ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফল বিক্রির সামান্য আয়, আর তাতেই চলে সংসার, দলের কাজেও রাখেন নিজের অংশ

যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে তবুও দলের পাশে মোছাম্মদ বুলবুলি

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৮০ বার পড়া হয়েছে




রাজনীতির মঞ্চে অনেকেই সময়ের সঙ্গে পরিচিতি, পদ-পদবি কিংবা নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা দীর্ঘ পথ পেরিয়েও রয়ে গেছেন নীরবে। মোছাম্মদ বুলবুলি তেমনই একজন কর্মী, যৌবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবনের একটি বড় সময় পার করে আজ বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন; তবুও দলের কর্মসূচির ডাক এলে তাঁকে থেমে থাকতে দেখা যায় না।
টঙ্গীর এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৩নং ব্লকের বাসিন্দা বুলবুলির জীবনের বাস্তবতা খুব সাধারণ। ছোট পরিসরে ফল ও কাঁচামালের ব্যবসা করেই সংসার চালান। অনেক সময় বিক্রির জন্য থাকা ফলের একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়, আয়ও থাকে সীমিত। তারপরও সেই সামান্য উপার্জন থেকে তিনি দলের কর্মসূচিতে যাতায়াত করেন, অন্য কর্মীদের সহযোগিতা করেন এবং প্রয়োজন হলে মহিলা কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আপ্যায়ন ও সেবার ব্যবস্থাও করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগতভাবে কী পেয়েছেন, এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো তাঁর কাছেই সবচেয়ে বেশি কঠিন। কারণ বয়স বাড়লেও তাঁর জীবনে বড় কোনো প্রাপ্তির গল্প নেই। বরং আছে অভাব, সংগ্রাম, পরিবারের কষ্ট এবং দলের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ার অভ্যাস। তবুও তাঁর মুখে আক্ষেপের চেয়ে দলের প্রতি ভালোবাসার কথাই বেশি শোনা যায়।
সম্প্রতি ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিও সেই ধারাবাহিকতারই একটি উদাহরণ। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আয়োজনে তাঁর অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের।
মোছাম্মদ বুলবুলির গল্প তাই শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর গল্প নয়; এটি এমন একজন সাধারণ নারীর জীবনকথা, যিনি নিজের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে গেছেন। প্রশ্নটি এখন তাঁর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব নিয়ে, দীর্ঘদিনের এমন কর্মীদের জীবন ও অবদানের মূল্যায়ন সংগঠনের ইতিহাসে কীভাবে স্থান পাবে ?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফল বিক্রির সামান্য আয়, আর তাতেই চলে সংসার, দলের কাজেও রাখেন নিজের অংশ

যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে তবুও দলের পাশে মোছাম্মদ বুলবুলি

আপডেট সময় : ১০:৪৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতির মঞ্চে অনেকেই সময়ের সঙ্গে পরিচিতি, পদ-পদবি কিংবা নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা দীর্ঘ পথ পেরিয়েও রয়ে গেছেন নীরবে। মোছাম্মদ বুলবুলি তেমনই একজন কর্মী, যৌবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে জীবনের একটি বড় সময় পার করে আজ বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন; তবুও দলের কর্মসূচির ডাক এলে তাঁকে থেমে থাকতে দেখা যায় না।
টঙ্গীর এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৩নং ব্লকের বাসিন্দা বুলবুলির জীবনের বাস্তবতা খুব সাধারণ। ছোট পরিসরে ফল ও কাঁচামালের ব্যবসা করেই সংসার চালান। অনেক সময় বিক্রির জন্য থাকা ফলের একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়, আয়ও থাকে সীমিত। তারপরও সেই সামান্য উপার্জন থেকে তিনি দলের কর্মসূচিতে যাতায়াত করেন, অন্য কর্মীদের সহযোগিতা করেন এবং প্রয়োজন হলে মহিলা কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আপ্যায়ন ও সেবার ব্যবস্থাও করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগতভাবে কী পেয়েছেন, এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো তাঁর কাছেই সবচেয়ে বেশি কঠিন। কারণ বয়স বাড়লেও তাঁর জীবনে বড় কোনো প্রাপ্তির গল্প নেই। বরং আছে অভাব, সংগ্রাম, পরিবারের কষ্ট এবং দলের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ার অভ্যাস। তবুও তাঁর মুখে আক্ষেপের চেয়ে দলের প্রতি ভালোবাসার কথাই বেশি শোনা যায়।
সম্প্রতি ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিও সেই ধারাবাহিকতারই একটি উদাহরণ। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আয়োজনে তাঁর অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের।
মোছাম্মদ বুলবুলির গল্প তাই শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর গল্প নয়; এটি এমন একজন সাধারণ নারীর জীবনকথা, যিনি নিজের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে গেছেন। প্রশ্নটি এখন তাঁর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব নিয়ে, দীর্ঘদিনের এমন কর্মীদের জীবন ও অবদানের মূল্যায়ন সংগঠনের ইতিহাসে কীভাবে স্থান পাবে ?