খাইলকুর বাদশাহ্ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় ও হায়দ্রাবাদ কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদ-শিক্ষকদের সম্মান, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও জাতীয় রাজনীতিতে শিক্ষকদের ভূমিকা তুলে ধরেন
শিক্ষক সমাজের হৃদয়ে প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদ: শিক্ষার মর্যাদা ও জাতীয় পুনর্গঠনে অঙ্গীকার
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / ২১৩৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর সদর উপজেলার কে.বি বাজার সংলগ্ন খাইলকুর বাদশাহ্ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় ও হায়দ্রাবাদ কওমি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় এক অনুপ্রেরণামূলক শিক্ষক সমাবেশ। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে, বর্তমানে এর প্রধান শিক্ষক প্রদীপ দেবনাথ, বিএস, বিসিএস এবং সিনিয়র শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান, যিনি ইতিহাসের শিক্ষক ও গবেষক। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদ, যিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার উন্নয়ন ও জাতীয় পুনর্গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সিনিয়র শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান ইতিহাসের আলোকে বলেন, “বিএনপি গঠিত হয়েছিল দেশের সংকটময় মুহূর্তে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রের হাল ধরেছিলেন প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান। বিএনপি এসেছে দেশের হাল ধরতে, দেশ ও জাতির কল্যাণে ভালো দিকনির্দেশনা দিতে।”
সভায় বক্তারা শিক্ষকদের সীমিত বেতনের বিষয়টি গভীরভাবে তুলে ধরেন। তারা বলেন, “আমরা শিক্ষক, আমাদের আয় সীমিত। সংসার চালানো কঠিন। এমন সংসদ সদস্য দরকার, যিনি সংসদে গিয়ে শিক্ষকদের কথা বলবেন, তাদের সম্মান ও বেতন কাঠামো উন্নত করবেন।”
প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি শিক্ষক, আমি শিক্ষকের দুঃখ বুঝি। শিক্ষকদের সম্মান ও বেতন মান উন্নয়নে কাজ করব। আমি রাজনীতি করছি দেশের সেবা করার জন্য, লোভ-লালসা বা বিলাসিতা আমার লক্ষ্য নয়। আমার পরিবার শিক্ষিত ও সচ্ছল- আমি জনগণের কাছ থেকে টাকা চাই না, চাই দোয়া ও ভালোবাসা।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যা উপার্জন করি, তা থেকে সমাজের মানুষের জন্য ব্যয় করি। আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করছি এবং করব।”
বক্তৃতায় বক্তারা সাবেক মেয়র হাসান উদ্দিন সরকার-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “গাজীপুরের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে হাসান উদ্দিন সরকারের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি প্রকৃত শিক্ষাবান্ধব নেতা।”

হায়দ্রাবাদ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের অংশগ্রহণ, উপস্থিত ছিলেন-মাওলানা জালাল উদ্দিন (প্রিন্সিপাল), হাফিজ উদ্দিন (ভাইস প্রিন্সিপাল), মাওলানা আব্দুর রহমান (আইসিটি শিক্ষক), মাওলানা শরিফ আহমেদ (আরবি প্রভাষক), মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ আরিফুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বাকি প্রমুখ শিক্ষকবৃন্দ। তারা সকলেই প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তারা বলেন, “ধানের শীষ কেবল একটি প্রতীক নয়, এটি গণতন্ত্রের আশা। যারা নেশামুক্ত, নৈতিক ও সৎ, তাদের দিয়েই দেশ চালানো সম্ভব।” প্রভাষক বশির উদ্দিন আহমেদ শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা শিক্ষক, আমরা জানি কিভাবে মানুষ গঠন করতে হয়। যদি সুযোগ পাই, সংসদে গিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করব, শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় আইন প্রণয়ন করব।”
এই মতবিনিময় সভা ছিল শিক্ষকদের আবেগ, দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে এক প্রাণবন্ত আলোচনার মঞ্চ। বক্তাদের কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যাশা, “শিক্ষকই জাতির নির্মাতা, তাই শিক্ষককে রাষ্ট্রের নেতৃত্বে দেখতে চাই।











