এরশাদ নগর ৮নং ব্লকের জনবহুল সড়কের নির্মাণমান নিয়ে আবেদন; প্রশাসকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে উন্নয়নকাজের তদারকির দাবি
রাস্তার ইট-পাথরের হিসাব নয়, মানুষের ভোগান্তির হিসাব চান পিয়ারা আক্তার প্রিয়া
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬৩৯ বার পড়া হয়েছে

প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া; পরে ৪৯নং ওয়ার্ডের এরশাদ নগর ৮নং ব্লকের রাস্তা, ড্রেন ও স্ল্যাব নির্মাণকাজের মান যাচাইয়ের আবেদন তুলে দেন।-সংবাদ আলোচনা।
একটি রাস্তা শুধু ইট, বালু, সিমেন্ট আর পিচের সমষ্টি নয়, একটি রাস্তা একটি এলাকার মানুষের চলাচল, নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নাগরিক সুবিধার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ভাবনা থেকেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ডের এরশাদ নগরের চলমান রাস্তা, ড্রেন ও স্ল্যাব নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে নজর দিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানা মহিলা দলের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদিকা পিয়ারা আক্তার প্রিয়া। সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের সঙ্গে এলাকার রাস্তা ও চলমান উন্নয়নকাজ নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরশাদ নগরের ৮নং ব্লকের মসজিদের সামনের জনবহুল সড়কের চলমান কাজের বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন প্রশাসকের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ওই আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর এরশাদ নগরে রাস্তা, ড্রেন ও স্ল্যাব নির্মাণ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত। তবে ৮নং ব্লকের মসজিদ রোডের চলমান নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও নির্মাণপদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আবেদনটিতে কোনো ব্যক্তি বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ না তুলে অনুমোদিত নকশা, প্রাক্কলন ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মালেক মিয়ার খাবার হোটেল থেকে আক্তার মিয়ার দোকান পর্যন্ত প্রায় ৫৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের রাস্তা, ড্রেন ও স্ল্যাব নির্মাণের কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের চলাচলের পথ হওয়ায় নির্মাণকাজে সামান্য ত্রুটিও ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাগরিক দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
পিয়ারা আক্তার প্রিয়ার আবেদনের মূল সুরটি ছিল, কাজ বন্ধ করা নয়, কাজটি আরও ভালোভাবে করা; কাউকে দোষী করা নয়, কাজের মান যাচাই করা। তিনি প্রশাসনের কাছে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন, অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলনের সঙ্গে বাস্তব কাজ মিলিয়ে দেখা, নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কোথাও নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত গুণগত মান পরীক্ষা ও তদারকির দাবিও জানানো হয়েছে।
নগর উন্নয়নের বড় বড় প্রকল্পের আড়ালে অনেক সময় মানুষের প্রতিদিনের ছোট ছোট সমস্যাগুলো হারিয়ে যায়। কিন্তু একটি ভাঙা সড়ক, একটি দুর্বল ড্রেন কিংবা অপর্যাপ্ত স্ল্যাবই কোনো কোনো পরিবারের প্রতিদিনের চলাচলে বড় ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই এরশাদ নগরের এই আবেদনকে শুধু একটি রাস্তার বিষয় হিসেবে নয়, সরকারি অর্থে নির্মিত নাগরিক অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার চলমান উন্নয়নকাজ ও নাগরিক সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সরকারি তথ্যেও বর্তমানে তাঁকে প্রশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ৮নং ব্লকের এই জনবহুল সড়কটির কাজ প্রয়োজনীয় কারিগরি যাচাই ও তদারকির মধ্য দিয়ে এমনভাবে সম্পন্ন হোক, যাতে আজকের নির্মাণ আগামী দিনের দুর্ভোগের কারণ না হয়ে দীর্ঘদিনের স্বস্তি ও নিরাপদ চলাচলের পথ হয়ে ওঠে।



















