এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে থানায়
টঙ্গীতে সমাজবিরোধীদের হামলায় গুরুতর আহত মোস্তফা মিয়া: বিচার দাবিতে কাঁদছেন মেয়ে শিল্পী আক্তার
- আপডেট সময় : ০৬:২২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫
- / ২২১৪ বার পড়া হয়েছে


এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু, সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের ধরে আইনে হাতে সোপার্দ করতে হবে, এসক কথা বলেন। -সংবাদ আলোচনা
গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগরে সমাজবিরোধী ও মাদকসেবী একদল সন্ত্রাসীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোহাম্মদ মোস্তফা মিয়া (৬২)। ফরজ নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার উপর পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার মেয়ে মোসাম্মৎ শিল্পী আক্তার। বর্তমানে তিনি শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে ১৫ জুন ভোর ৫টার দিকে এরশাদনগরের বড়বাজার বাইতুল জামে মসজিদের সামনে। নামাজ শেষে চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্তরা হলেন—রোবো (৩৫), রহিম (৩২), শাকিল (২৫), রাজু (২৫), হৃদয় ও রানা সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী। এরা সকলেই মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র যেমন চাপাতি, সুইচ গিয়ার, হাতুড়ি ও এসএস পাইপ দিয়ে মোস্তফা মিয়ার মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত করে। এতে তার মাথায় তিনটি সেলাই পড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৫ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের আংটি এবং একটি ওয়ান প্লাস স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
উদ্ধারে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী লুৎফর মিয়াকেও রেহাই দেয়নি হামলাকারীরা। তাকেও পিটিয়ে জখম করে এবং তার ভিভো মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আশপাশের পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং জানান, “এরশাদনগরে কোনো মাদকসেবী, ছিনতাইকারী বা সমাজবিরোধীদের ঠাঁই হবে না। যারা অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সঙ্গে আমরা থাকবো।”
মোস্তফা মিয়ার মেয়ে শিল্পী আক্তার জানান, “আমার বাবাকে যেভাবে নির্মমভাবে মারা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি—এই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর বিচার নিশ্চিত করুন।”
এদিকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো অভিযুক্তদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানা গেছে।
শিল্পী আক্তারের আকুতি: “আমার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের পরিবারের কেউ এখন নিরাপদ নই। আমি পুলিশের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করছি।”
বিশেষ অনুরোধ: প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে—মাদকসেবন, ছিনতাই, হাইজ্যাকিং ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

















