মহাসড়কে অস্ত্র দেখিয়ে ছিনতাই ও সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ; অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর
এরশাদনগরে আলোচিত ছিনতাইয়ের অভিযোগে সোহান গ্রেপ্তার, টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভূমিকায় স্বস্তি
- আপডেট সময় : ১২:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৯৩ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় আলোচিত ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত সোহানকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। মহাসড়কে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক সাইকেল আরোহী ব্লগারের কাছ থেকে ছিনতাই এবং এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সোহানের গ্রেপ্তারের খবরে এরশাদনগর এলাকার অনেক বাসিন্দা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ছিনতাই, হামলা, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে। তাঁরা এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ছিনতাই ও হামলার অভিযোগ ঘিরে আলোচনা, স্থানীয়দের অভিযোগ, এরশাদনগর ব্রিজ, গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে হোসেন মার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও সোহানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তাঁর ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সোহানের বিরুদ্ধে হামলা, মানুষকে হয়রানি এবং মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের করা মামলা বা অভিযোগ থাকলে সেগুলোরও যথাযথ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশের ভূমিকায় এলাকাবাসীর প্রশংসা, টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে। তাঁদের ভাষ্য, এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ে। স্থানীয়দের মতে, ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুলিশের উপস্থিতি এবং অপরাধ দমনে উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অভিযুক্ত সোহানের গ্রেপ্তারকে তাঁরা অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে অপরাধ দমনে পুলিশের সাফল্য ধরে রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ী মিজানের বক্তব্য, এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী মো. মিজান বলেন, “টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ অপরাধ দমনে যে ভূমিকা রাখছে, তা প্রশংসনীয়। এলাকায় ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করে থাকলে তাঁকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ আরও নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজ করতে পারবেন।
কামরুল ইসলাম কামুর কৃতজ্ঞতা, এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম কামু টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে থাকুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম স্যারের নেতৃত্বে অভিযুক্ত সোহানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমি তাঁকে এবং টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক, এ কামনায় আন্তরিক দোয়া রইল।” তিনি আরও বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

কঠোর ব্যবস্থা নয়, আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চান এলাকাবাসী, এলাকাবাসীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও সহিংসতার আতঙ্কে থাকা সাধারণ মানুষ এখন স্থায়ী নিরাপত্তা চান। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে, আর নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, বিচারবহির্ভূত শাস্তি নয়, আইনসম্মত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত, আদালতে বিচার এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ দণ্ডই হওয়া উচিত বলে মনে করেন সচেতন বাসিন্দারা। এলাকাবাসী আরও আশা করছেন, সোহানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে। ২১ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের কথা বলা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে; তবে এ আয়োজনের বিষয়টি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অপরাধমুক্ত এরশাদনগরের প্রত্যাশা, এরশাদনগর, গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড, এরশাদনগর ব্রিজ ও হোসেন মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় ছিনতাই, মাদক কারবার ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের মধ্যেই যেন কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, পুলিশের প্রতি আস্থা তখনই আরও দৃঢ় হবে, যখন অপরাধের শিকার মানুষ ন্যায়বিচার পাবেন, নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং অপরাধীরা রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা পারিবারিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে আইনের মুখোমুখি হবেন। টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের প্রতি এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অপরাধ দমনে এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং এরশাদনগরসহ আশপাশের এলাকাকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















