশা মালিক ও শ্রমিকরা “ঐক্য সমিতি” গঠন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেন। তাদের প্রত্যাশা— ঐক্যবদ্ধ থাকলে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা গরিব মানুষের উপর অন্যায় চাপাতে পারবে না।
আইনগত ও নীতিগত বিশ্লেষণ,
১. বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ (Electricity Act, 2018):
এই আইনের ধারা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে শুধুমাত্র অনুমোদিত হারে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা যাবে। মিটার না দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে গ্রাহককে বৈধ পথে বিল প্রদানের সুযোগ দিতে হবে। আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্য কোনোভাবে অর্থ আদায় করা বেআইনি।
২. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯:
এই আইনে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি জোরপূর্বক, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা হয়রানি করে তবে ভোক্তারা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
৩. স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯:
এই আইনের আওতায় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলররা স্থানীয় সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সমাধান করতে পারেন। তাই কামরুল ইসলাম কামুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আইনগত ভিত্তি রয়েছে।
৪. নৈতিক ও সামাজিক দিক:
রিকশা মালিক-শ্রমিকরা সমাজের সবচেয়ে শ্রমনির্ভর জনগোষ্ঠী। তাদের আয়ের প্রধান উৎস ভাড়া করা রিকশা চালানো। এদের ওপর অন্যায্য জরিমানা চাপানো নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়ায়। সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের জন্য সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন করা।
এরশাদনগরের রিকশা মালিক ও শ্রমিকদের ঐক্যগঠন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আইন অনুযায়ী বিদ্যুৎ মিটার সরবরাহ ও বিল আদায়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় আদালতের নামে জুলুম ও হয়রানি অব্যাহত থাকলে গরিব মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। সমিতি গঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং আইনগত পথ অনুসরণ করলেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

















