ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা এরশাদনগরে আলোচিত ছিনতাইয়ের অভিযোগে সোহান গ্রেপ্তার, টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভূমিকায় স্বস্তি

রাজপথের কর্মসূচি থেকে পাড়া-মহল্লার নাগরিক সমস্যা ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডের একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র

মানুষের পাশে থাকার এক দীর্ঘ পথচলা

md younus
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৬২৭ বার পড়া হয়েছে




“রাজপথের কর্মসূচি থেকে পাড়া-মহল্লার মানুষের পাশে, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডল।”

একটি জনপদের ইতিহাস কেবল বড় বড় রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে লেখা হয় না। কখনো সেই ইতিহাস তৈরি হয় সরু গলির মোড়ে বসে মানুষের কথা শোনার মধ্য দিয়ে, কখনো ড্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যার মাপজোক করার কাজে, আবার কখনো অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া কিংবা মৃত্যুসংবাদে ছুটে যাওয়ার মানবিকতায়। টঙ্গীর ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনায় এমনই কয়েকটি দিক সামনে এসেছে। তিনি গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, এই পরিচয়গুলো বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় উপস্থিতি, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গাজীপুর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিটিকে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই কর্মসূচিতে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নাজমুল হোসেন মন্ডলের অংশগ্রহণের কথা তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি অংশ সরাসরি সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে। তবে একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় শুধু রাজপথের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সামাজিক সম্পৃক্ততার চিত্রও মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাড়া-মহল্লায় মানুষের কথা শোনা, ছবিতে দেখা যায়, পাগাড় পাঠানপাড়ার একটি সরু সড়কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। সেখানে প্রবীণ ব্যক্তি থেকে তরুণ, বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। এমন সরাসরি মতবিনিময় স্থানীয় সমস্যাগুলো জানার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তা, ড্রেন, পরিচ্ছন্নতা, মশার উপদ্রব, নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা, পাড়া-মহল্লার দৈনন্দিন এসব বিষয় নিয়েই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার কথা তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাগাড় ঝিনু মার্কেট ফটুর বাড়ি রোডের রাস্তা ও ড্রেন পরিদর্শনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রত্যাশা শোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা উঠে এসেছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ, শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয়। নাজমুল হোসেন মন্ডলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়ির আশপাশ, ড্রেন, গাছের নিচে ও ঝোপঝাড়ে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ছবিতে তাঁকে একজন কর্মীর সঙ্গে স্প্রে কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায়। বাড়ির পাশের সবুজ ও আবর্জনাপূর্ণ স্থানে মশক নিধনের কাজ করার দৃশ্যটি তাঁর জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত মশক নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
স্কুল ও ঈদগাহ মাঠ নিয়েও উদ্যোগ, পাগাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহ মাঠ সংস্কার, স্থায়ীকরণ এবং অভিভাবকদের বসার জায়গা তৈরির লক্ষ্যে মাঠের মাপজোক করার কথা জানানো হয়েছে। একটি মাঠ শুধু ঈদের নামাজের স্থান নয়; স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন নাগরিক কার্যক্রমেরও জায়গা হতে পারে। তাই মাঠটিকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাখার প্রশ্নটি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও যুক্ত। সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়েছে। তবে কাজের বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পৃক্ততা, পাগাড় পাঠানপাড়ার মুক্তি বাইতুল নূর জামে মসজিদের ৪৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিলে তাঁর উপস্থিতির কথাও দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথাও তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসে, স্থানীয় সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা।
দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার দাবি, কোনো এলাকায় একজন সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় মানুষের বিপদের সময়ে। গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ নেওয়াজের মায়ের মৃত্যুসংবাদে নাজমুল হোসেন মন্ডল শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানানো হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থতা, মৃত্যু কিংবা পারিবারিক বিপদের সময়ে তিনি মানুষের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেন। এসব কর্মকাণ্ডের অনেকটাই আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্কের জায়গায়।
অপরাধমুক্ত সমাজের প্রত্যাশা, চুরি, ছিনতাই, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে নগর জীবনে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডের বর্ণনায়ও এসব বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির কথা এসেছে। তবে অপরাধ দমন ও আইন প্রয়োগের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার, সামাজিক উদ্যোগ তার সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
একজন মানুষের কর্মকাণ্ডে একটি ওয়ার্ডের প্রতিচ্ছবি, রাজনৈতিক কর্মসূচির মিছিল থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বৈঠক; রাস্তা-ড্রেন পরিদর্শন থেকে মশক নিধন; স্কুল ও ঈদগাহ মাঠের মাপজোক থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি; অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া থেকে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, নাজমুল হোসেন মন্ডলকে ঘিরে দেওয়া তথ্যগুলোতে কর্মকাণ্ডের এমন একটি বিস্তৃত পরিসর দেখা যায়। এসবের কোনোটি রাজনৈতিক সাংগঠনিক দায়িত্বের অংশ, কোনোটি সামাজিক সম্পৃক্ততা, আবার কোনোটি স্থানীয় নাগরিক সমস্যা নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের প্রত্যাশার জায়গাটিও তাই স্পষ্ট রাস্তা ভালো হোক, ড্রেন সচল হোক, মশার উপদ্রব কমুক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাঠগুলো ব্যবহারযোগ্য হোক, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকুক এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ তৈরি হোক। একটি ওয়ার্ডের উন্নয়নের ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কোনো এক ব্যক্তির একার ইতিহাস নয়; এটি স্থানীয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন, প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিহাস। নাজমুল হোসেন মন্ডলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সেই চলমান স্থানীয় ইতিহাসেরই একটি অধ্যায়, মানুষের কথা শোনা, সমস্যাকে সামনে আনা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজপথের কর্মসূচি থেকে পাড়া-মহল্লার নাগরিক সমস্যা ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডের একটি তথ্যভিত্তিক চিত্র

