শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মুক্তি ও হামলার অভিযোগ তদন্তের দাবি; ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
টঙ্গীতে মাদরাসায় হামলার প্রতিবাদে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম
- আপডেট সময় : ১২:১৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারাবন্দি খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে প্রশাসনের প্রতি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় রাস্তা অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রাইভেট মাদরাসা ঐক্য পরিষদ, গাজীপুর; যুব জমিয়ত বাংলাদেশ, গাজীপুর মহানগর শাখা; ওলামা কল্যাণ পরিষদ, টঙ্গী; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদরাসা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, অভিভাবক এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মধ্য আউচপাড়ার সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি গণপিটুনির শিকার হন বলে জানা গেছে। পরে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মানববন্ধনে বক্তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্যে শাহজালাল রুমিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বক্তারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে তা প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের আগেই কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কিংবা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁরা আরও বলেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে। তাই কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না করে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,
১. মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের আইনের আওতায় আনা।
২. শিক্ষক-শিক্ষিকাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. কারাবন্দি শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের মুক্তির দাবিটি আইনসম্মতভাবে বিবেচনা করা এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচি
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে রাস্তা অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও জানান তাঁরা। বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি অভিযোগের বিচার চাওয়ার অধিকার যেমন সবার রয়েছে, তেমনি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলেও তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁরা দ্রুত তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর প্রাইভেট মাদরাসা ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল রশীদ আকন্দ, টঙ্গী পশ্চিম থানা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ার হোসেন, টঙ্গী ভরান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা কেরামত আলী, মুফতি আমিরুল ইসলাম, আব্দুল করীম নাটোরী, ক্বারি মো. আলমাছ হোসেন, সেলিম হোসাইন, মাওলানা যোবায়ের হোসেন, মাওলানা আরিফুর ইসলাম তাহেরী, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মুফতি রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মালেক জামালী, আলহাজ মো. আনোয়ার হোসাইন ও মুফতি আমিনুল ইসলাম গোপালপুরীসহ টঙ্গীর বিভিন্ন মাদরাসার প্রধান, শিক্ষক এবং অন্যান্য আলেম-ওলামা।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।



















