ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টঙ্গীতে মাদরাসায় হামলার প্রতিবাদে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধন, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম সড়কে মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার মিছিল দীর্ঘ করছে মোটরসাইকেল বাতিল হতে যাচ্ছে শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন টঙ্গীর রাজপথে যুবদলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নাজমুল হোসেন মন্ডল গাজীপুর মহানগর-সদরের পর টঙ্গীতেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি; তারুণ্যের ঐক্য, সাংগঠনিক তৎপরতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের চিত্র যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে টঙ্গীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, মিছিল ও সমাবেশ যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

‘শাসক হতে চাই না, সেবক হতে চাই, প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই’

মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এক পরিচিত মুখ জনসম্পৃক্ততা, মানবিকতা ও নাগরিক সেবায় এগিয়ে চলেছেন মো. ফরহাদ হোসেন

md younus
  • আপডেট সময় : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৭৩৩ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা নাগরিক সমস্যা, সামাজিক সংকট ও মানুষের সুখ-দুঃখের অসংখ্য গল্প। আর এসব বাস্তবতার মধ্যেই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে স্থানীয়দের মধ্যে নিজের একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন মোঃ ফরহাদ হোসেন। তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা, অসহায়দের সহযোগিতা করা, নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করা এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়াকেই তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন। তার কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। এলাকার কোনো সমস্যা কেবল শুনে থেমে না থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী তার সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি। ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কার, স্লাব নির্মাণ ও সংস্কার, রাস্তার আলো, বৈদ্যুতিক তার, মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষের নিরাপদ চলাচলের মতো নাগরিক বিষয়গুলোতে তাকে মাঠে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়।
মানুষের সমস্যা শুনে সমাধানের চেষ্টা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলিতে নাগরিক সমস্যার বিষয়ে ফরহাদ হোসেনকে সরব থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙা স্লাব, রাস্তার আলো ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান, মশার উপদ্রব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পূর্ব গোপালপুরের ভূতের গলি এলাকায় প্রায় সব বাড়ির সংলগ্ন ড্রেন ও স্লাবের কাজেও তিনি অংশ নেন। তবে শুধু একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলির নাগরিক সমস্যার বিষয়েও তিনি কাজ করতে চান বলে জানান। এলাকাটি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে পূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ এসব এলাকায় চলাচল করেন। তাদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন ফরহাদ হোসেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে সহযোগিতার হাত। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তার সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পবিত্র **দুই ঈদ, পবিত্র রমজান মাস, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)**সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দান-সদকা ও সহযোগিতা করে থাকেন বলে জানা গেছে। রমজানে অসচ্ছল মানুষের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ঈদের সময় দরিদ্র পরিবারের জন্য পোশাক, মাংসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন তিনি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখতে চান না। তার দৃষ্টিতে, এসব পবিত্র ও সামাজিক উপলক্ষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও একটি সুযোগ। ফরহাদ হোসেনের ভাষায়, “সামর্থ্য অনুযায়ী একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাও বড় মানবিক কাজ।” এলাকার কোনো পরিবার বিপদে পড়লে, কোনো অসহায় মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে কিংবা সামাজিক কোনো আয়োজনে সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন ফরহাদ হোসেন। কারও খাবারের প্রয়োজন, কারও পোশাকের প্রয়োজন, আবার কারও পারিবারিক বা সামাজিক সংকটে সহযোগিতা প্রয়োজন এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস, নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বরং মানুষের কষ্ট বোঝা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, “সমাজে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মানুষের কল্যাণে কাজ করা। মানুষের কষ্ট যদি বুঝতে না পারি, তাহলে নেতৃত্বের কোনো অর্থ নেই।”
