কালীগঞ্জের চরখোলা গ্রামে দিনব্যাপী ভাষা শহীদ স্মরণ ও প্রকাশনা উৎসব
বই–ই আমার প্রভু: একুশের প্রেরণায় ‘ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্মৃতি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২২৬৮ বার পড়া হয়েছে

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চরখোলা গ্রামে দিনব্যাপী ভাষা শহীদদের স্মরণে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাহিত্যচর্চা, বই প্রকাশ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে গ্রামজুড়ে ছিল এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ। দিনের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হয় “দঙ্গু পণ্ডিত গ্রন্থ”-এর প্রকাশনা উৎসব। বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ইতিহাস সংরক্ষণে সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।

দুপুরের পর ফ্রান্স প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মিস্টার আলেক রোজারিও রচিত “ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্মৃতি” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান লেখকের নিজ বাড়িতে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানারে স্লোগান ছিল, “বই-ই আমার প্রভু, আমার সহচর জোসেফ হল” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজকরা বইপড়ার সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে গ্রন্থলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাওয়াল সাহিত্য পরিষদের সভাপতি লেখক-গবেষক শাহান শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, “ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্মৃতি কেবল স্মৃতিচারণ নয়, এটি সমাজ-সংস্কৃতি ও সময়ের দলিল। লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে বৃহত্তর বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক। তিনি একুশের চেতনার সাথে সাহিত্যচর্চার যোগসূত্র ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে আমাদের বই পড়তে হবে, লিখতে হবে এবং গবেষণায় মনোযোগী হতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সুবোধ চন্দ্র দাস। তিনি একজন আইনজীবী, লেখক ও গবেষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করে আসছেন। তিনি বলেন, “যে ইতিহাস হারিয়ে যেতে বসেছে, তাকে উদ্ধার করাই একজন লেখকের দায়িত্ব। বই মানুষের চেতনা জাগ্রত করে, সমাজকে আলোকিত করে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, সমাজসেবক ও প্রকাশক মোঃ আইয়ুব রানা; শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক লেখক-গবেষক মিশকাত রাসেল; ইকবাল সিদ্দিকী; কলেজ পরিচালক মিঠুন সিদ্দিকী; বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় চন্দ্র দাস; বীর মুক্তিযোদ্ধা নিম্নত আলী; সমাজসেবক আলবাটৃ গোমেজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে “ভাঙ্গা ভাঙ্গা স্মৃতি” গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি প্রত্যাশা করে দোয়া ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
মহান একুশের প্রেরণায় চরখোলা গ্রামে এমন সাহিত্য আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।




















