তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য প্রশাসন; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় প্রয়োজন কঠোর নজরদারি
টঙ্গীতে দুই বছর ধরে অনুমোদনহীন ‘আলিফ জেনারেল হাসপাতাল’ পরিচালনার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ২০৮৪ বার পড়া হয়েছে

টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকায় অবস্থিত ‘আলিফ জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এর বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে আগের প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মন্তব্যের ভিত্তিতে এই ফলো-আপ তদন্ত প্রতিবেদন।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে উঠে আসা চিত্র : একটি ভাড়া করা ভবনের ফ্লোরে হাসপাতালটির কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। ভর্তি রোগী, অপারেশন প্রস্তুতি, স্টাফদের চলাফেরা, সব মিলিয়ে পূর্ণমাত্রার একটি হাসপাতালের মতো পরিবেশ দেখা যায়।
তবে হাসপাতালটির বৈধতা সংক্রান্ত কোনো নথি ভবনের ভেতর বা বাইরে প্রদর্শিত নেই এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসন: বিষয়টি তদন্তাধীন : জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, “হাসপাতালটির বিষয়ে পূর্বে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য মেলেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রশাসনের এই বক্তব্য নিশ্চিত করেছে যে বিষয়টি এখন সরকারি পর্যায়ে পর্যালোচনার মধ্যে আছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থান : হাসপাতালের চেয়ারম্যান শিউলি আক্তার মিলা দাবি করেছেন, “ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। অন্যান্য অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করার চেষ্টা করছি।” তবে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রম কীভাবে চলছে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের উদ্বেগ: রোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অনেক রোগী বুঝতে না পেরেই প্রতিষ্ঠানে সেবা নেন। আবার কমিশনভিত্তিক দালালচক্র সক্রিয় থাকার কথাও তারা জানান। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রশাসনিকভাবে প্রমাণিত হয়নি, সেগুলো তদন্ত রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে।
একজন বাসিন্দা বলেন, “এখানে রোগী আনার জন্য কিছু লোক ঘোরাফেরা করে। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে, এটা ভালো উদ্যোগ।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: অনুমোদন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনবিহীন স্থাপনায় অস্ত্রোপচার বা উচ্চঝুঁকির চিকিৎসা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
তাদের মতে, যন্ত্রপাতির মান, স্বাস্থ্যবিধি, জরুরি সেবা প্রস্তুতি, চিকিৎসকদের যোগ্যতা, এসবের কোনোটি যাচাই করা সম্ভব নয় অনুমোদন ছাড়া। এ কারণে তারা বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের ওপর আরও কঠোর নজরদারির সুপারিশ করেছেন।
আইনি বিশ্লেষণ: অভিযোগ প্রমাণ হলে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণ হলে প্রশাসন নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে, অনুমোদনহীনভাবে হাসপাতাল পরিচালনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা। ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা চিকিৎসকের পেশাগত তদন্ত। রোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে দণ্ডবিধির আওতায় ব্যবস্থা। তবে তারা একইসঙ্গে বলেন, প্রশাসনিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না।
স্থানীয়দের দাবির সারাংশ (অভিযোগ সত্য হলে), জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় কঠোর নজরদারি। অনুমোদনহীন সেবা বন্ধ। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর তালিকা ও যাচাই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত মনিটরিং টিম। দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
চূড়ান্ত বিশ্লেষণ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের তদারকি ব্যবস্থার প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। প্রশাসনের চলমান তদন্তই এখন নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলি কতটা সত্য এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















