স্ত্রীও আলাদা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, চাল-শাড়ি ও আর্থিক অনুদান বিতরণ; সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার আশ্বাস
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা
- আপডেট সময় : ০৯:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৮৮ বার পড়া হয়েছে

ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এই সম্প্রীতির বার্তা সামনে রেখে শারদীয় দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে গাজীপুর-২ আসনের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চাল, শাড়ি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নিরাপদ উৎসব উদযাপনের বার্তা পৌঁছে দেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি তাঁর সহধর্মিণীও গাজীপুর-২ আসনের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপ পৃথকভাবে পরিদর্শন করেন। গাছাসহ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে তাঁরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও উৎসবের আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শারদীয় শুভেচ্ছাবার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়।
পরিদর্শনকালে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও দেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও মর্যাদা সমান। মুসলমান-হিন্দু কিংবা অন্য কোনো ধর্মের মানুষ, সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশের ভিত্তি। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপগুলোতে চাল, শাড়ি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এক লাখ ৩০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়েছে। তিনি এসব উদ্যোগকে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় থাকবে বিএনপি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্ভয়ে ও আনন্দঘন পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে পূজামণ্ডপগুলোর পাশে থাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে পূজা উদযাপন করবেন। আপনাদের নিরাপত্তা ও যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। আমরা সবাই এ দেশের মানুষ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।” পরিদর্শনকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, আকবর হোসেন ফারুক, মো. মনিরুল ইসলাম বাবুল সিপাই, মো. কামাল উদ্দিন, বিভিন্ন পর্যায়ের মহিলা নেত্রী, ছাত্রনেতা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, গাজীপুর-২ আসনের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার বার্তা দেন। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এসব শুভেচ্ছা বিনিময় কার্যক্রমে উঠে আসে একটি প্রত্যাশা, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার; সম্প্রীতি ও মানবিকতাই হোক আগামীর বাংলাদেশের শক্তি।



