মানুষের শেষ বিদায়েও পাশে থাকেন। মানুষের সুখের সময়ের পাশাপাশি দুঃখের সময়েও পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার কোনো ব্যক্তি মারা গেলে জানাজা থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেন ফরহাদ হোসেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করাও তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তার মতে, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় শুধু তার কর্মজীবন বা সামাজিক অবস্থানে নয়; বরং মানুষের বিপদের সময় সে কতটা পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ভোটারদের সচেতন করতেও উদ্যোগ। সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার নিয়েও সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন ফরহাদ হোসেন। সম্প্রতি ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণ-তরুণী ও ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেন তিনি। নতুন ভোটারদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনলাইনে আবেদন, নির্বাচন অফিসে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি যোগ্য নাগরিকদের সময়মতো ভোটার হওয়ার বিষয়ে সচেতন করেন। তার উদ্দেশ্য, শুধু অসচেতনতা বা তথ্যের অভাবে কোনো যোগ্য নাগরিক যেন ভোটার নিবন্ধন থেকে পিছিয়ে না থাকেন।
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার ভাবনা। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণদের নিয়েও রয়েছে তার আলাদা পরিকল্পনা। তার মতে, তরুণরাই একটি এলাকার ভবিষ্যৎ। তাই তাদের মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি মনে করেন, এলাকার উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, ড্রেন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণ নয়। মানুষের নৈতিকতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। “তরুণদের হাতে যদি ভালো কাজ তুলে দেওয়া যায়, তাহলে তারাই সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে” এমনটাই মনে করেন তিনি।
‘ভালো মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় পরিচয়’ নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন বলেন, “তুমি নিজে ভালো মানুষ হও, দেখবে মানুষ তোমাকে সম্মান করবে। একজন ভালো মানুষের সম্মান তার মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। রাজনীতি করেও ভালো মানুষ হওয়া যায়, যদি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সততা ও দায়িত্ববোধ থাকে।” তিনি আরও বলেন, একটি গ্রামের সন্তান যখন নেতৃত্বের পথে হাঁটতে চায়, সেটি পুরো এলাকার জন্যই গর্বের বিষয়। তাই সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের জন্য মানুষকে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের রাজনীতির প্রত্যয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ফরহাদ হোসেনের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ন্যায় ও সমতার পরিবেশ এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। তার ভাষায়, “মানুষের সেবা আমার অঙ্গীকার। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের রাজনীতি গড়ে তুলতে চাই। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডমুক্ত একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।” তার আরেকটি বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত, “আমি শাসক হতে চাই না, সেবক হতে চাই। প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নাগরিক যেকোনো প্রয়োজনে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”
পরিবার ও ব্যক্তিজীবন: মোঃ ফরহাদ হোসেনের বাবা মৃত মো. মতিউর রহমান এবং মা মৃত মোছা. ছেতেরা বেগম। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার স্ত্রী সুমা হোসেন গৃহিণী। পারিবারিক জীবনে তিনি স্বামীকে সহযোগিতা করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফারিহা হোসেন অষ্টম শ্রেণিতে এবং ছেলে হাবিব হোসেন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
মানুষের আস্থাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন, রাজনীতির মাঠে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কাজের বাস্তব প্রমাণ। ফরহাদ হোসেনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের অনেকে তার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পৃক্ততাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার পথচলার মূল কথা, মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের সুখ-দুঃখ, ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন, নাগরিক সমস্যা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সবকিছুকে সামনে রেখে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তার কাছে নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়; মানুষের কাছে থাকা। তার কাছে রাজনীতি মানে শুধু সংগঠন নয়; মানুষের সেবা। আর তার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় পদ-পদবি নয়; একজন ভালো মানুষ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া। এই লক্ষ্য নিয়েই ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থেকে সামনে এগিয়ে যেতে চান মো. ফরহাদ হোসেন। “প্রতিশ্রুতি নয়—কাজই হোক পরিচয়। শাসক নয়—সেবক হয়ে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘শাসক হতে চাই না, সেবক হতে চাই, প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই’

মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এক পরিচিত মুখ জনসম্পৃক্ততা, মানবিকতা ও নাগরিক সেবায় এগিয়ে চলেছেন মো. ফরহাদ হোসেন

আপডেট সময় : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা নাগরিক সমস্যা, সামাজিক সংকট ও মানুষের সুখ-দুঃখের অসংখ্য গল্প। আর এসব বাস্তবতার মধ্যেই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে স্থানীয়দের মধ্যে নিজের একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন মোঃ ফরহাদ হোসেন। তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা, অসহায়দের সহযোগিতা করা, নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করা এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়াকেই তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন। তার কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। এলাকার কোনো সমস্যা কেবল শুনে থেমে না থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী তার সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি। ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কার, স্লাব নির্মাণ ও সংস্কার, রাস্তার আলো, বৈদ্যুতিক তার, মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং মানুষের নিরাপদ চলাচলের মতো নাগরিক বিষয়গুলোতে তাকে মাঠে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়।
মানুষের সমস্যা শুনে সমাধানের চেষ্টা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলিতে নাগরিক সমস্যার বিষয়ে ফরহাদ হোসেনকে সরব থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙা স্লাব, রাস্তার আলো ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান, মশার উপদ্রব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। পূর্ব গোপালপুরের ভূতের গলি এলাকায় প্রায় সব বাড়ির সংলগ্ন ড্রেন ও স্লাবের কাজেও তিনি অংশ নেন। তবে শুধু একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলির নাগরিক সমস্যার বিষয়েও তিনি কাজ করতে চান বলে জানান। এলাকাটি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে পূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ এসব এলাকায় চলাচল করেন। তাদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন ফরহাদ হোসেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে সহযোগিতার হাত। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তার সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পবিত্র **দুই ঈদ, পবিত্র রমজান মাস, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)**সহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দান-সদকা ও সহযোগিতা করে থাকেন বলে জানা গেছে। রমজানে অসচ্ছল মানুষের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ঈদের সময় দরিদ্র পরিবারের জন্য পোশাক, মাংসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন তিনি। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে তিনি শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখতে চান না। তার দৃষ্টিতে, এসব পবিত্র ও সামাজিক উপলক্ষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও একটি সুযোগ। ফরহাদ হোসেনের ভাষায়, “সামর্থ্য অনুযায়ী একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাও বড় মানবিক কাজ।” এলাকার কোনো পরিবার বিপদে পড়লে, কোনো অসহায় মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে কিংবা সামাজিক কোনো আয়োজনে সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেন ফরহাদ হোসেন। কারও খাবারের প্রয়োজন, কারও পোশাকের প্রয়োজন, আবার কারও পারিবারিক বা সামাজিক সংকটে সহযোগিতা প্রয়োজন এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তার বিশ্বাস, নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বরং মানুষের কষ্ট বোঝা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, “সমাজে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মানুষের কল্যাণে কাজ করা। মানুষের কষ্ট যদি বুঝতে না পারি, তাহলে নেতৃত্বের কোনো অর্থ নেই।”
মানুষের শেষ বিদায়েও পাশে থাকেন। মানুষের সুখের সময়ের পাশাপাশি দুঃখের সময়েও পাশে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার কোনো ব্যক্তি মারা গেলে জানাজা থেকে শুরু করে দাফন পর্যন্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেন ফরহাদ হোসেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করাও তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তার মতে, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় শুধু তার কর্মজীবন বা সামাজিক অবস্থানে নয়; বরং মানুষের বিপদের সময় সে কতটা পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ভোটারদের সচেতন করতেও উদ্যোগ। সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার নিয়েও সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন ফরহাদ হোসেন। সম্প্রতি ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণ-তরুণী ও ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দেন তিনি। নতুন ভোটারদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনলাইনে আবেদন, নির্বাচন অফিসে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি যোগ্য নাগরিকদের সময়মতো ভোটার হওয়ার বিষয়ে সচেতন করেন। তার উদ্দেশ্য, শুধু অসচেতনতা বা তথ্যের অভাবে কোনো যোগ্য নাগরিক যেন ভোটার নিবন্ধন থেকে পিছিয়ে না থাকেন।
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার ভাবনা। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণদের নিয়েও রয়েছে তার আলাদা পরিকল্পনা। তার মতে, তরুণরাই একটি এলাকার ভবিষ্যৎ। তাই তাদের মাদক, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি মনে করেন, এলাকার উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, ড্রেন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণ নয়। মানুষের নৈতিকতা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। “তরুণদের হাতে যদি ভালো কাজ তুলে দেওয়া যায়, তাহলে তারাই সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে” এমনটাই মনে করেন তিনি।
‘ভালো মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় পরিচয়’ নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন বলেন, “তুমি নিজে ভালো মানুষ হও, দেখবে মানুষ তোমাকে সম্মান করবে। একজন ভালো মানুষের সম্মান তার মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। রাজনীতি করেও ভালো মানুষ হওয়া যায়, যদি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সততা ও দায়িত্ববোধ থাকে।” তিনি আরও বলেন, একটি গ্রামের সন্তান যখন নেতৃত্বের পথে হাঁটতে চায়, সেটি পুরো এলাকার জন্যই গর্বের বিষয়। তাই সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের জন্য মানুষকে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের রাজনীতির প্রত্যয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ফরহাদ হোসেনের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ন্যায় ও সমতার পরিবেশ এবং নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। তার ভাষায়, “মানুষের সেবা আমার অঙ্গীকার। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের রাজনীতি গড়ে তুলতে চাই। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডমুক্ত একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।” তার আরেকটি বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত, “আমি শাসক হতে চাই না, সেবক হতে চাই। প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নাগরিক যেকোনো প্রয়োজনে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”
পরিবার ও ব্যক্তিজীবন: মোঃ ফরহাদ হোসেনের বাবা মৃত মো. মতিউর রহমান এবং মা মৃত মোছা. ছেতেরা বেগম। নয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার স্ত্রী সুমা হোসেন গৃহিণী। পারিবারিক জীবনে তিনি স্বামীকে সহযোগিতা করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফারিহা হোসেন অষ্টম শ্রেণিতে এবং ছেলে হাবিব হোসেন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
মানুষের আস্থাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন, রাজনীতির মাঠে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কাজের বাস্তব প্রমাণ। ফরহাদ হোসেনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের অনেকে তার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পৃক্ততাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তার পথচলার মূল কথা, মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের সুখ-দুঃখ, ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন, নাগরিক সমস্যা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সবকিছুকে সামনে রেখে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তার কাছে নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়; মানুষের কাছে থাকা। তার কাছে রাজনীতি মানে শুধু সংগঠন নয়; মানুষের সেবা। আর তার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় পদ-পদবি নয়; একজন ভালো মানুষ হিসেবে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া। এই লক্ষ্য নিয়েই ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থেকে সামনে এগিয়ে যেতে চান মো. ফরহাদ হোসেন। “প্রতিশ্রুতি নয়—কাজই হোক পরিচয়। শাসক নয়—সেবক হয়ে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”