ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
“একজনকে হারিয়েছে টঙ্গী, আরেকজনের জীবন থমকে আছে কারাগারে” বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের জন্য আলহাজ্ব মোঃ মনোয়ার হোসেন খোকনের লড়াই ঐক্যের শক্তিতে তারুণ্যের অগ্রযাত্রা শেখ মোঃ সুমনের ভাবনায় যুবসমাজ ও মানবিক রাজনীতি কারামুক্তি দিবসে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে বেনজির রহমান খান পিন্টুর সংগ্রামী শুভেচ্ছা আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচ হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে খেলাধুলায় এগিয়ে নিতে মোল্লাবাড়ীতে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ত্যাগীদের মূল্যায়ন কোথায় ? দলীয় নেতৃত্বের কাছে বেনজীর রহমান খাঁন পিন্টুর প্রশ্ন এক ভাইয়ের বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল এরশাদ নগরে দ্বীন ইসলাম দিলুর মেজবান যেন মানুষের মিলনমেলা দোয়া, অশ্রু, ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দিন দেশের যেকোনও সংকটে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: তারেক রহমান এরশাদ নগরে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন

এরশাদনগরে সারারাতব্যাপী আধ্যাত্মিক মাহফিলে আল্লাহর স্মরণে ভক্তরা মগ্ন

খাজা বাবার দরবারে রাত জাগে: গান, ভক্তি ও ভালোবাসার মিলন

md younus
  • আপডেট সময় : ১২:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৯১ বার পড়া হয়েছে




১৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি., ২৮ রজব, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। টঙ্গীর এরশাদনগর ৪৯নং ওয়ার্ডের ৪নং ব্লকের চার্চ অব বাংলাদেশ /জাগরণী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সামনে অনুষ্ঠিত হয় খাজা বাবা মঈনুদ্দিন চিশতিয়ার ওরস উপলক্ষে আধ্যাত্মিক মাহফিল। সারারাত গান, জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ভক্তরা আল্লাহর দিকে মনোযোগী হন এবং মানবতার শিক্ষা লাভ করেন।
শীতের গভীর রাত। এরশাদনগরের সেই খোলা প্রাঙ্গণ যেন জীবন পেয়েছে। ভক্তরা ভিড় করেছেন আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হয়ে। এখানে কেউ অতিথি নয়, সবাই এসেছে আত্মার তৃষ্ণা নিয়ে, খুঁজতে খুঁজতে খাজা বাবার আদর্শ ও আল্লাহর পথে জীবন গড়ার উপায়। রাত শুরু হয় আধ্যাত্মিক ও ভক্তিমূলক গান দিয়ে। দয়াল বাবার নামের গান, খাজা বাবার স্মরণে সুর, শুধু কানে নয়, হৃদয়ে পৌঁছে। ভক্তরা মগ্ন হয়ে জিকির করেন, ভালো কাজের সংকল্প নেন।
এই দরবারের নীরব খাদেম মো. হারুন, তিনি বহুকাল ধরে প্রতিবছর এই সময় নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “আমি এগুলো করি মানুষকে ভালোবেসে, আল্লাহকে ভালোবেসে। মনে মনে আল্লাহর জিকির করি, আবার সেই জিকির মানুষকে পৌঁছে দিই, যাতে সবাই আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়।” রাতের অন্ধকারে তিনি খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করেন, ভক্তদের বসার ব্যবস্থা করেন এবং সারারাত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
সহযোগিতা করেন হামি, করিম, লিটন, হানিফ, শুক্কুর পাগল, শাহ আলম ঢালী এবং খাজা। ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসা ও প্রীতির মিলন ঘটায়।


এই মাহফিলের প্রধান অতিথি মো. কামরুল ইসলাম কামু, ৪৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তিনি বলেন, “খাজা বাবা মঈনুদ্দিন চিশতিয়া (রহ.) আজান দিতেন কেবল কানে শোনানোর জন্য নয়, অন্তর জাগানোর জন্য। ইসলাম মানে শুধু নামাজ নয়, মানুষের পাশে থাকা, ভালো কাজ করা।”
কামু কোরআন তেলাওয়াত করেন, হাদিসের ব্যাখ্যা দেন এবং সবাইকে আহ্বান জানান ভালো কাজের দিকে। তার সুরেলা কণ্ঠে আজান ও কোরআনের তেলাওয়াত শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা মুগ্ধ হয় এবং আল্লাহর দিকে মনোযোগী হয়।
সারারাতের ভক্তি ও শিক্ষার বার্তা, রাতের গভীরতায় গান ও জিকির চলে। খিচুড়ির হাঁড়ি চুলায় বসে, ভক্তরা একে অপরকে খাওয়ায়। খানকাহর এই পরিবেশে খাদ্য কেবল উদরপূর্তি নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার শিক্ষা।
সবাই শিখে, সহজভাবে ভালোবাসা, সেবা ও আল্লাহর পথে থাকা কেমন হয়। এই দরবার শেখায়, খাদেমি জীবনই মর্যাদা। গান, জিকির, সেবা, সবই ইবাদত। ভালোবাসা ছাড়া সুফিবাদ অসম্পূর্ণ। মো. হারুন নীরবে খাদেমি জীবন দিয়ে বার্তা পৌঁছে দেন।
মো. কামরুল ইসলাম কামু দৃশ্যমান দাওয়াত ও নেতৃত্বের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় আলোকিত করেন। ভোরের আজান বাতাসে ভেসে আসে। ভক্তরা বাড়ি ফেরলেও তাদের মনে থাকে শান্তি, ভালোবাসা এবং আল্লাহর পথে চলার সংকল্প।