মানুষের পাশে থাকার এক দীর্ঘ পথচলা

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

“রাজপথের কর্মসূচি থেকে পাড়া-মহল্লার মানুষের পাশে, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডল।”

একটি জনপদের ইতিহাস কেবল বড় বড় রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে লেখা হয় না। কখনো সেই ইতিহাস তৈরি হয় সরু গলির মোড়ে বসে মানুষের কথা শোনার মধ্য দিয়ে, কখনো ড্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যার মাপজোক করার কাজে, আবার কখনো অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া কিংবা মৃত্যুসংবাদে ছুটে যাওয়ার মানবিকতায়। টঙ্গীর ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনায় এমনই কয়েকটি দিক সামনে এসেছে। তিনি গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, এই পরিচয়গুলো বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় উপস্থিতি, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গাজীপুর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিটিকে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই কর্মসূচিতে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নাজমুল হোসেন মন্ডলের অংশগ্রহণের কথা তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি অংশ সরাসরি সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে। তবে একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় শুধু রাজপথের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সামাজিক সম্পৃক্ততার চিত্রও মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পাড়া-মহল্লায় মানুষের কথা শোনা, ছবিতে দেখা যায়, পাগাড় পাঠানপাড়ার একটি সরু সড়কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করছেন নাজমুল হোসেন মন্ডল। সেখানে প্রবীণ ব্যক্তি থেকে তরুণ, বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। এমন সরাসরি মতবিনিময় স্থানীয় সমস্যাগুলো জানার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তা, ড্রেন, পরিচ্ছন্নতা, মশার উপদ্রব, নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা, পাড়া-মহল্লার দৈনন্দিন এসব বিষয় নিয়েই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার কথা তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাগাড় ঝিনু মার্কেট ফটুর বাড়ি রোডের রাস্তা ও ড্রেন পরিদর্শনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রত্যাশা শোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা উঠে এসেছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ, শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয়। নাজমুল হোসেন মন্ডলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়ির আশপাশ, ড্রেন, গাছের নিচে ও ঝোপঝাড়ে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ছবিতে তাঁকে একজন কর্মীর সঙ্গে স্প্রে কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায়। বাড়ির পাশের সবুজ ও আবর্জনাপূর্ণ স্থানে মশক নিধনের কাজ করার দৃশ্যটি তাঁর জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত মশক নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
স্কুল ও ঈদগাহ মাঠ নিয়েও উদ্যোগ, পাগাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহ মাঠ সংস্কার, স্থায়ীকরণ এবং অভিভাবকদের বসার জায়গা তৈরির লক্ষ্যে মাঠের মাপজোক করার কথা জানানো হয়েছে। একটি মাঠ শুধু ঈদের নামাজের স্থান নয়; স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন নাগরিক কার্যক্রমেরও জায়গা হতে পারে। তাই মাঠটিকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাখার প্রশ্নটি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও যুক্ত। সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশার কথাও জানানো হয়েছে। তবে কাজের বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পৃক্ততা, পাগাড় পাঠানপাড়ার মুক্তি বাইতুল নূর জামে মসজিদের ৪৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিলে তাঁর উপস্থিতির কথাও দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথাও তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসে, স্থানীয় সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা।
দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার দাবি, কোনো এলাকায় একজন সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় মানুষের বিপদের সময়ে। গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ নেওয়াজের মায়ের মৃত্যুসংবাদে নাজমুল হোসেন মন্ডল শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানানো হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থতা, মৃত্যু কিংবা পারিবারিক বিপদের সময়ে তিনি মানুষের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেন। এসব কর্মকাণ্ডের অনেকটাই আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্কের জায়গায়।
অপরাধমুক্ত সমাজের প্রত্যাশা, চুরি, ছিনতাই, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে নগর জীবনে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। নাজমুল হোসেন মন্ডলের কর্মকাণ্ডের বর্ণনায়ও এসব বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরির কথা এসেছে। তবে অপরাধ দমন ও আইন প্রয়োগের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার, সামাজিক উদ্যোগ তার সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
একজন মানুষের কর্মকাণ্ডে একটি ওয়ার্ডের প্রতিচ্ছবি, রাজনৈতিক কর্মসূচির মিছিল থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বৈঠক; রাস্তা-ড্রেন পরিদর্শন থেকে মশক নিধন; স্কুল ও ঈদগাহ মাঠের মাপজোক থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি; অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেওয়া থেকে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, নাজমুল হোসেন মন্ডলকে ঘিরে দেওয়া তথ্যগুলোতে কর্মকাণ্ডের এমন একটি বিস্তৃত পরিসর দেখা যায়। এসবের কোনোটি রাজনৈতিক সাংগঠনিক দায়িত্বের অংশ, কোনোটি সামাজিক সম্পৃক্ততা, আবার কোনোটি স্থানীয় নাগরিক সমস্যা নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের প্রত্যাশার জায়গাটিও তাই স্পষ্ট রাস্তা ভালো হোক, ড্রেন সচল হোক, মশার উপদ্রব কমুক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাঠগুলো ব্যবহারযোগ্য হোক, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকুক এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ তৈরি হোক। একটি ওয়ার্ডের উন্নয়নের ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কোনো এক ব্যক্তির একার ইতিহাস নয়; এটি স্থানীয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন, প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিহাস। নাজমুল হোসেন মন্ডলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সেই চলমান স্থানীয় ইতিহাসেরই একটি অধ্যায়, মানুষের কথা শোনা, সমস্যাকে সামনে আনা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা।