রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে কঠিন প্রশ্ন
একজন শহীদের রক্তে জেগে উঠেছে জনতা
- আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
- / ২১২৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিটফোর্ডে পাথর নিক্ষেপ করে একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমগ্র দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মো. সোহাগ নামের এই ভাঙারি ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা—সবখান থেকেই শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। “ন্যাশনাল ক্যাম্পাস পিপলস (NCP)” নামের একটি নতুন ছাত্র সংগঠন এই প্রতিবাদের একটি সংগঠিত রূপ দিয়েছে। তারা বলছে—”আমরা নিরাপত্তা চাই, বিচার চাই। রক্তের বিনিময়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।”
ছাত্রদের জাগরণ: নিছক রাজনীতি নয়, ন্যায়ের প্রশ্নে জোর প্রতিবাদ, তামিরুল মিল্লাতসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা বলছে—এটি নিছক কোনো দলীয় আন্দোলন নয়। এটি ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি সামাজিক প্রতিবাদ। তাদের বক্তব্য:
“একজন শহীদের রক্তে দেশ জেগে উঠেছে।” “এই দেশে কেউ নিরাপদ নয়—সাধারণ ব্যবসায়ী, মসজিদের মুসল্লি, পথচারী—কারো জীবনের মূল্য নেই।” “পথে বেরিয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে—এ দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।”
কেউ দায় নিচ্ছে না, সবাই দোষারোপে ব্যস্ত, পুলিশ বলছে—“এটি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব”। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে—“রাষ্ট্র যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না”। কিছু ধর্মভিত্তিক সংগঠন বলছে—“এটি সংগঠিত সহিংসতা, যার দায় অপরাধীদের রাজনৈতিক ছায়া।” কিন্তু সাধারণ মানুষ দেখছে—খুন হচ্ছে প্রকাশ্যে, ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে, তবুও অপরাধীরা দিনের পর দিন আইনের বাইরে। যদি পরিচয় স্পষ্ট হয়, তবুও আইন প্রয়োগে বিলম্ব কেন?
সমাজে আস্থাহীনতা বাড়ছে: একটি অশনিসংকেত, এই ঘটনার পাশাপাশি মসজিদের ভেতর মারধর, হাইজ্যাকার আতঙ্কে পথচারীর মৃত্যু, কিংবা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সহিংসতার অভিযোগ—সব মিলিয়ে জনমনে একটি প্রশ্ন দৃঢ় হচ্ছে:
রাষ্ট্র কি তার নাগরিকের জানমাল রক্ষা করতে পারছে?
যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে, যদি অপরাধীর পরিচয় বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, তাহলে ভবিষ্যতে এই বিচারের জায়গায় “প্রতিশোধ” আর “হিংসা” স্থান করে নিতে পারে।
ভবিষ্যতের জন্য বার্তা: মানবিক রাষ্ট্র চাই, প্রতিশোধ নয়, আজকের এই ছাত্র-আন্দোলন, সামাজিক প্রতিক্রিয়া, ফেসবুকের প্রতিবাদ—এসব কিছুর মূল কথা একটাই: জনগণ বিচার চায়, নিরাপত্তা চায়, শান্তি চায়। এটি কোনো সরকারের বিপক্ষে নয়, এটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রচর্চার পক্ষে জনতার একটি দাবি।
যদি রাষ্ট্র, প্রশাসন, রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা একযোগে কার্যকর না হয়, তাহলে এই ক্ষোভ অচিরেই গণ-আন্দোলন হয়ে উঠতে পারে।
একজন শহীদের রক্তে যদি রাষ্ট্র জাগে—তা হবে আশার কথা। আর যদি সেই রক্ত অনাদরে, অবহেলায় পায়ের নিচে পিষে যায়—তাহলে তা হবে ভবিষ্যতের জন্য অন্ধকার সংকেত। আমরা আশাবাদী, রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে, অপরাধী যেই হোক—তার বিচার হবে। এমন একটি বাংলাদেশই আমরা চাই, যেখানে একজন সাধারণ মানুষের জীবনও অমূল্য।





