দর্শক বৃন্দরা।-সংবাদ আলোচনা।

খানকাহর দরবার কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি জীবনের এক আধ্যাত্মিক পাঠ, যেখানে সুর, সেবা, ভক্তি এবং মানবতার মিলন ঘটে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এরশাদনগরে সারারাতব্যাপী আধ্যাত্মিক মাহফিলে আল্লাহর স্মরণে ভক্তরা মগ্ন

খাজা বাবার দরবারে রাত জাগে: গান, ভক্তি ও ভালোবাসার মিলন

আপডেট সময় : ১২:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

১৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি., ২৮ রজব, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। টঙ্গীর এরশাদনগর ৪৯নং ওয়ার্ডের ৪নং ব্লকের চার্চ অব বাংলাদেশ /জাগরণী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সামনে অনুষ্ঠিত হয় খাজা বাবা মঈনুদ্দিন চিশতিয়ার ওরস উপলক্ষে আধ্যাত্মিক মাহফিল। সারারাত গান, জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ভক্তরা আল্লাহর দিকে মনোযোগী হন এবং মানবতার শিক্ষা লাভ করেন।
শীতের গভীর রাত। এরশাদনগরের সেই খোলা প্রাঙ্গণ যেন জীবন পেয়েছে। ভক্তরা ভিড় করেছেন আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হয়ে। এখানে কেউ অতিথি নয়, সবাই এসেছে আত্মার তৃষ্ণা নিয়ে, খুঁজতে খুঁজতে খাজা বাবার আদর্শ ও আল্লাহর পথে জীবন গড়ার উপায়। রাত শুরু হয় আধ্যাত্মিক ও ভক্তিমূলক গান দিয়ে। দয়াল বাবার নামের গান, খাজা বাবার স্মরণে সুর, শুধু কানে নয়, হৃদয়ে পৌঁছে। ভক্তরা মগ্ন হয়ে জিকির করেন, ভালো কাজের সংকল্প নেন।
এই দরবারের নীরব খাদেম মো. হারুন, তিনি বহুকাল ধরে প্রতিবছর এই সময় নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “আমি এগুলো করি মানুষকে ভালোবেসে, আল্লাহকে ভালোবেসে। মনে মনে আল্লাহর জিকির করি, আবার সেই জিকির মানুষকে পৌঁছে দিই, যাতে সবাই আল্লাহর দিকে ধাবিত হয়।” রাতের অন্ধকারে তিনি খিচুড়ি রান্না ও পরিবেশন করেন, ভক্তদের বসার ব্যবস্থা করেন এবং সারারাত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
সহযোগিতা করেন হামি, করিম, লিটন, হানিফ, শুক্কুর পাগল, শাহ আলম ঢালী এবং খাজা। ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসা ও প্রীতির মিলন ঘটায়।


এই মাহফিলের প্রধান অতিথি মো. কামরুল ইসলাম কামু, ৪৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তিনি বলেন, “খাজা বাবা মঈনুদ্দিন চিশতিয়া (রহ.) আজান দিতেন কেবল কানে শোনানোর জন্য নয়, অন্তর জাগানোর জন্য। ইসলাম মানে শুধু নামাজ নয়, মানুষের পাশে থাকা, ভালো কাজ করা।”
কামু কোরআন তেলাওয়াত করেন, হাদিসের ব্যাখ্যা দেন এবং সবাইকে আহ্বান জানান ভালো কাজের দিকে। তার সুরেলা কণ্ঠে আজান ও কোরআনের তেলাওয়াত শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা মুগ্ধ হয় এবং আল্লাহর দিকে মনোযোগী হয়।
সারারাতের ভক্তি ও শিক্ষার বার্তা, রাতের গভীরতায় গান ও জিকির চলে। খিচুড়ির হাঁড়ি চুলায় বসে, ভক্তরা একে অপরকে খাওয়ায়। খানকাহর এই পরিবেশে খাদ্য কেবল উদরপূর্তি নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার শিক্ষা।
সবাই শিখে, সহজভাবে ভালোবাসা, সেবা ও আল্লাহর পথে থাকা কেমন হয়। এই দরবার শেখায়, খাদেমি জীবনই মর্যাদা। গান, জিকির, সেবা, সবই ইবাদত। ভালোবাসা ছাড়া সুফিবাদ অসম্পূর্ণ। মো. হারুন নীরবে খাদেমি জীবন দিয়ে বার্তা পৌঁছে দেন।
মো. কামরুল ইসলাম কামু দৃশ্যমান দাওয়াত ও নেতৃত্বের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় আলোকিত করেন। ভোরের আজান বাতাসে ভেসে আসে। ভক্তরা বাড়ি ফেরলেও তাদের মনে থাকে শান্তি, ভালোবাসা এবং আল্লাহর পথে চলার সংকল্প।

দর্শক বৃন্দরা।-সংবাদ আলোচনা।

খানকাহর দরবার কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি জীবনের এক আধ্যাত্মিক পাঠ, যেখানে সুর, সেবা, ভক্তি এবং মানবতার মিলন ঘটে।